Wednesday, December 7, 2022
হোম শীর্ষ অর্থনীতিচড়া দামে চামড়া কিনছেন আড়তদাররা

চড়া দামে চামড়া কিনছেন আড়তদাররা

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন

বায়ুদূষণ পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস হচ্ছে ধুলাবালি।...

মৈত্রী দিবসের আলোচনায় প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রীতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় ভারত

বার্তাকক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রীর ক্ষেত্রে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত...

স্কুলে ভর্তি: সরকারিতে এক আসনে ছয় আবেদন, বেসরকারির অধিকাংশ ফাঁকা

বার্তাকক্ষ সরকারি-বেসরকারি স্কুল ভর্তির আবেদন শেষ হয়েছে। সরকারি স্কুলে আসন প্রতি প্রায় ছয়জন করে...

আফগানিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৭

বার্তাকক্ষ উত্তর আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শহরে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে অন্তত সাত...

বার্তাকক্ষ
যারা এবার কোরবানি দিয়েছেন, তারা কাঁচা চামড়ার কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলেও দেশের সবচেয়ে বড় চামড়ার আড়ত পুরান ঢাকার পোস্তার আড়তদারদের চামড়া কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। দিন যত যাচ্ছে, কাঁচা চামড়ার দাম ততই বাড়ছে। রবিবার (১০ জুলাই) ঈদের দিন সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তার ব্যবসায়ীরা যে চামড়া ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায় কিনেছেন, রাত ১০টার দিকে তা বিক্রি হয়েছে প্রতি পিস গড়ে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা দরে। পরের দিন সোমবার (১১ জুলাই) একই ধরনের চামড়া তাদের কিনতে হয়েছে ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকায়। মঙ্গলবার (১২ জুলাই) পোস্তার ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনছেন ১৪শ’ টাকা দরে।
পোস্তার আড়তদারদের দাবি, প্রত্যাশা অনুযায়ী তারা এবার কাঁচা চামড়া পায়নি। তাই দর বাড়িয়ে লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছন লালবাগের চামড়া ব্যবসায়ীরা। এখন তারা ফোন করে আশপাশের এলাকায় থাকা চামড়া পোস্তায় আনতে বলছেন
কোরবানির দিন বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসার ছাত্ররা পশুর চামড়া সংগ্রহে নামে। ঢাকায় কোরবানির পশুর চামড়ার অধিকাংশই এসব প্রতিষ্ঠানে দান করে দেওয়া হয়।
সাধারণত পোস্তার আড়তদার ছাড়াও ট্যানারি মালিকরা নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এসব চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন। কিন্তু এবার আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের মধ্যে চামড়া সংগ্রহে এক ধরনের প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।
পোস্তার আড়তদাররা বলছেন, এবার তারা সমস্যায় থাকলেও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পোস্তার পাইকারদের কাছে ভালো দামে চামড়া বিক্রি করছেন।
যদিও গত কয়েক বছর চামড়ার দাম পাননি মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে সাভারের হেমায়েতপুরে নেওয়ার পর থেকেই চামড়ার দর পতন হতে শুরু করে। গেল কয়েক বছর অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী লোকসান গুনেছেন। ফলে এবার তারা সে হারে চামড়া সংগ্রহে নামেননি। গতবারের চেয়ে এবার বেশি চামড়া সংগ্রহ করার আশায় ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বস্তা বস্তা লবণ কিনে রাখলেও সেই তুলনায় কাঁচা চামড়া আসছে না লালবাগের চামড়ার আড়তগুলোতে।
গতবার যে সময়ের মধ্যে আড়তে এক লাখ চামড়া ছাড়িয়েছিল, এবার একই সময় ৭৫ হাজার কাঁচা চামড়া এসেছে। লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় বাড়তি দরে চামড়া কিনছেন ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান বলেন, ‘এবার আমাদের লক্ষ্য দেড় লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ করার।
গতবার এক লাখ পিস সংগ্রহ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য পোস্তার ব্যবসায়ীরা ঢাকার পাশেই কেরানীগঞ্জ, হেমায়েতপুর, জাজিরা, নারায়ণগঞ্জে অস্থায়ী ঘর করেছেন।’
এদিকে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি দরে চামড়া কিনছেন সাভারের ট্যানারি ও পোস্তার আড়তদাররা। এবার পোস্তায় চামড়া এনে কোনও বিক্রেতাকেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।
সরেজমিন দেখা গেছে, কেউ চামড়া নিয়ে আসামাত্র ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিরা তা সংগ্রহের জন্য তোড়জোড় শুরু করছেন। অন্যদিকে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর ট্যানারিগুলোতে যাওয়া শুরু করেছে কোরবানির পশুর চামড়া। এতে বেড়েছে সেখানকার শ্রমিকদের ব্যস্ততা।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, ‘এ বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরাসরি চামড়া কিনছেন ট্যানারি মালিকরা।’
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর চামড়ার লোকসান দিয়ে কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। অর্থ সংকটে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া কিনছেন না।’
এবার আড়তদারদের খরচ বেড়েছে দাবি করে টিপু সুলতান বলেন, ‘সব মিলিয়ে চামড়াপ্রতি ৩শ’ টাকার মতো খরচ হয়। এরমধ্যে প্রতি চামড়ায় লবণ মেশাতে মজুরি ৪০-৫০ টাকা, ট্রাক থেকে নামানো-উঠানো ও আড়তে নিয়ে যাওয়া বাবদ ১০ টাকা, পানি-লবণের দাম মিলিয়ে ১৫০ থেকে ২শ’ টাকা খরচ হয়। এর সঙ্গে কর্মকর্তাদের বেতন তো আছেই।’
চামড়া শিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘১৩৯টি ট্যানারি এবার কাঁচা চামড়া নিচ্ছে। আমাদের সব ট্যানারি এবার চামড়া নেওয়ার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ঈদের দিন বিকাল থেকেই চামড়া আসতে শুরু করেছে।’
প্রসঙ্গত, পশুর চামড়া সংগ্রহের সবচেয়ে বড় মৌসুম ঈদুল আজহা। দেশে সারা বছর যে পরিমাণ পশু জবাই হয়, তার ৬০ শতাংশই হয় ঈদুল আজহায় কোরবানির মাধ্যমে। এ বছর ঈদুল আজহার দিন সারা দেশে কোরবানি হয়েছে ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি পশু, যা গতবারের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি।
এবার গরুর চামড়ার দর প্রতি বর্গফুটে সাত টাকা আর খাসির চামড়ার দাম তিন টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরকার এবার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪৭ থেকে ৫২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা। এছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, ‘চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারী ও আড়তদাররাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ইতোমধ্যে চামড়া কেনার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা তাদের দিয়েছি। গত দুই বছরের তুলনায় চলতি বছর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, কেনাবেচা ভালো হবে।’

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

বাংলাদেশকে ২ হাজার ৭৩ কোটি টাকা ঋণ দিলো এডিবি

বার্তাকক্ষ বাংলাদেশকে ২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রতি ডলার...

৩০০ কোটি টাকার নিচে নামলো লেনদেন

বার্তাকক্ষ টানা দুই কার্যদিবস দরপতনের পর মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ...

আলিফের বন্ড মিলছে না বিনিয়োগকারী, জেবিসির ওপর চাপ প্রভাবশালীদের

বার্তাকক্ষ বন্ড ছেড়ে ৩শ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন পেলেও সেই বন্ড কেনার বিনিয়োগকারী পাচ্ছে...