Thursday, October 6, 2022
হোম আজকের পত্রিকাবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়ে গেছেন লাল সবুজের পবিত্র ভূমি : আশরাফুল...

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়ে গেছেন লাল সবুজের পবিত্র ভূমি : আশরাফুল আলম লিটন

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে

কিছু উন্নয়ন প্রকল্প ধীর গতির কারণে জনভোগান্তি চরমে উঠেছে। এছাড়া অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি তো চলছে।...

কেশবপুরে কৃষকলীগের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন

সোহেল পারভেজ, কেশবপুর কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন পূজা ম-প পরিদর্শন করেছেন কৃষকলীগে নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার সংগঠনের উপজেলা,...

দেবহাটায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদ্যাপন

দেবহাটা প্রতিনিধি : ‘সময়ের অঙ্গীকার কন্যা শিশুর অধিকার’ প্রতিপ্রাদ্য নিয়ে দেবহাটায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদ্যাপন...

শার্শায় ভুল মানুষের দ্বারা রাজনীতি পরিচালিত হওয়ায় প্রকৃত নেতাকর্মীরা অত্যাচার জুলুম নির্যাতনের শিকার : আশরাফুল আলম লিটন

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল...

বেনাপোল প্রতিনিধি

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেছেন, পরাধীন ভূমির আরাধনার সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি ত্যাগ তিতিক্ষা-লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূমির স্বাধীনতা ও পবিত্রতা রক্ষা করেছেন। জেল জুলুম ও অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেও এদেশের মানুষকে ভালবেসে গেছেন। আমাদের দিয়ে গেছেন লাল সবুজের একটি স্বাধীন সার্বোভৌম পবিত্র ভূমি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এমন একটি সংগঠন, যার নেতৃত্বে এদেশে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, এদেশের উন্নয়ন হয়। এই সংগঠনের নেতৃত্বে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান বিধবা ও পঙ্গুদের ভাতা প্রদান, গর্ভবতী মায়েদের ভাতা ও স্বাস্থ’্য সেবা নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার শার্শা অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩-তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে সাবেক বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন এসব কথা বলেন ।

শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে এদিন বিকেল ৫ টায় শার্শা অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ইলিয়াছ আযম।

প্রধান অতিথি আশরাফুল আলম লিটন বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু দেশের পুরোনো ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলই নয়; গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শের মূলধারাও। প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আমাদের সমাজ-রাজনীতির এই ধারাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।
তিনি এই দলটিকে দেশের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ভাষা, স্বাধীকার, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা অর্জনের মহোত্তম গৌরবে অভিষিক্ত আওয়ামী লীগ কয়েক দশকের অভিযাত্রায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও দিন বদলের লক্ষ্যে অবিচল, বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারী। আওয়ামী লীগ ‘পাকিস্তান’ নামের অবৈজ্ঞানিক এবং ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিকভাবে এক উদ্ভট রাষ্ট্রের পূর্ব বাংলার বাঙালি জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে অবজ্ঞায়, অবহেলায় ও ঔপনিবেশিক কায়দায় শোষণ-পীড়ন-দমন ও দাবিয়ে রাখার বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং গণসংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বিপুল জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দল।
৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুবের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬৪’র দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন ও ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২৪ বছরেরর আপসহীন সংগ্রাম লড়াই এবং ১৯৭১ সালের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ তথা সশস্ত্র জনযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্যেদিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের ফসল স্বাধীন সার্বোভৌম বাংলাদেশ।
তিনি আরো বলেন জাতির জনক বুঝতে পেরেছিলেন বৃটিশ শাসকদের চেয়ে কম ভয়ানক নয় পাকিস্থানী শাসকরা। এরা বৃটিশের চেয়েও বেশী অত্যাচার করবে বাঙালিকে। এটা বুঝতে পেরে তিনি জুলুম অত্যাচার নির্যাতন এবং তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় প্রায় ১৪ টি বছর জেল খেটে এদেশের মানুষকে দিয়ে গেছেন একটি লাল সবুজের স্বাধীন সার্বোভৌম রাষ্ট্র। বাঙালির অধিকার আদায়ে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনিসহ তার পরিবার রক্ত দিয়ে গেছেন। যা পৃথিবীর ইতিহাসে চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে। এই দেশে যা কিছু ভালো হয়েছে তা এই আওয়ামী লীগের দ্বারা হয়েছে। জাতির জনক কখনো নিজে আগ বাড়িয়ে নিজে থেকে কোন সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি প্রত্যেকটি বিষয় জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন। ৬৬’র ছয় দফায় তিনি জাতিকে সংঙ্গবদ্ধ করেছেন, পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় এই দফার কথা পৌঁছে দিয়েছেন। ৬৯’র গন-অভ্যুত্থানে তিনি সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ছিলেন। ৭০ এর নির্বাচনের কথাও সকলের জানা। ওই নির্বাচনে সকল আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছিল।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমাদের মায়েরা স্বপ্ন দেখেছিল এই নির্যাতন অত্যাচার থেকে আমাদের মুক্ত করবে এমন একটি সন্তান তাদের প্রয়োজন। সেই সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মাত্র ৯ মাসে যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি সেই স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল জাতির জনকের আহবানে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। জাতির জনক যখন এই দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তখন এদেশের কিছু পাকিস্তানী ভাবধারার মানুষ জাতির জনককে হত্যা করে স্বাধীনতা টুকরো টুকরো করতে ছেয়েছিল। কিন্ত ষড়যন্ত্রকারীরা তা করতে পারেনি। তার কন্যা ১৯৮১ সালে দেশে এসে পিতার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে মাঠে নামেন।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা যখন জামাত বিএনপির হাত থেকে এ দেশকে রক্ষা করতে মাঠে নামলেন তখন তাকেও হত্যার উদ্দেশ্য ষড়যন্ত্রকারীরা বার বার চেষ্টা করতে লাগল। তিনি হাজার হাজার মেঠো পথ হেটেছেন এবং অবশেষে দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধা বাবাদের মর্যাদা দিয়েছেন। জনপ্রিয় নেতাদেও যখন হত্যা করা হচ্ছে, পিতার সামনে পুত্রকে হত্যা করা হচ্ছে, স্ত্রীর সামনে স্বামীকে হত্যা করা হচ্ছে; তখন তিনি দেশে এসে সন্ত্রাসী বিএনপি জামাতের হাত থেকে তাদেরকে বাঁচানোর দায়িত্ব হাতে নিলেন। রাজাকাররা এদেশে গাড়িতে পতাকা লাগিয়ে ঘুরছে আর মুক্তিযোদ্ধারা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। জাতির জনকের কন্যা ক্ষমতায় এসে আগে সেই সেই মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মানে ভূষিত করলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কৃষকের সার নিশ্চিত করেছে, বিদ্যুত নিশ্চিত করছে, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পারমানবিক বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছেন। আজ যে পদ্মা সেতু নির্মান করা হয়েছে এটাও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ ছিল। পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে যেয়ে ডক্টর ইউনুসরা ষড়যন্ত্র করেছে। আজ পদ্মা সেতু নির্মান করে দেখিয়ে দিয়েছেন ষড়যন্ত্র টেকে না। আজ ষড়যন্ত্রকারীরা চুপসে গেছে। সারা পৃথিবী আজ দেখছে ডক্টর ইউনুসের ষড়যন্ত্রও চেয়ে আপনি কত শক্তিশালী। আজ পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে আপনি দেশকে কত অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিেেছন।
তিনি বলেন, আপনার বাবার অবদান আপনার অবদান আমরা কখনো ভুলবো না। ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম আর ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে সে স্বাধীনতা আমরা রক্ষা করব। তবে একটি দাবি, গত ১৩ বছরে আওয়ামী লীগের যেসব ত্যাগী নেতা কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের আমরা মুক্ত করতে চাই। আবারও আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিককে বিজয়ী করে দেশকে আরো উন্নত রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

এসময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আহসান উল্লাহ, শার্শা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক বকুল, দপ্তর সম্পাদক আজিবর রহমান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শেখ কোরবান আলী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শেখ সারোয়ার কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, ত্রান ও সমাজ কল্যান সম্পাদক ও কায়বা ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক খোদাবক্স, বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগ নেতা মোজাফফার হোসেন, বেনাপোল পৌর যুবলীগের আহবায়ক সুকুমার দেবনাথ, উলাশী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, নিজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বিপুল, লক্ষনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারা বেগম, বাগআচড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা সাধন গোস্বামী, সাবেক ছাত্র নেতা রুহুল কুদ্দুস ও সাইফুল ইসলাম সজল প্রমুখ।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

কেশবপুরে কৃষকলীগের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন

সোহেল পারভেজ, কেশবপুর কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন পূজা ম-প পরিদর্শন করেছেন কৃষকলীগে নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার সংগঠনের উপজেলা,...

দেবহাটায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদ্যাপন

দেবহাটা প্রতিনিধি : ‘সময়ের অঙ্গীকার কন্যা শিশুর অধিকার’ প্রতিপ্রাদ্য নিয়ে দেবহাটায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদ্যাপন...

শার্শায় ভুল মানুষের দ্বারা রাজনীতি পরিচালিত হওয়ায় প্রকৃত নেতাকর্মীরা অত্যাচার জুলুম নির্যাতনের শিকার : আশরাফুল আলম লিটন

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল...