Monday, December 4, 2023
Homeজাতীয়ই-টিকেটিংয়ের ১ বছর ঢাকার গণপরিবহনে মেশিন আছে ব্যবহার নেই

ই-টিকেটিংয়ের ১ বছর ঢাকার গণপরিবহনে মেশিন আছে ব্যবহার নেই

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

যিনি জোয়াল কাঁধে নিয়েছেন তিনিই বুঝবেন হালকা না ভারী: সাঈদ খোকন

প্রতিদিনের ডেস্ক জাতীয় পার্টি লাঙলের প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশিদকে ইঙ্গিত করে সাঈদ খোকন বলেন, আমরা...

ঢাকার তিন আসনে মনোনয়ন বাতিল হলো ১৫ প্রার্থীর

প্রতিদিনের ডেস্ক আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে মনোনয়ন বাছাই প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে...

শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী, লেনদেনে ভালো গতি

প্রতিদিনের ডেস্ক সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার লেনদেনের শুরুতে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের...

শেখ মণির হাতেই রোপিত হয়েছে যুব রাজনীতির বীজ

মানিক লাল ঘোষ ক্ষণজন্মা এক কীর্তিমান পুরুষ শেখ ফজলুল হক মণি। মেধা আর মননে আপাদমস্তক...

প্রতিদিনের ডেস্ক॥রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে যাত্রীদের ভোগান্তি যেন নৈমিত্তিক ঘটনা, যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বাড়তি ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠছে নিয়মিত। ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কন্ডাক্টরদের কথা-কাটাকাটি, ঝগড়া যেন ঢাকার বাসে স্বাভাবিক ঘটনা। যাত্রীদের এসব ভোগান্তি নিরসনে সময় সময় কিছু উদ্যোগ নিলেও সুফল মিলছে না।
যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ, যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি ও হয়রানি বন্ধে ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালু করে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। কিন্তু সেই ঘোষণার এক বছরেও পুরোপুরি চালু হয়নি ই-টিকেটিং ব্যবস্থা। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি পরিবহনে এ ব্যবস্থা চালু হলেও অধিকাংশই এর তোয়াক্কা করছে না।
গণপরিবহনে ই-টিকেটিং পদ্ধতি চালু না হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি রয়েই গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, অধিকাংশ বাসেই নেই ই-টিকেটিং ব্যবস্থা। আবার কোনো কোনো বাসে থাকলেও অনেক বাসে প্রয়োগ নেই। টিকিট ছাড়াই ভাড়া কাটেন কন্ডাক্টররা, সেই সঙ্গে আদায় করেন বাড়তি ভাড়া। আবার অনেক ক্ষেত্রে মেশিনেও বেশি ভাড়া রাখা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কন্ডাক্টররা বলছেন, মেশিনেই ভাড়া কাটছেন তারা, ফলে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সড়কে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে গত বছরের ১৩ নভেম্বর মিরপুরকেন্দ্রিক ৩০টি কোম্পানির ১ হাজার ৬৪৩টি বাসে ই-টিকেটিং পদ্ধতি চালুর কথা জানায় মালিক সমিতি। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ১১টি কোম্পানির ৭১৭টি বাসে এবং তৃতীয় ধাপে আরও ১৩টি কোম্পানির ৯৪৭টি বাসে ই-টিকেট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরিবহন মালিক সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ৬০টি বাস কোম্পানি ও শহরতলি এলাকায় ৩৭টি বাস কোম্পানি মিলিয়ে মোট ৯৭টি বাস কোম্পানি রয়েছে। ঢাকা ও শহরতলি মিলিয়ে বাস আছে ৫ হাজার ৬৫০টি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার অভ্যন্তরে চলাচল করে ৩ হাজার ৩১৪টি বাস। বাকিগুলো চলে ঢাকাসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলায়।
গত কয়েকদিন ঢাকার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসে ঘুরে দেখা যায়, ভিআইপি, দেওয়ান, বিকাশ, তরঙ্গ প্লাস, বলাকা, আজমেরী গ্লোরিসহ কয়েকটি পরিবহনের বাসে চালু আছে ই-টিকেটিং ব্যবস্থা। তবে অনেক সময় এসব বাসেও টিকিট ছাড়াই ভাড়া আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, সুযোগ পেলেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন কন্ডাক্টাররা। এ নিয়ে কন্ডাক্টরদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের কথা-কাটাকাটি নিত্যদিনের ঘটনা।
রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আশরাফুল আলম বলেন, ‘অফিসের কাজে আমাকে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে হয়। প্রায় সময় ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা রেখে দেয়। কারণ জানতে চাইলেই কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। শুধু আমার সঙ্গেই নয়, বাসের অনেক যাত্রীর সঙ্গেই এমন হয়। সুযোগ পেলেই ৫-১০ টাকা বেশি রাখেন কন্ডাক্টাররা।’
দেওয়ান পরিবহনের একটি বাসের কন্ডাক্টর লিমন বলেন, ‘আমাদের বাস আজিমপুর থেকে কুড়িল পর্যন্ত যায়৷ দিনে চারবার সিঙ্গেল ট্রিপ দিতে পারি। মালিকের কাছ থেকে গাড়িভাড়া নিয়ে চালাই। মালিককে ২ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়। তেল খরচ, রোড খরচ, স্টাফদের খাওয়া বাদ দিয়ে যা থাকে তাই আমাদের। আমরা মেশিনে (ই-টিকেট) ভাড়া কাটি, বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই।’
আজিমপুর থেকে গাজিপুর রুটে চলাচলকারী ভিআই.পি পরিবহনের বাসচালক লিটন বিশ্বাস বলেন, ‘গাড়িতে ১০-১২ হাজার খরচ আছে। এরপর আমাগো লাভ। এহন বেশি লাভ করতে পারি না। মেশিনে ভাড়া কাটি না কাইটা উপায় নাই। কুড়িল বিশ্বরোডে চেকার আছে।’
রাজধানীর স্টাফ কোয়ার্টার থেকে উত্তরা-আবদুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী আসমানী পরিবহন, মিরপুর-হেমায়েতপুর রুটে চলাচলকারী রাজধানী ও অছিম পরিবহন, মোহাম্মদপুর ও মিরপুর রুটে চলাচলকারী আলিফ পরিবহন এবং মেরাদিয়া বাগানবাড়ি থেকে মিরপুর রুটে চলাচলকারী রবরব পরিবহনেও একই চিত্র দেখা গেছে। এসব পরিবহনের গাড়িতে ই-টিকেটিং মেশিন থাকলেও তার যথাযথ ব্যবহার নেই। স্বল্প দূরত্বে তো টিকিট দেওয়া হয়-ই না, বেশি দূরত্বেও যাত্রীরা না চাইলে কন্ডাক্টররা টিবিট দিতে চান না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ রুটেই চালু নেই ই-টিকেটিং ব্যবস্থা। কোনো কোনো পরিবহনের স্টাফ সেটি স্বীকারও করেছেন। তবে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা।
নারায়ণগঞ্জ-বাইপাইল রুটে চলাচলকারী ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসের কন্ডাক্টর মিজান বলেন, ‘এ রুটে শুধু আমরা না, কেউই মেশিনে ভাড়া কাটে না। মেশিন বুঝি না, হাতেই ভাড়া কাটি। কারও থেকে এক টাকাও বেশি নেই না। বরং যাত্রীরাই ভাড়া কম দেন।’
বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী কয়েকটি বাসের চালক ও সহকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়মিত তদারকি না থাকায় অনেকেই মেশিনে ভাড়া নেন না। আবার অনেক সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মেশিন ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এছাড়া কাগজের রোল শেষ হলেও ডিভাইসের মাধ্যমে ভাড়া তোলা সম্ভব হয় না।’
এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘এখন হরতাল-অবরোধ চলছে, পেট্রোলবোমা মেরে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় কীভাবে রাস্তায় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রেখে মানুষের যোগাযোগ সহজ রাখা যায় সেসব নিয়েই ব্যস্ত আছি। এখন ই-টিকেটিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছি না। হরতাল-অবরোধ শেষ হলে এ বিষয় নিয়ে ভাববো।’
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যাত্রীদের অধিকার নিয়ে বারবার বলে যাচ্ছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না ৷ এক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা প্রয়োজন। সাধারণ যাত্রীদের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যাত্রীদের স্বার্থের কথা কেউই চিন্তা করে না। আমরা যারা সাধারণ নাগরিক তথা যাত্রীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছি, আমাদের তীব্র সমালোচনার মুখে তারা এখান থেকে (হাতে ভাড়া কাটা) ফিরে আসতে চেয়েছিল, এটাই আমরা মনে করেছিলাম এবং আমরা ই-টিকেটিংকে সাধুবাদও জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেই উদ্যোগ আর বেশি এগোয়নি, ফলে হয়রানিও কমেনি। আমরা বরাবরই বলেছি, পরিবহন খাতে আপাদমস্তক সংস্কার ছাড়া কিছু কিছু ব্যবস্থা নিয়ে সাময়িক সমাধান হবে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একদিকে পরিবহনের বেতন কাঠামো নেই, আবার এটি শিল্পখাত ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়নি। আবার চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি তুঙ্গে। এখনো দেখছি চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চলছে। এসব অনিয়ম গুছিয়ে রেখে ন্যায্য ভাড়া তোলার জন্য একটি মেশিন যদি তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে অন্যায্য খরচগুলো তারা সামাল দেবে কীভাবে? এজন্য আমরা বরাবরই দাবি করেছি, এই খাতে আপাদমস্তক সংস্কার এবং জনদুর্ভোগ উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।’

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

ঢাকার তিন আসনে মনোনয়ন বাতিল হলো ১৫ প্রার্থীর

প্রতিদিনের ডেস্ক আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে মনোনয়ন বাছাই প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে...

গৌরবদীপ্ত বিজয়ের মাস

জিনিয়া রাজিন বিজয়র মাস ডিসেম্বর। লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত। ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়া পর...

সারাদেশে ইউএনও বদলির প্রক্রিয়া শুরু

প্রতিদিনের ডেস্ক নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলি প্রক্রিয়া শুরু করেছে...