Friday, September 30, 2022
হোম অর্থনীতি২০২১-২২ অর্থবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি কমেছে ৪ লাখ ৩০ হাজার টন

২০২১-২২ অর্থবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি কমেছে ৪ লাখ ৩০ হাজার টন

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করছে রাশিয়া

বার্তাকক্ষ রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার এই অঞ্চলগুলোকে...

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার এক বছরে ক্যাম্পে আরও ২৭ খুন

বার্তাকক্ষ কক্সবাজারের আশ্রয় ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার এক বছর পূর্ণ হলো বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর)।...

মহেশপুরে ৪০ পিচ সোনার বারসহ ১জন আটক

আব্দুস সেলিম, মহেশপুর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর সীমান্ত থেকে ৪০ পিচ সোনার বারসহ শওকত আলী...

ডিমের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা, দাম কেন ১৩: কৃষিমন্ত্রী

বার্তাকক্ষ ফার্মের মুরগির ডিমের উৎপাদন খরচ ৫ থেকে ৬ টাকা বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।...

বার্তাকক্ষ
এক বছরের ব্যবধানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি ৪ লাখ ৩০ হাজার টন কমেছে। এর ফলে বন্দর আহরিত রাজস্বও নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দরে কম সক্ষমতা, পর্যাপ্ত জায়গার অভাব, চাঁদাবাজিসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে অনীহা তৈরি হয়েছে আমদানিকারকদের মাঝে। এ কারণেই আমদানি কমেছে।
বেনাপোল কাস্টমসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি হয়েছে ২১ লাখ ১৪ হাজার টন। এর আগের অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২৬ লাখ ৪৪ হাজার টন।
২০২১-২২ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউজে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমেছে ৫৫৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ সময় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। অথচ আদায় করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ১৪৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ওই বছর ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৯৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯-২১ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করা হয়েছিল ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪ টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ১১ হাজার ৬ টন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় ভারত ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় ব্যবসায়ীরা চাহিদামতো পণ্য আমদানি করতে পারেন না।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, বেনাপোল বন্দরে তীব্র জায়গা সংকট রয়েছে। পণ্য ওঠানামার জন্য ব্যবহূত ক্রেন ফর্কলিফট বিকল হয়ে পড়ায় নির্ধারিত সময়ে আমদানিকারকরা পণ্য নিতে পারেন না। আবার ভারতের কালিতলায় অবৈধভাবে পার্কিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হয়। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। ফলে অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর ছেড়ে চলে গেছেন। এ বিষয়গুলোকে আমদানি কমার পেছনে দায়ী করা হচ্ছে। তবে বেনাপোল বন্দর উন্নয়ন, ভারতে হয়রানি বন্ধ হলে এ বন্দর থেকে লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ রাজস্ব আয় সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যশোরের পণ্য আমদানিকারক এজাজ উদ্দিন টিপু বলেন, ভারতের কালিতলায় অবৈধভাবে পার্কিংয়ের নামে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে। একটি ট্রাক দেশে প্রবেশ করতে এক মাস সময় লেগে যাচ্ছে। একে তো পণ্য আসতে দেরি হচ্ছে, তার ওপর প্রতিদিন ট্রাকপ্রতি ২ হাজার রুপি দিতে হয়। এতে বেনাপোল দিয়ে আমদানি কমিয়ে অন্য বন্দরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বেনাপোল বন্দরে রয়েছে জায়গার সংকট। এতে চাহিদা অনুযায়ী পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে পারছে না।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বড় অংকের রাজস্ব আদায় অনিশ্চিত। কারণ নানা অব্যবস্থাপনায় আমদানি কমেছে এ বন্দর দিয়ে। বেনাপোল কাস্টমসে আমদানি পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেই। খুলনা ও ঢাকা থেকে পরীক্ষা করাতে মাসের অধিক সময় লেগে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় পণ্যের চালান আটকে থাকে। এতে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বেনাপোল কাস্টম হাউজে বিএসটিআই ও বিএসআইআরের শাখা স্থাপনের দাবি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এতে অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর ছেড়েছেন।
ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, ব্যবসায়ীরা যেখানে সুবিধা পাবেন সে পথে আমদানি, রফতানি বাণিজ্যে আগ্রহী হবেন এটাই স্বাভাবিক। চট্টগ্রাম বন্দরে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। তাই ব্যবসায়ীরা দিন দিন সে পথে আমদানিতে ঝুঁকছেন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কাস্টমস ও বন্দরে বৈধ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে ব্যবসায়ীরা এ পথে আবার ফিরবেন।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, বেনাপোল বৃহৎ বন্দর হলেও এর কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না। সপ্তাহে সাতদিন বাণিজ্যসেবা চালু থাকলেও তা শুধু কাগজে-কলমে। বাণিজ্য প্রসার করতে হলে বৈধ সুবিধা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই। বাণিজ্য প্রসার করতে হলে বেনাপোল বন্দরকে হয়রানিমুক্ত করা প্রয়োজন। ব্যবসায়ীরা বারবার ভারতের কালিতলায় হয়রানির অভিযোগ করলেও সরকার সমাধানের দিকে এগোচ্ছে না।
বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান জানান, গত অর্থবছরে আমদানি কমেছে ৪ লাখ ৩০ হাজার টন। বেনাপোল বন্দরে জায়গার সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবের কারণে ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আমদানি করতে পারছেন না। আবার ভারতের কালিতলায় অবৈধভাবে আমদানি পণ্যবাহী গাড়ি আটকে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন।
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর জানান, বেনাপোল বন্দরের উন্নয়নকাজ চলছে। এরই মধ্যে বন্দরে ৩৬৫টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এতে নিরাপত্তা বাড়বে। জমি অধিগ্রহণ, নতুন পণ্যাগার নির্মাণ ও বন্দর এলাকায় রাস্তাঘাটের অনেকটা উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। উন্নয়নকাজ শেষ হলে এ বন্দরে বাণিজ্য আরো বাড়বে।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

কক্সবাজারে ৪২ কোটি টাকায় বনায়ন, নতুন রূপে সাজবে হিমছড়ি

বার্তাকক্ষ পর্যটন নগরী কক্সবাজারে সবুজ বেষ্টনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার করে...

বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত পাবেন সরকারি ব্যবস্থাপনার হাজিরা

বার্তাকক্ষ ২০২২ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজিদের সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়ার অব্যয়িত অর্থ ফেরত...

আবারও নীতি সুদহার বাড়ালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বার্তাকক্ষ মুদ্রানীতি সুষ্ঠুভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে আবারও রেপো বা নীতি সুদহার...