সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস পেলে দেশে ফিরতে রাজি সেই আরাভ

0
11

বার্তাকক্ষ ,,পুলিশ পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয় দাবি করে দুবাইয়ের স্বর্ণ ব্যবসায়ী আরাভ খান জানিয়েছেন, সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস পেলে দেশে ফিরতে রাজি আছি।বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডের আসামিকে কখনও কি কোনও পুলিশ সদস্য বিদেশে যেতে সহায়তা করতে পারে—প্রশ্ন রেখে আরাভ বলেন, কোনও পুলিশ সদস্য দেশ থেকে বাইরে আসার সময় আমাকে সহায়তা করেনি। আমি একজন ব্যবসায়ী। আমার সাথে সবার সম্পর্ক থাকবে।
তিনি বলেন, আমি জীবনে কাউকে একটি চড় মারিনি। আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে সেটি মিথ্যা নয়। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের সাথে আমি জড়িত নই—আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। মামলায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। যে অফিসে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে সেই অফিসের মালিক আমি ছিলাম বলেই আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আমি এটা মোকাবিলা করতে রাজি আছি—এমন নয় আমি লুকিয়ে যাবো, পালিয়ে যাবো। কিন্তু এটা সত্যি, সবাই বাঁচার আশা করে। আমাকে দুদিন আগেও কেউ চিনতো না।
গণমাধ্যমের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি বলেন, বলা হয়েছে—বুর্জ খলিফায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যদি ফ্ল্যাট থেকে থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের। এজন্য যে তাদের একজন ভাইয়ের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে বুর্জ খলিফায়।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, সংবাদটি প্রকাশের আগে আমার সাথে গণমাধ্যমের কয়েকজন কথা বলেছেন। সংবাদটি ধামাচাপার জন্য পাঁচ কোটি টাকা দাবি করেন তারা। তবে কোনও প্রতিষ্ঠান বা কারা এ দাবি করেছে—এ বিষয়ে লাইভে তিনি কিছু বলেননি।
মানুষের বিপদ তো সারা জীবন থাকে না, অবশ্যই একদিন না একদিন কেটে যাবে
স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকেই আমাকে উপরে উঠতে দিচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি ডিসকাউন্টে গ্রাহকদের কাছে স্বর্ণ পৌঁছে দেবো—এমন ঘোষণা দিয়েছিলাম আর সেই ঘোষণাই আমার কাছে কাল হয়েছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ আমার বিপরীতে রয়েছে।
আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমি অপরাধী কিনা সেটা যাচাই করবে আদালত। মামলা চলমান রয়েছে, রায়ের জন্য অপেক্ষা করুন। আমি যদি অপরাধী হই, বিচারে যদি দোষী হই—সেই সাজা মাথা পেতে নেবো।
বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি মসজিদ করার পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বাবা দিনমজুর ছিলেন। আমার বাড়ি গোপালগঞ্জে। ঢাকায় এসে বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টে কাজ করেছি। ছোট থেকে বড় হয়েছি, হুট করে দুবাই আসিনি। না জেনে কেউ কোনও কথা বলবেন না।
এদিকে, দুবাইয়ের আলোচিত গোল্ড ব্যবসায়ী আরাভ খানকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিএমপি)। এই আরাভ খানই মূলত ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) পুলিশ ইন্সপেক্টর মামুন ইমরান খান হত্যা মামলার পলাতক আসামি। ২০১৮ সালের ৮ জুলাই বনানীর একটি বাসায় গিয়ে খুন হন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। পরদিন তার মৃতদেহ বস্তায় ভরে গাজীপুরের উলুখোলার একটি জঙ্গলে নিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা খুনের এই পলাতক আসামি আবার আলোচনায় আসেন দুবাইয়ে তার সোনার দোকানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সেলিব্রিটিদের দাওয়াত দিয়ে। যাদের মধ্যে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও হিরো আলম রয়েছেন।
ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, পুলিশ কর্মকর্তা মামুন ইমরান খান হত্যা মামলার এই পলাতক আসামির নাম রবিউল ইসলাম ওরফে আপন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জে। কোনও সময় তার নাম সোহাগ, কোনও সময় শেখ হৃদয়। তাকে আমরা খুঁজছিলাম। ইতোমধ্যে মামলাটি তদন্ত করে তাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিটও দিয়েছে ডিবি। সে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।
হারুন অর রশিদ বলেন, ঘটনাটি ঘটিয়ে আরাভ পাসপোর্ট ছাড়া ভারতে চলে যায়। তাকে আমরা খুঁজে পাইনি। পরে আমরা দেখলাম রবিউল ইসলাম আপন নামের একজন কোর্টে আত্মসমর্পণ করেছে। তারপর তাকে জেলখানায় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটা একটা ফেক ঘটনা ছিল। ভুয়া নামে ওই লোকটি আত্মসমর্পণ করেছে। আসল আপনের সঙ্গে তার একটা যোগসূত্র বা কমিটমেন্ট হয়েছিল। জানা যায়, টাকার বিনিময়ে প্রকৃত আসামি রবিউলের পরিবর্তে জেলে যান চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আবু ইউসুফ লিমন। যখনই তিনি জেলে গেলেন, আসল আপন তাকে আর টাকা দিচ্ছিল না। তখন তিনি কোর্টে সত্য কথা বলে দেন যে আমি আপন না। আপন হচ্ছে উনি, যিনি ভারতে আছেন। আমি ভুল করেছি।
তখন কোর্ট আবার ডিবিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। তখন আমরা তদন্ত করে দেখলাম যে আসলে ওই আপন আসল আপন না। ওই আপন অবৈধভাবে ভারতে চলে গেছেন। আজকে (বুধবার) জানলাম দুবাইয়ে সবচেয়ে বড় যে সোনার দোকান, সেই দোকানের উদ্বোধন করতে যাচ্ছে। সেটার লোগোতেই খরচ করেছেন ৪১ কোটি টাকা। যে আমাদের পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে সেই খুনির দোকান উদ্বোধন করতে বাংলাদেশ থেকে হিরো আলম ও সাকিবসহ অনেকে গিয়েছেন। এটা দুঃখজনক। আমরা এর খোঁজ-খবর নিচ্ছি।
আমরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে ওই খুনিকে গ্রেফতারের অনুরোধ করবো। তাকে যেন আমাদের হাতে তুলে দেয়।