Friday, October 7, 2022
হোম আজকের পত্রিকাযশোর রোডের ঝুঁকিপূর্ণ শতবর্ষী গাছ ‘মৃত্যুফাঁদ’ , অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

যশোর রোডের ঝুঁকিপূর্ণ শতবর্ষী গাছ ‘মৃত্যুফাঁদ’ , অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

হেঁটেই হার্ট অ্যাটাক-ক্যানসারের ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

বার্তাকক্ষ শারীরিকি বিভিন্ন জটিল রোগের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, ক্যানসার কিংবা ডিমনেশিয়া অন্যতম। যদিও ভুল জীবনধারার...

স্মার্ট টিভি ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মানতে হবে

বার্তাকক্ষ মাঝে মাঝেই বিভিন্ন জায়গায় স্মার্টফোন, হেডফোন এমনকি টিভি বিস্ফোরণের খবরও শোনা যায়। অনেক সময়...

র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের আকর্ষণীয় মাধ্যম রিমোট সার্ভিস

বার্তাকক্ষ ক্রেডেনশিয়াল বা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়ার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে র‍্যানসমওয়্যার হামলা চালানো...

নতুন ওয়্যারলেস বুকশেলফ স্পিকার আনল এডিফায়ার

বার্তাকক্ষ বাজারে নতুন ওয়্যারলেস বুকশেলফ স্পিকার নিয়ে এসেছে চীনের অডিও ইকুইপমেন্ট প্রতিষ্ঠান এডিফায়ার। এস১০০০ডব্লিউ নামে...

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের (যশোর রোড) ঝুঁকিপূর্ণ শতবর্ষী গাছ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। আইনী জটিলতায় অপসারণ উদ্যোগ থমকে আছে। অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের দাবিতে ঝিকরগাছায় মানববন্ধন হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি বাজারে এ মানববন্ধন হয়। এতে ১২টি সামাজিক সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা অংশগ্রহণ নেন।
সামাজিক সংগঠন সেবার সভাপতি আশরাফুল জামান বাবুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন যশোর নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক মাস্টার নুর জালাল, ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পরিচালক মতিয়ার রহমান, নাগরিক আন্দোলন অধিকারের যশোরের সদস্য আহসান উল্লাহ ময়না, বাংল দেশ ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ঝিকরগাছা শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেন, গদখালি বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক উজ্জল হোসেন প্রমুখ।
মানবন্ধনে বক্তরা বলেন, যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক পাশে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলোর কারণে এ রাস্তায় আমদানি-রপ্তানি ব্যহত হচ্ছে। যার কারণে সরকার রাজস্ব হারাতে বসেছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রত্যেক দিন হাজার হাজার ট্রাক এই পথে চলাচল করে অথচ ঝুঁকিপূর্ণ গাছের জন্য তাদের চলাচল বিঘিœত হচ্ছে এবং একই সাথে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই সড়কটি সম্প্রসারণ করা না হলে যশোর অঞ্চল ব্যবসায় প্রসার ঘটবে না। সেইসাথে পদ্মা সেতুর পূর্নাঙ্গ সুবিধা ভোগ করতে পারবে না এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ গাছের কারণে ইতোমধ্যে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে অনেকে। এ কারণে অবিলম্বে এসব গাছ অপসারণ করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় আগামীতে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
যশোর নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক মাসুদুজ্জামান মিঠু বলেন, যশোর বেনাপোল মহাসড়কের মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো এখন জীবনের জন্য হুমকি। এগুলো দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন। আর স্বপ্নের পদ্মাসেতুর চালুতে এখন বেনাপোল বন্দরের গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। এজন্য এই মহাসড়ককে দ্রুত চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করতে হবে। পেট্রাপোল থেকে ভারতের বনগাঁয় ছয় লেনের সড়ক নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। যেখানে প্রয়োজন হয়েছে তারা গাছ কেটে সড়ক নির্মাণ করেছে। সর্বশেষ গত ১০ জুন ভারতের পেট্রাপোল থেকে যশোর রোডের গাছগুলোর মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ অপসারণও শুরু করেছে। তবে আমাদের অংশ শুরু হয়নি। এই খুবই দুঃখজনক বিষয়।
জানা যায়, ঐতিহাসিক যশোর রোডকে (যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক) চার লেনে উন্নীত প্রক্রিয়ায় সড়কের দু’পাশের দুই হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে যশোর রোডের স্মৃতি বিজড়িত কয়েকশ’ শতবর্ষী রেইনট্রি গাছও ছিল। কিন্তু পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের মুখে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত আটকে যায়। ২০১৮ সালে এ নিয়ে হাইকোর্টে রিটও হয়। তারপর থেকে গাছগুলো নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের জুন মাসে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুই ধারে মরা শতবর্ষী ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো জরুরি ভিত্তিতে অপসারণের অনুরোধ করেছেন শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসন। তবে হাইকোর্টে এ-সংক্রান্ত রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সমাধান মিলছে না বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নারায়ণ চন্দ্র পাল ও ঝিকরগাছা ইউএনও মাহবুবুল হক আইনি প্রক্রিয়ায় গাছগুলো অপসারণের অনুরোধ জানিয়ে যশোর জেলা প্রশাসককে আলাদা দুটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে বলা হয়, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুই পাশে শতবর্ষী বেশ কিছু মরা রেইনট্রি রয়েছে। এশিয়ান হাইওয়ে নামে ওই মহাসড়ক দিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার পণ্যবাহী ট্রাক ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। এ ছাড়া আম্পানসহ ঘূর্ণিঝড়ে বেশ কয়েকটি গাছ মহাসড়কের পাশে উপড়ে পড়ে আছে। বিভিন্ন সময় উপড়ে পড়া এসব গাছ আজও অপসারণ করা হয়নি। একই সঙ্গে ঝিকরগাছা উপজেলা মোড় থেকে শার্শা বাজার পর্যন্ত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মরা গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করা যান ও যাত্রীসহ এলাকার মানুষরা আতঙ্কে রয়েছেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে গাছগুলো অপসারণ না করলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উজ জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘শার্শা ও ঝিকরগাছা ইউএনওর চিঠি আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছি। হাইকোর্টে মামলার রায়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি। রায় পেলেই সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।’

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

কেশবপুরে কৃষকলীগের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন

সোহেল পারভেজ, কেশবপুর কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন পূজা ম-প পরিদর্শন করেছেন কৃষকলীগে নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার সংগঠনের উপজেলা,...

দেবহাটায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদ্যাপন

দেবহাটা প্রতিনিধি : ‘সময়ের অঙ্গীকার কন্যা শিশুর অধিকার’ প্রতিপ্রাদ্য নিয়ে দেবহাটায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদ্যাপন...

শার্শায় ভুল মানুষের দ্বারা রাজনীতি পরিচালিত হওয়ায় প্রকৃত নেতাকর্মীরা অত্যাচার জুলুম নির্যাতনের শিকার : আশরাফুল আলম লিটন

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল...