Thursday, October 6, 2022
হোম বিশেষ সংখ্যাপদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে কীভাবে দেখছে ভারত?

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে কীভাবে দেখছে ভারত?

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে

কিছু উন্নয়ন প্রকল্প ধীর গতির কারণে জনভোগান্তি চরমে উঠেছে। এছাড়া অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি তো চলছে।...

কেশবপুরে কৃষকলীগের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন

সোহেল পারভেজ, কেশবপুর কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন পূজা ম-প পরিদর্শন করেছেন কৃষকলীগে নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার সংগঠনের উপজেলা,...

দেবহাটায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদ্যাপন

দেবহাটা প্রতিনিধি : ‘সময়ের অঙ্গীকার কন্যা শিশুর অধিকার’ প্রতিপ্রাদ্য নিয়ে দেবহাটায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদ্যাপন...

শার্শায় ভুল মানুষের দ্বারা রাজনীতি পরিচালিত হওয়ায় প্রকৃত নেতাকর্মীরা অত্যাচার জুলুম নির্যাতনের শিকার : আশরাফুল আলম লিটন

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল...

রঞ্জন বসু
আজ ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের সমকালীন ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক রচিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে ও চীনের একটি সংস্থার প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত এই সেতুর উদ্বোধনের দিকে প্রতিবেশী ভারতও কিন্তু তাকিয়ে আছে সাগ্রহ উদ্দীপনার সঙ্গে। পদ্মা সেতু নিয়ে ভারতের উৎসাহের প্রধান কারণ, এই ব্রিজ ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে সড়ক বা রেলপথে দূরত্ব অন্তত তিন ঘণ্টা কমিয়ে দেবে। সাম্প্রতিক অতীতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যেভাবে একটার পর একটা কানেক্টিভিটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, তাতে ভারতের পণ্য ও যাত্রীবাহী যানও অচিরেই এই সেতু ব্যবহারের অনুমতি পাবে বলে দিল্লি আশা করছে। সে ক্ষেত্রে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য যথারীতি বাড়বে, ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলও ভৌগলিকভাবে বাকি দেশের অনেক কাছে চলে আসবে। আর পদ্মা সেতু নিয়ে ভারতের যে সামান্য অস্বস্তির উপাদান – তা হল এটি নির্মাণ করেছে চীনের একটি সংস্থা। যে দেশটির সঙ্গে ভারতের ঠান্ডা লড়াই সুবিদিত। ভারতের কোনও ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম এই সেতু নির্মাণের বরাত পেলে তা দিল্লির জন্য অবশ্যই অনেক গৌরবের বিষয় হতো। তবে এখানেও একটা বড় সান্ত¡না হল, চীনা সংস্থা নির্মাণ করলেও বাংলাদেশ এর জন্য কোনও চীনা ঋণ নেয়নি। ফলে ঋণের অর্থ মেটাতে না পেরে হামবানটোটা বন্দরকে শ্রীলঙ্কা যেভাবে চীনের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছে, পদ্মা সেতুর কখনও সেই পরিণতি হবে না। কিছুদিন আগেই বাছাই-করা ভারতীয় সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে পদ্মা সেতু দেখিয়ে এনেছে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ ওই সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে সেতু ঘুরে দেখিয়েছেন – এরপর থেকেই ভারতের নানা জাতীয় দৈনিকে পদ্মা সেতু নিয়ে বিভিন্ন ইতিবাচক খবর প্রকাশিত হচ্ছে।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির মোড়-ঘোরানো এই পদ্মা সেতু চীনের একটি কোম্পানি তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু চীনের অর্থনৈতিক সহায়তার ব্যাপারে বাংলাদেশ কিন্তু অত্যন্ত সতর্ক ও সাবধানী অবস্থান নিয়ে চলছে। বস্তুত ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে একটি হাই-স্পিড রেল লিঙ্ক স্থাপনের জন্য চীন বারে বারে উৎসাহ দেখালেও বাংলাদেশ কিন্তু সে প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।’ বস্তুত অর্থনীতি ও কূটনীতির অঙ্গনে চীন ও ভারতের মধ্যে বাংলাদেশ যেভাবে একটা সফল ‘ভারসাম্য’ বজায় রেখে চলছে তাতে দিল্লিও বেশ সন্তুষ্ট। দিল্লির সাউথ ব্লকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার কথায়, ‘পদ্মা সেতু তৈরির কন্ট্রাক্ট কেন চীনের একটি কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে সেটা আমরা বুঝি, ভারতের সে জন্য অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। এদিন তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি আছে, নিজস্ব ভাবনা ও বাধ্যবাধকতাও আছে। আমাদের একমাত্র বিবেচনা হলো, এই অঞ্চলে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থ কোনওভাবে বিঘিœত হচ্ছে কিনা – আর সেদিক থেকে বলতে গেলে ঢাকা ও দিল্লি উভয়ই কিন্তু পরস্পরের অনুভূতিকে মর্যাদা দেয়, সম্মান করে।’ ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী ইতোমধ্যেই বলেছেন, ‘অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে কীভাবে তা বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করে তা আমরা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। যেমন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে বার্ষিক রফতানির পরিমাণ আগেই ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, এখন তা ২০০ কোটি ডলার ছুঁতে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু চালু হয়ে গেলে এই অঙ্ক আরও বাড়তে থাকবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’ ভারতীয় রাষ্ট্রদূত আরও জানান, একটি ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ নিয়ে দুই দেশ এখন যৌথ সমীক্ষা চালাচ্ছে – দুদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীরা হয়তো খুব শিগগিরি তা অনুমোদনও করবেন। এরপরই সমঝোতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হবে, যার একটা মূল ভিত্তি হবে চালু হয়ে যাওয়া পদ্মা সেতু। এছাড়া, কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে এখন যে মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচল করে, সেটিকেও অচিরেই পদ্মা সেতু দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ট্রেন জার্নির সময় যেমন অন্তত ঘণ্টাতিনেক কমবে, দুদেশের যাত্রীদের জন্যই যাত্রা অনেক সহজ হবে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের অনেক পর্যটক ও ব্যবসায়ীও এই সেতুর উদ্বোধন আর নতুন ট্রেন রুটের দিকে সাগ্রহে তাকিয়ে আছেন।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

মাতৃপূজা

সুন্দর সাহা মা দুর্গা জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতা। তিনি এক কিন্তু বিভিন্নরূপে প্রকাশমানা। ব্রহ্মাদি দেবগণ তাঁর স্বরূপ...

এক জনমেই জন্মান্তর

ড. পরেশ চন্দ্র মণ্ডল : জন্মান্তরবাদ’ হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান ধারণ স্তম্ভ (জন্মান্তরবাদ ও কর্মফল ওতোপ্রোতভাবে...

মা গো আনন্দময়ী

শ্রী তিলককান্তি সেন দুর্গাপূজা তথা দুর্গোৎসবের আবেদন। বাঙালি হিন্দুর সমাজজীবনে চিরকালীন। তা সে যেখানেই থাকুক...