Wednesday, October 5, 2022
হোম আজকের পত্রিকাস্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন আজ : অপেক্ষার অবসান

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন আজ : অপেক্ষার অবসান

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে

কিছু উন্নয়ন প্রকল্প ধীর গতির কারণে জনভোগান্তি চরমে উঠেছে। এছাড়া অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি তো চলছে।...

সিলেটের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ কোচের ক্ষোভ

বার্তাকক্ষ শিরোপার স্বপ্ন নিয়েই নারী এশিয়া কাপে খেলছে বাংলাদেশ। তাও আবার ঘরের মাঠে। প্রথম ম্যাচ...

‘আপনারা হয়তো মনে করছেন আমি এক চোখ নিয়েই খেলতে পারব’

বার্তাকক্ষ ২০২৩ আইপিএল মৌসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুতে ফিরছেন, নিশ্চিত করলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। কিন্তু খেলোয়াড়...

অদ্ভুত কারণে দল থেকে বাদ পড়া আরও ৫ খেলোয়াড়

বার্তাকক্ষ টুর্নামেন্ট বা সিরিজের আগে চোটের কারণে খেলোয়াড়দের দল থেকে ছিটকে পড়ার ঘটনা নতুন কিছু...

বার্তাকক্ষ

পদ্মা পার হওয়ার হাজারো ঝক্কিঝামেলার অবর্ণনীয় কষ্ট, কখনো কখনো এক পাড়েই বিনিদ্র রজনীযাপন, স্বজন হারানোর ঘটনা বা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা-এসব গল্প আর কখনো ফিরে আসবে না। বাঁচবে প্রাণ, জীবনে আসবে গতি। এক পদ্মা সেতুই পাল্টে দিয়েছে সবকিছু। যেটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে শুধু একটি সেতু নয়, একটি আবেগ। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা আর হার না মানা অপ্রতিরোধ্য মানসিকতার মূর্ত প্রতীক স্বপ্নের পদ্মা সেতুর যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ।
আজ শনিবার (২৫ জুন) প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বপ্নের সেতুর উদ্বোধন করবেন। এর পরের দিন রোববার (২৬ জুন) সকাল ৬টা থেকে থেকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে এই সেতু। স্বপ্নের এই সেতুতে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের কষ্টের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে। সেই সঙ্গে প্রাণ পাবে ওই অঞ্চলের অর্থনীতি। দেশের জিডিপিতে ইতিবাচক অবদান আসবে।
পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এই সেতুর দুই পাড়ের মানুষ ভাসছেন আনন্দ উচ্ছ্বাসে। বন্যাকবলিত এলাকা ছাড়া সারা দেশের মানুষ উৎসবের প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশের সব এলাকা থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে। এদিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ির ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ফেরিঘাটে অনুষ্ঠেয় জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সেতুর দুই প্রান্ত সেজেছে নতুন সাজে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় মহাসড়ক তথা ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ছেয়ে গেছে রঙবেরঙের ব্যানার-ফেস্টুনে। প্রাণের সে উৎসবের ছটা পড়েছে সবখানে। সড়ক-মহাসড়ক, রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও অলিগলি ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড আর তোরণে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।
করোনা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি মাদারীপুরে অনুষ্ঠেয় জনসমাবেশে অংশ নেওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত পদ্মাপারের মানুষ। জনসমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে কয়েকদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এ জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাড়াও দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা তদারকি করছেন। তাদের আশা এই সমাবেশে ১০ লাখেরও বেশি জনসমাগম হবে। জনসভা মাঠের নিরাপত্তা জোরদার করতে কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করে জনসভা সফল করতে কাজ করছেন তারা। জাতীয় নির্বাচনের দেড় বছর আগে অনুষ্ঠেয় এই জনসভায় আগামী নির্বাচন উপলক্ষে শেখ হাসিনা দিকনির্দেশনা দেবেন বলে মনে করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
পদ্মা সেতু উদ্বোধন মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করেছে। এখানে পদ্মা সেতুর আদলেই তৈরি করা হয়েছে জনসভার মঞ্চ। মঞ্চের ঠিক সামনে পানিতে ভাসছে বিশাল আকৃতির একটি নৌকা। তার পাশে পদ্মা সেতুর আদলে ১১টি পিলারের ওপর ১০টি স্প্যান বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। দেখে মনে হবে, সেতুর পাশ দিয়ে বড় একটি নৌকা চলছে। সমাবেশের দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ তৈরিসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজ শেষ করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা। পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জেলা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর বাংলাবাজার ফেরিঘাট এলাকার জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জনসভাকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রায় ১৫ একর জমির ওপর ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যেখানে তৈরি করা হয়েছে ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ। নিরাপত্তার জন্য মঞ্চের ভেতরে ও বাইরে বসানো হয়েছে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার। এছাড়াও থাকবে দেড় শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে এ জনসভায় ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সভাস্থলে ৫০০ অস্থায়ী শৌচাগার, ভিআইপিদের জন্য আরও ২২টি শৌচাগার, সুপেয় পানির লাইন, ৪০ শয্যার তিনটি অস্থায়ী হাসপাতাল, নারীদের বসার আলাদা ব্যবস্থা এবং প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের সভাস্থলে দূরের শ্রোতাদের জন্য ২৬টি এলইডি মনিটর ও ৫০০টি মাইকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া নদীপথে আসা মানুষের জন্য ২০টি পন্টুন তৈরি করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাওয়া প্রান্তে সকাল ১০টায় সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। পরে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে টোল দিয়ে তিনি সেতু পার হবেন। জাজিরা প্রান্তে এসেও পদ্মা সেতুর নামফলক উন্মোচন করবেন। উদ্বোধন শেষে শেখ হাসিনা মাদারীপুরের শিবচরে কাঁঠালবাড়িতে ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ফেরি ঘাটে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসমাবেশে যোগ দেবেন। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন জেলায় জনসমাবেশ অংশ নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। করোনা পরবর্তী সময়ে এবারই প্রথম ঢাকার বাইরে জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবিদুর রহমান খোকা সিকদার বলেন, ‘আমাদের নেত্রী জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দেখিয়েছেন আমরা পারি। দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষ আমরা দীর্ঘদিন অবহেলিত ও বঞ্চিত ছিলাম। আমাদের সেই বঞ্চনা আর থাকছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষার কষ্ট আর থাকছে না।’
সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। থাকবে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র, অ্যাম্বুলেন্স।

 

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

মাতৃপূজা

সুন্দর সাহা মা দুর্গা জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতা। তিনি এক কিন্তু বিভিন্নরূপে প্রকাশমানা। ব্রহ্মাদি দেবগণ তাঁর স্বরূপ...

এক জনমেই জন্মান্তর

ড. পরেশ চন্দ্র মণ্ডল : জন্মান্তরবাদ’ হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান ধারণ স্তম্ভ (জন্মান্তরবাদ ও কর্মফল ওতোপ্রোতভাবে...

মা গো আনন্দময়ী

শ্রী তিলককান্তি সেন দুর্গাপূজা তথা দুর্গোৎসবের আবেদন। বাঙালি হিন্দুর সমাজজীবনে চিরকালীন। তা সে যেখানেই থাকুক...