Friday, September 30, 2022
হোম শিক্ষাছয় স্তরের পদ সোপান চান শিক্ষা ক্যাডাররা

ছয় স্তরের পদ সোপান চান শিক্ষা ক্যাডাররা

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

চাকরির নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করায় ৩ জন গ্রেফতার

শাহিনুর রহমান, পাটকেলঘাটা পাটকেলঘাটায় কোয়েষ্ঠ ফার্মা নামে একটি কোম্পানিতে চাকরি দেয়ার নাম করে ভুয়া কাগজপত্র...

মাত্র দু বছরে মৃত্যুর মুখে নদী : খরস্রোতা শোলমারি এখন ৩-৪ মিটারের সরু নালা

খুলনা সংবাদদাতা খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে শোলমারি নদী। এর স্রোত ও গভীরতা...

জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য দুর্নীতি দূর করতে হবে : বিভাগীয় কমিশনার

খুলনা সংবাদদাতা ‘তথ্য প্রযুক্তির যুগে জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হোক’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯...

তালায় দুধে ভেজাল প্রতিরোধ শীর্ষক আলোচনা

শিরিনা সুলতানা, তালা : সাতক্ষীরার তালায় সামাজিক সম্প্রীতি ও দুধে ভেজাল প্রতিরোধ শীর্ষক আলোচনা সভা...

বার্তাকক্ষ
প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষা এবং শৃঙ্খলার স্বার্থে শিক্ষা ক্যাডার পদ সোপান তৈরি গত দুই বছরে শেষ হয়নি। সম্প্রতি ৯৫টি অধ্যক্ষের পদ তৃতীয় গ্রেড করার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি। কিন্তু দ্বিতীয় গ্রেড না থাকায় প্রথম গ্রেডে সরাসরি পৌঁছানোর পথ রুদ্ধই থেকে গেলো। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডাররা বলছেন, বৈষম্য, অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও পদোন্নতি সমস্যা মেটাতে ছয় স্তরের পদ সোপান প্রয়োজন। চতুর্থ গ্রেডে চাকরি জীবন শেষ করতে হবে শিক্ষকদের—এই অবস্থার অবসান হওয়া দরকার।
বর্তমানে শিক্ষা ক্যাডারের পদ সোপান প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত চার স্তরের। অধ্যাপকরা চতুর্থ গ্রেড পেয়ে চাকরি জীবন শেষ করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালকের পদটি প্রথম গ্রেড। চতুর্থ গ্রেডের অধ্যাপককে এই গ্রেডে নিয়োগ করা হয়। মহাপরিচালক পদটি ছাড়া প্রথম গ্রেডের আর কোনও পদ নেই শিক্ষা ক্যাডারদের জন্য। এর আগে সরাসরি দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া হতো সিলেকশন গ্রেডের মাধ্যমে। ২০১৫ সালে জাতীয় বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড না থাকায় এখন সে সুযোগও নেই। চতুর্থ গ্রেডেই আটকে যান শিক্ষা ক্যাডাররা। তাই পদ সোপান তৈরির জন্য ২০১৯ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
এই প্রস্তাবের দুই বছর পর গত ১৯ জুন তৃতীয় গ্রেডের ৯৫টি পদ প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশের ৯৫টি কলেজের অধ্যক্ষের পদ তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় গ্রেড নেই। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলছেন— সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তদবির না করলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। সুনির্দিষ্ট করে পদ সোপান তৈরি না করলে বিশৃঙ্খলা বাড়বে শিক্ষা ক্যাডারে।
জানতে চাইলে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, শিক্ষা ক্যাডারদের স্বার্থেই আমরা দ্রুত এ বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলবো।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব মো. শওকত হোসেন মোল্যা বলেন, শিক্ষা ক্যাডারে ছয় স্তরের পদ সোপান দরকার। অধ্যাপক পদটি করতে হবে তৃতীয় গ্রেড। দ্বিতীয় গ্রেডে সিনিয়র অধ্যাপকের পদ করতে হবে অধ্যাপকের অর্ধেক। এছাড়া প্রথম গ্রেডের পদ সংখ্যা নির্দিষ্ট হতে হবে।
শওকত হোসেন মোল্যা আরও বলেন, জেলা-উপজেলার প্রশাসনিক পদ নেই শিক্ষা ক্যাডারদের জন্য। সেসব জায়গায় পদ সৃষ্টি করা দরকার। শিক্ষা ক্যাডারদের পদ সোপান পিরামিড আকারের। ওপরের দিকে পদ সংখ্যা বেশি থাকলে পদোন্নতি সমস্যা হতো না। যে ৯৫টি অধ্যক্ষের পদ তৃতীয় গ্রেড করা হয়েছে তাতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়বে। সে কারণে আমরা খুব শিগগিরই ছয় স্তরের পদ সোপান তৈরি করে প্রস্তাব দেবো।
২০১৯ সালের হিসেবে অনুযায়ী দেশে শিক্ষা ক্যাডারদের বিষয়ভিত্তিক অধ্যাপকের অনুমোদিত পদ ৫২৭টি। এছাড়া অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন আরও চার শতাধিক, সহযোগী অধ্যাপক দুই হাজার ২০০টির বেশি, সহকারী অধ্যাপক পদ রয়েছে চার হাজার ৩০০টির বেশি। আর প্রভাষক পদ রয়েছে আট হাজারের বেশি। সব মিলিয়ে মোট ক্যাডার পদ ১৫ হাজারের মতো।
এই পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি শিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কার আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই উদ্যোগের সময় জানানো হয়, নতুন করে পদ সোপান তৈরির মাধ্যমে ক্যাডার পদে যুক্ত হবে তৃতীয় ও দ্বিতীয় গ্রেড। দ্বিতীয় গ্রেডে ১৫টি এবং তৃতীয় গ্রেডে ৪২৯টিসহ নতুন এই দুটি গ্রেডে পদ সৃষ্টি হবে ৪৪৪টি। এছাড়া প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত আরও সাড়ে ১২ হাজার পদ সৃষ্টি করা হবে। সব মিলিয়ে এই পদ সংখ্যা দাঁড়াবে ১২ হাজার ৯৪৪টি।
দুই বছর পর তৃতীয় গ্রেডের ৯৫টি পদ তৈরি হলেও দ্বিতীয় গ্রেডের পদ তৈরি হয়নি। ফলে তৃতীয় গ্রেড থেকে দ্বিতীয় গ্রেডে যাওয়ার পথ রুদ্ধ থেকে গেলো। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলছেন, দ্বিতীয় গ্রেডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদ সৃষ্টি এবং ২০১৯ সালের উদ্যোগ পুরো বাস্তবায়ন করা জরুরি। প্রশাসনসহ অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে শিক্ষা ক্যাডারের বৈষম্য দূর করতে জরুরিভাবে এটা করা উচিত।
শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা ক্যাডার নানা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। এই ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ওপরে ওঠার কোনও সুযোগ রাখা হয়নি। এ বৈষম্যের অবসান হওয়া প্রয়োজন। এতে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শিক্ষকদের তদবির ও দুর্নীতিমুক্ত করাও সম্ভব হবে।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

যৌন হয়রানি রোধে নারী-পুরুষের আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা উচিত নয়’

‘বার্তাকক্ষ দেশে কোনও ধরনের আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা উচিত নয়। যৌন নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সামাজিক...

২৬ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২২ জনবল অনুমোদন, ছাড়পত্র পেলো ১৭৪

বার্তাকক্ষ দেশের ২৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২২ জনবল অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে এর...

সাত কলেজের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হবে ২৫ অক্টোবর

বার্তাকক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজে স্নাতক (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) প্রথম বর্ষের ভর্তি...