রুহুল আমিন, দেবহাটা :
দেবহাটার কুলিয়া-শ্রীরামপুর ব্রিজটি পরিণত হয়েছে মরনফাঁদে। দুই উপজেলার সীমান্তে লাবণ্যবতী খাল পারাপারের একমাত্র অবলম্বন কাঠের তৈরি এই ব্রিজটি। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটির কোন উন্নয়ন ও সংস্কার না হওয়া এটির অবস্থা এখন একেবারেই বেহাল। ফলে ব্রিজটি দিয়ে চলাচলকারী স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষদের অসীম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে ব্রিজটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, খুবই দ্রত ব্রিজটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।
দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ও সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের সীমানা দিয়ে বয়ে চলেছে লাবণ্যবতী খালটি। এই খালের ওপর নির্মিত কাঠের ব্রিজটি দুই উপজেলার হাজারো মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলেও এটির উন্নয়নে কারোরই মাথাব্যাথা নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ হাজার সালের পূর্বে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। একসময়ে লোহার তৈরি ব্রিজটি বাঁশ ও কাঠের সাঁকোয় পরিণত হয়েছে। দু’পাড়ের মানুষের নিত্য প্রয়োজনে ও কর্মক্ষেত্রে ছুটে চলার জন্য ব্রিজটি খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। অল্প সময়ের মধ্যে দ’ুপাড়ের হাজারো মানুষ তাদের দৈনন্দিন কর্ম সারতে বিজ্রটি দিয়ে খাল পারাপার করতে পারেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্রিজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় কুলিয়া, শ্রীরামপুর চৌবাড়িয়া, বৈচনা, কুলাটি, হাড়দ্দাহ, কোমরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অসুস্থ ব্যক্তি এবং গর্ভবর্তী মায়েদের ৪-৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত রাস্তা পাড়ি দিয়ে যেতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি এর আগে ইউনাইটেড মডেল কলেজের অধ্যক্ষের তত্ত্বাবধানে ইতোপূর্বে বহুবার সংস্কার কাজ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জেলা ও দুই উপজেলা প্রশাসন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি পরিদর্শন করা হয়েছে। কিন্তু এটির সংস্কার বা উন্নয়ন কোনটিই হয়নি।
জানা যায়, একপাশে দেবহাটা উপজেলা ও অন্য পাশে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ব্রিজটি সংস্কারের প্রধান অন্তরায়। কুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক মোড়ল বলেন, কয়েক বছর ধরে এই ব্রিজটি ভেঙেচুরে পড়ে আছে। ফলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রীরামপুর বাজারে সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পারাপার হয়।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, তিনি নিজে এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছেন। অবিলম্বে একটি প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বব্রিজটির সংস্কার করা হবে।