Friday, September 30, 2022

উদ্ধার

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

চাকরির নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করায় ৩ জন গ্রেফতার

শাহিনুর রহমান, পাটকেলঘাটা পাটকেলঘাটায় কোয়েষ্ঠ ফার্মা নামে একটি কোম্পানিতে চাকরি দেয়ার নাম করে ভুয়া কাগজপত্র...

মাত্র দু বছরে মৃত্যুর মুখে নদী : খরস্রোতা শোলমারি এখন ৩-৪ মিটারের সরু নালা

খুলনা সংবাদদাতা খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে শোলমারি নদী। এর স্রোত ও গভীরতা...

জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য দুর্নীতি দূর করতে হবে : বিভাগীয় কমিশনার

খুলনা সংবাদদাতা ‘তথ্য প্রযুক্তির যুগে জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হোক’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯...

তালায় দুধে ভেজাল প্রতিরোধ শীর্ষক আলোচনা

শিরিনা সুলতানা, তালা : সাতক্ষীরার তালায় সামাজিক সম্প্রীতি ও দুধে ভেজাল প্রতিরোধ শীর্ষক আলোচনা সভা...

আহসান হাবিব
গতকালের রাতের তুমুল বৃষ্টিতে, সাত নম্বর রোডে, আমাদের ঠিক বাসার সামনে, একটা গভীর খাদ নির্মিত হয়ে পড়ল। বৃষ্টি কিভাবে এই খাদ নির্মাণ করল, তা আমাদের বোধগম্য নয়, কেননা, প্রতিবছর সরকারের বিবিধ সংস্থার লোকজন দিনরাত পরিশ্রম করে রাস্তায় এত বড় খাদ নির্মাণ করতে যে সময় নেয়, তাতে সাত নম্বর রোডের বাসিন্দারা আক্ষরিক অর্থেই গৃহবন্দি হয়ে পড়ে। তারা দীর্ঘ সময় কীভাবে জীবনযাপন করে, এর বর্ণনা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ আমি কোনো লেখক নই, আমি একজন সামান্য এনজিও কর্মী। যদিও আমি নিজেকে একজন উন্নয়নকর্মী হিসেবে প্রচার করি, কিন্তু আমি জানি না উন্নয়নে আমি ঠিক কি ভূমিকা রাখি। আমার কাজ এলাকাভিত্তিক, যারা ঋণ নেওয়ার জন্য দরখাস্ত করে, আমি তাদের নাম তালিকাভুক্ত করি এবং সরেজমিনে যাচাই করি ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা তাদের আছে কি না। এসব কথা থাক, খাদের কথা হোক।
আসলে খাদ আমাদের কোনো সমস্যা নয়, কারণ এগুলো আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে। আমি এই শহরে এসেছি তিরিশ বছর, প্রথম দিন বৃষ্টিতে রাস্তায় যেভাবে পানি জমতে দেখেছি, আজও আমি একই রকমভাবে পানি জমতে দেখি। সরকারের রাস্তাবিষয়ক মন্ত্রী, নির্বাচিত মেয়র কথা দেয় আগামী বছর এই জলাবদ্ধতা থাকবে না, আমরা খুশি হই, আমি তিরিশ বছর যাবত খুশি হয়ে আসছি। মাঝে মাঝে অফিস যেতে পারি না, সেদিন আমার বাসায় খিচুড়ি রান্না হয়, সে এক মহা আনন্দের দিন! তাই ডবল খুশি নেমে আসে আমাদের জীবনে। খুশিই হয়েছিলাম যখন দেখলাম বিশাল খাদ তৈরি হয়েছে। ভাবলাম দু-একদিন অফিসে যাওয়া থেকে রেহাই পাব। এই উপমহাদেশের মানুষ অফিস কামাই দেওয়াকে শিল্পে রূপান্তরিত করেছে। সামান্য অজুহাতে অফিস কামাই করা মামুলি বিষয় বানিয়ে ফেলেছে। অবশ্য এনজিওগুলো এব্যাপারে ছাড় দিতে চায় না, কিন্তু বাঙালি ঠিক উপায় বের করে ফেলে, একটা মেডিকাল সার্টিফিকেট জোগাড় করে ফেলে! কিন্তু এসব কথা থাক, আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় খাদ, অবশ্য খাদ থেকে দৃষ্টি এখন অন্যদিকে চলে গেছে, মহল্লার লোকেরা অচিরেই আবিষ্কার করে একটা কুকুর সেই খাদে পড়ে গেছে! কুকুরটি সেই তখন থেকে ঘেউঘেউ করে চিৎকার করে চলেছে, শত শত লোক জমে গেছে খাদের চারপাশে!
সকলের এখন একটাই চেষ্টা কুকুরটিকে উদ্ধার করা।

খাদটা যে রাস্তার প্রায় পুরোটা জুড়ে, না দেখলে বুঝতাম না। সারা রাত ধরে কি যে বৃষ্টি, আমি ঘরের ভেতর থেকেই বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ সঙ্গে সামান্য দমকা বাতাসের ঝাপটা। ‘দমকা’ শব্দটি আমার খুব চেনা, সেই শৈশব থেকে আবহাওয়ার খবরে শুনে আসছি। কিন্তু বাতাস ঠিক কতটা এলোমেলো হলে কিংবা এর গতি কত হলে দমকা হয়, জানি না। একটা শনশন আওয়াজও কানে আসছিল, একবার দরজা খুলে বাইরে বেরুতে যাব এমন সময় নীতু বাধা দিলো—
‘কি দরকার তোমার এই সময় বাইরে যাওয়ার?’
আমি থমকে গেলাম, তাই তো কি দরকার! আমার দমকা দেখা হলো না। নীতু—আমার স্ত্রী, তার পাশে বিছানায় শুয়ে শুয়ে বৃষ্টির ধারাপাত শুনে গেলাম। ‘ধারাপাত’ শব্দটি আবার রবীন্দ্রনাথের কথা মনে করিয়ে দিলো। আমি আমার গুনগুন করে গেয়ে উঠলাম—
‘আমার নিশিথ রাতের বাদলধারা’
গান শুনে নীতু ফিক করে হেসে দিয়ে বলল—’তোমার ঢং দেখে বাঁচি না!’
আমার গান থেমে গেল, কিন্তু বৃষ্টি থামল না। আমি আল মাহমুদের মতো কখন যে ঘুমে নিহত হয়ে গেলাম বুঝতেই পারিনি। নীতু জেগে ছিল, সে আমাকে সকালে জানাল আমি নাকি ঘুমের ঘোরে গাইছিলাম রবি ঠাকুরের সেই গান—
‘আমি তখনো ছিলেম মগন গহন ঘুমের ঘোরে, যখন বৃষ্টি নামলো’
আমার লজ্জা পেল, তবে সেটা উবে যেতে সময় নিল না, একটা কোলাহলে সচকিত হয়ে উঠলাম, দরজা খুললেই সাত নম্বর রোড চোখে পড়ে, দেখলাম অজস্র লোকের ভিড়, সেদিকে এগিয়ে যেতেই সব পরিষ্কার হলো, একটা গভীর খাদ ঘিরে লোকজন চিৎকার চেঁচামিচি করছে, একটা কুকুর খাদের নিচে পড়ে ঘেউঘেউ করছে। কাছে গিয়ে দেখলাম ইতোমধ্যে লোকজন যে যা পেরেছে সঙ্গে এনেছে, কেউ বাঁশ, কেউ দড়ি, কেউ-বা শাবল! তবে কেউ ঠিক করতে পারছে না কি উপায়ে কুকুরটিকে উদ্ধার করা হবে। এক একজন এক এক মত জারি করছে, এটাই বাঙালির স্বভাব। তারা প্রত্যেক সমস্যার সমাধান জানে!
কেউ একজন বলছে একটা লম্বা দড়ি নিচে ফেলে সেটা বেয়ে কেউ একজন কুকুরটিকে তুলে আনুক। কিন্তু দড়ির দৈর্ঘ্য কত হলে কুকুরের নাগাল পাওয়া যাবে, এটা ঠাহর করা যাচ্ছে না। খাদটি যে এত গভীরভাবে নির্মিত হয়েছে, ভাবলেই মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে। আমি একবার কোনোরকম খাদের কাছে গিয়ে নিচে তাকাতে চেষ্টা করলাম, মনে হলো পৃথিবীর কেন্দ্র অবধি চলে গেছে এই খাদ, যদিও কুকুরটিকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে কিন্তু আকারে খুব ক্ষুদ্র। আরে, এই কুকুরটিকে তো আমি গত পরশু রাতেই দেখেছি, সঙ্গে আর একটি ছিল, বাদামি রঙের, এটা সাদা, রাস্তার এখানে ওখানে কি যেন খুঁজে বেড়াচ্ছিল, আমি নীতুকে বলতেই বলল—’খাদ্য’।
আমি চুপ করে গেলাম, একটা বুভুক্ষু মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠল।
একজন বলে উঠল—’ভাইসব একে উদ্ধার করা আমাদের কাজ নয়, দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হোক’! এটা শোনামাত্র কয়েক সেকেন্ড নীরবতা নেমে এলো, আমি দেখলাম সকলের মেরুদণ্ড বেয়ে একটা ভয় শিরশির করে নেমে যাচ্ছে, আমিও অনুভব করলাম কি একটা নেমে যাওয়ার স্পর্শ! কেননা ‘দমকল’ শুনলেই মনের মধ্যে ভয়ের ঝড় ওঠে, মনে হয় কোথাও যেন ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়েছে, শুরু হয়েছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। নীরবতা ভাংলো, কিন্তু কেউ ‘দমকলে’ সাড়া দিলো না। দড়ি বেয়ে নামার প্রস্তাব ভালো কিন্তু অত লম্বা দড়ি কোথায় পাওয়া যাবে আর গেলেই-বা কে নামবে পৃথিবীর কেন্দ্রে?
আমি বোকার মতো বলে উঠলাম—’পৃথিবীর কেন্দ্রে কিন্তু মাধ্যাকর্ষণ বল তীব্র।’
কথাটা মুখ ফস্কে বেরিয়ে পড়ামাত্র নীরবতা নয়, হো হো হাসির ফোয়ারা ছুটে এলো চারদিক থেকে, আমি বোকা সেজে গেলাম!
ইতোমধ্যে দেখি কে বা কারা খাদের চারপাশে লাল কাপড় দিয়ে ঘিরে ফেলেছে, মানুষের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। এর মধ্য থেকেই দেখি কয়েকজন যুবক লাল কাপড় ভেদ করে খাদের কিনারে গিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখছে এবং একটা কৌশল বের করার চেষ্টা করছে। একটা লম্বা মোটা বাঁশও কোথা থেকে চলে এসেছে এবং সেটা খাদের মাঝখানে রেখে একটা দড়ি বাঁধার চেষ্টা করছে। আমি বুঝতে পারি কেউ একজন এই দড়ি বেয়ে নিচে নেমে কুকুরটিকে উপরে তুলে নিয়ে আসবে। ভাবছি কে সেই অসমসাহসী যুবক! কেননা যুবক ছাড়া এমন দুঃসাহসিক কাজ করা অসম্ভব।
আমি যখন খাদের কিনারে গিয়ে নিচে চোখ রাখি, ধক করে ওঠে বুক, কোথাও একফোঁটা পানি নাই, কুকুরটিকে একটা ছোট্ট বিন্দুর মতো মনে হলো, কিন্তু তার চিৎকার ঠিক শুনতে পেলাম। তার মানে কি আমাদের চোখের সীমার চেয়ে শ্রবণেন্দ্রিয়ের সীমা অনেক বেশি? হয়তো-বা। আবার ‘বিন্দু’ শব্দটি আমাকে অন্য এক বিন্দুর কথা মনে করিয়ে দিলো। এই পৃথিবীটা নাকি মহাশূন্যের একটা বিন্দুমাত্র! তাহলে কি এই খাদ একটা মহাশূন্য? আরে, আমি এসব কি ভাবছি! আমাদের প্রধান ভাবনা এখন কুকুরটিকে খাদ থেকে তুলে আনা। যখন খাদের ভেতরে আমি চোখ রাখছি, তখন আমার হঠাৎ জমজম কূপের কথাও মনে পড়ে। শুনেছি সেই কূপের রহস্য নাকি আজো উদঘাটিত হয়নি। আচ্ছা, এই খাদ কি কোনো অলৌকিক ঘটনা? কেননা, বৃষ্টিতে এমন একটি খাদ কি করে তৈরি হয় যেখানে এই রাস্তায় সামান্য কোনো কাটা দাগই ছিল না! আমার ভয় করতে থাকে।
ভিড় আরো বাড়তে থাকে, আশপাশের রোড থেকেও লোকজন ছুটে এসেছে। সবার কথা একটাই—কুকুরটিকে বাঁচাতে হবে, কিন্তু কিভাবে? এখন পর্যন্ত কেউ কোন পথ বের করতে পারেনি। পারেনি তার কারণ খাদের আশ্চর্য গভীরতা। সবাই ভাবছে একটা দড়ি ওপর থেকে শক্ত কোনো কিছুর সঙ্গে বেঁধে নিচে ফেলে সেই দড়ি বেয়ে নিচে নেমে কুকুরটিকে তুলে আনা ছাড়া অন্য কোনো পথ নাই। কিন্তু অত বড় দড়ি পাবে কোথায়? আর থাকলেও দড়ি বেয়ে নিচে নামবে কে? কার এত বড় বুকের পাটা!
‘মাটির যত নিচে যাবেন, তত অক্সিজেন কমতে থাকে কিন্তু’—কথাটা আমার মুখ ফস্কে বেরুতেই আমার সামনে দাঁড়ানো লোকটি আমার দিকে চকিতে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়, আমি তার চোখ থেকে চোখ নামিয়ে ফেলি,
‘আপনার কাণ্ডজ্ঞান তো দেখছি যাচ্ছেতাই! আপনি তো মাধ্যাকর্ষণ আর অক্সিজেন নিয়ে আছেন দেখছি!’ আমি লোকটির কথায় লজ্জা পাই। সত্যি তো, এখন আমি এসব কি ভাবছি! হঠাৎ দেখি আমার পেছনে নীতু কখন এসে দাঁড়িয়েছে, টের পাইনি, টের পাই তখনই যখন সে কথা বলে ওঠে—
‘ভাইসব, একটা কুকুরের জন্য আপনাদের এত মায়া!’
কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ নীরবতা নামে, তারপর গুনগুন, তারপর জোরে জোরে চিৎকার শুরু হয়। একজন চিৎকার করে বলতে থাকে—
‘একজন নারী হয়ে কি করে এত নিষ্ঠুর হন আপনি? কুকুরটিকে বাঁচানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।’
এর উত্তরে নীতু কিছু বলতে যাচ্ছিল, আমি তাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেই—
‘যাও এখান থেকে।’
নীতু কথা না বলে ঘরের দিকে হাঁটা দেয়। সামনের লোকটি আমার দিকে আবার ফিরে তাকায়—
‘আপনার স্ত্রী?’
‘জি।’
‘একই ক্ষুরে মাথা কামানো দেখছি।’
আমি ভীষণ লজ্জা পাই, ঘরের দিকে মুখ ঘোরাই। একপা ফেলতেই কয়েকটি হোন্ডার শব্দে সাত নম্বর রোড সচকিত হয়ে ওঠে—’কমিশনার, কমিশনার।’
আমি ফিরে তাকাই, ঘরে ঢুকি না। দেখি সাদা ফিনফিনে পাঞ্জাবি পরে একজন লোক ধীরপায়ে খাদের দিকে এগিয়ে আসছেন, পেছনে চার পাঁচজন সাগরেদ। আমি অচিরেই দেখতে পাই জড়ো হওয়া মানুষগুলো দুদিকে সরে গিয়ে একটা সরু রাস্তা নির্মাণ করে ফেলে এবং তিনি এই সরু পথ দিয়ে হাঁটতে থাকেন। ‘কমিশনার’ শব্দটি কানে লেগে আছে, আমার অজান্তেই মুখ থেকে এই শব্দটি প্রশ্নচিহ্নের মতো বেরিয়ে পড়লে আমার সামনের লোকটি আমার দিকে চকিতে ফিরে তাকান, দেখি তার চোখ থেকে বিস্ময় এবং অবজ্ঞা ঝরে পড়ে—
‘কমিশনার সাহাবুদ্দিন আহমেদ, চেনেন না?’
আমি লোকটির দিকে বোকার মতো তাকিয়ে থাকি, ‘না’ বলার সাহস হারিয়ে ফেলি, লোকটি মুখ ফিরিয়ে আমাকে মুক্তি দেয়। আমার গত নির্বাচনের কথা মনে পড়ে যায়। আমিও একটা রিকশায় চেপে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছিলাম, কেন হয়েছিলাম জানি না। ভোটকেন্দ্রে যেতেই কেউ আমাকে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়েছিল, আমি সেই কাগজে লেখা নাম দেখে দেখে সিল ঠুকেছিলাম। কেউ আমার কাছে ভোট চাইতে আসে নাই, কাউকে কখনো দেখিও নাই।
এখন মনে হচ্ছে এই সাহাবুদ্দিন আহমেদ আমারই ভোটে নির্বাচিত কমিশনার! আমি মনে মনে সাহস পাই, প্রত্যয় জাগে এবার নিশ্চয় কুকুরটিকে তুলে আনার একটা যুৎসই উপায় বেরিয়ে পড়বে। হঠাৎ কে যেন বলে ওঠে—
‘সাহাবুদ্দিন ভায়ের আগমন।’
অমনি জলোচ্ছ্বাসের মতো জমায়েত থেকে স্লোগান ওঠে—
‘শুভেচ্ছা, স্বাগত।’
‘সাহাবুদ্দিন ভাই, সাহাবুদ্দিন ভাই।’
‘লাল গোলাপ শুভেচ্ছা, লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।’
মুহূর্তেই গোটা জমায়েত টগবগ করে ফুটতে থাকে, একটা জনসভায় রূপান্তরিত হয়ে পড়ে! আমি ঢাকায় এসে কোনো জনসভায় যোগদান করিনি, আজ সেই সৌভাগ্য হয়ে পড়ায় মনে মনে নিজেকে ধন্যবাদ দেই কিন্তু লক্ষ করি আমার মুখ থেকে কোনো স্লোগান বের হয়ে আসে না। বরং আমি একটু একটু করে কমিশনার সাহেবের দিকে এগুতে থাকি। দেখি তিনি তাঁর ঠোঁটে একটা হাসি ঝুলিয়ে দিয়েছেন। মনে হলো তিনি একটু থমকে দাঁড়ালেন, হাত তোলার ভঙ্গী করলেন, সঙ্গে সঙ্গে স্লোগান আরো তীব্র হয়ে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। ততক্ষণে তিনি খাদের কাছাকাছি চলে এসেছেন, আমিও তার খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। সাগরেদগণ তাকে পাহারা দিয়ে আছেন, খুব কাছে যাওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে হচ্ছে। তিনি লাল কাপড় ডিঙিয়ে খাদের একদম কিনারে এসে দাঁড়ালেন, ঈষৎ ঝুঁকে তাকালেন খাদের গভীরে, বেশকিছুকাল তিনি কী যেন নিরীক্ষণ করলেন এবং সেখান থেকে মুখ তুলে আবার লাল কাপড় ডিঙিয়ে সরু রাস্তার মাঝখানে এসে দাঁড়ালেন, জনতার উদ্দেশে কিছু মুখ খোলার আগেই আমার মুখ ফস্কে বেরিয়ে পড়ে—
‘স্যার, একজন ভূতত্ত্ববিদকে খবর দিলে কেমন হয়?’
যেন তার মুখে কেউ এসিড ছুড়ে মেরেছেন এমনভাবে আমার দিকে তাকালেন, আমি বোকার মতো তার চোখের দিকে তাকাই, মনে হলো আগুনের গোলা,
‘পাগল নাকি, ভূতত্ত্ববিদ দিয়ে কি করবেন?’
‘মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে দেখা উচিত কীভাবে এখানে সামান্য একটা বৃষ্টিতে এতবড় একটা খাদ নির্মিত হয়ে পড়ল?’
‘নির্মিত’ শব্দটি মনে হলো তার মনে ধরেছে, তার দৃষ্টি নরম হয়ে এসেছে,
‘সে পরে দেখা যাবে।’
‘তাহলে স্যার নিদেনপক্ষে একজন আমিন ডাকা হোক।’
‘কেন, এটা কি জমি নিয়ে লড়াই নাকি?’
‘না স্যার, মাপজোখ করে তিনি দেখাতে পারতেন কতটা গভীর খাদ এবং কত হাত লম্বা দড়ির প্রয়োজন?’
‘আপনি চুপ করুন’ বলে তিনি আমাকে একটা ধমক দিলে আমি চুপ করে যাই এবং পিছু হটে আসি।
‘ভাইসব, আমি নিজের চোখে খাদ পরিদর্শন করলাম, কুকুরটিকে জীবিত তুলে আনা আমাদের মানবিক দায়িত্ব। আমাদের সরকার শুধু মানুষের নয়, সকল প্রাণীরও।’
সঙ্গে বিশাল হাততালিতে ফেটে পড়ে গোটা জমায়েত!
‘আমি কথা দিচ্ছি সড়ক মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে অতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে ফেলব, আপনারা ধৈর্য ধারণ করুন, নিজেরা কিছু করার চেষ্টা করবেন না। আমাদের সড়ক বিভাগ এবিষয়ে খুবই তৎপর এবং দক্ষ।’
সমস্ত জমায়েত যেন উল্লাসে ফেটে পড়ে। তিনি তার এক সাগরেদের দিকে বলেন—
‘এই রাস্তার ঠিকাদার কে?’
‘কালিমুল্লাহ, বস।’
‘কোন কালিমুল্লাহ?’
‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ভাগনা।’
‘যেই হোক, হেরে ফোন লাগা, এখানে এখনি আসতে বল।’
‘ঠিক আছে, বস।’
জনতা চুপ করে আছে, তারা সাহাবুদ্দিন আহমেদের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এবং ভাবছে খাদবিষয়ক জটিলতা কাটা এখন সময়ের ব্যাপার। আমিও আশ্বস্ত বোধ করতে থাকি, কমিশনারের সান্নিধ্য থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে আমার বাসার সামনে চলে আসি।
পাঁচ মিনিটের মাথায় আরো কয়েকটি হোন্ডা এসে দাঁড়ায়, আমি বুঝে ফেলি ঠিকাদার কালিমুল্লাহ এসে পৌঁছে গেছে। দেখলাম একজন প্রায় ৬ ফিট লম্বা এক যুবক কমিশনার সাহাবুদ্দিন আহমদের সামনে এসে দাঁড়াল, তার চোখে মুখে কোনো ভয়ডর নাই,
‘কি হয়েছে বস?’
‘আরে, তুমি, এসো এসো।’
কমিশনার সাহাবুদ্দিনের কণ্ঠে আদ্রতা, কালিমুল্লাহ কাছে গেলে তার ঘাড়ে একটা হাত রেখে সব ঘটনা খুলে বলেন।
‘বস, এটা কোনো ঘটনা, দমকল বাহিনীকে খবর দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়।’
‘দূর পাগল, এই রোডে কি দমকলের গাড়ি ঢুকবে?’
কালিমুল্লাহ হঠাৎ দমে যায়,
‘তাহলে?’
‘তুমি যে রাস্তা বানাইলা, ঠিকমতো মালমসলা দিছিলা? সামান্য একটা বৃষ্টিতে এতবড় একটা খাদ হয়ে গেল?’
‘কি বলেন বস, আমার কাজে কোনো ফাঁকিবাজি নাই, আপনি ইঞ্জিনিয়ারকে কল করেন।’
‘দায়িত্ব তো তোমার, ইঞ্জিনিয়ার কি করবে?’
‘সেই তো সব জানে, বস, আমি তো তার কথামতো টাকা দিয়ে গেছি।’
‘আচ্ছা, আমি দেখছি, আমি এখনি সড়ক মন্ত্রীকে ফোন করছি।’
‘সড়ক মন্ত্রী কি করবে?’
‘সে ভাবনা তোমার নয়, তুমি এখন যাও।’
‘হুমকি দিচ্ছেন বস, জানেন আমি কে? আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ভাগ্নে।’
সাহাবুদ্দিন কমিশনার এবার তার দিকে একটা গরম চোখের দৃষ্টি হানেন, কিন্তু কালিমুল্লাহ সেসবে ভ্রুক্ষেপ না করে ততক্ষণে তার হোন্ডায় চড়ে স্টার্ট দিয়ে ফেলেছে। কমিশনার এতে দারুণ ইন্সাল্টেড ফিল করেন কিন্তু সেটা জনতাকে বুঝতে দেন না।
‘ভাইসব, আমি সড়ক মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে কি করা যায় তার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটু পরেই ফিরে আসছি, আপনারা শান্ত থাকেন, নিজেরা কিছু করার চেষ্টা করবেন না’ বলেই তিনি তার সাগরেদগণসহ চলে গেলেন। জনতার মধ্য থেকে স্লোগান উঠল—’সাহাবুদ্দিন ভাই যেখানে আমরা আছি সেখানে।’

কমিশনার সাহেব চলে যাবার পর কুকুরকে তুলে আনার নিজেদের চেষ্টা উপস্থিত জনতা পরিত্যাগ করে। বাঁশ, দড়ি ইত্যাদি খাদের কিনারেই পড়ে রইল। ধীরে ধীরে লোকজন কমে এলো, এদিকে কুকুরের ডাকও ক্ষীণ হয়ে এলো, হয়তো সেখানে অক্সিজেন পর্যাপ্ত নাই, হয়তো তার দমবন্ধ হয়ে আসছে। আমিও নিজের ঘরে ঢুকে পড়ার জন্য পা বাড়াই।
কিন্তু ঘরে ঢুকে কি স্বস্তি আসে? গত পরশু রাতে দেখা কুকুরটির চেহারা ভাসতে থাকে। আমার মায়া লাগতে শুরু করে। কিন্তু কীভাবে তাকে উদ্ধার করা যায় কোনো উপায় খুঁজে পাই না। নীতুর সঙ্গে আলাপ করব ভাবতেই তার মুখের দিকে তাকিয়ে থমকে দাঁড়াই। আজ অফিসে যাব না জানিয়ে একটা ইমেইল করে দেই। আমি আধঘণ্টা পরেই বাসা থেকে আবার বেরিয়ে আসি।
খাদের কাছে আসতেই আমি অবাক হয়ে পড়ি, আগের সবলোক চলে যায়নি, বেশকিছু লোক নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল, এখন দেখি বেশকিছু অচেনা লোকের সমাবেশ ঘটেছে। শুধু তাই নয়, লাল কাপড়ের চারদিক ঘিরে পনেরো-বিশটা কুকুর এসেও জুটেছে! তারা কেউ কেউ ঘেউঘেউ করছে আর খাদের কিনারে গিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখছে, ছটফট করছে। দেখতে দেখতে ঘণ্টা পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সাহাবুদ্দিন কমিশনারের কোনো উদ্ধার দল এসে হাজির হয় না। উপস্থিত লোকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে শুরু করে। আমার ভেতরেও ক্রমশ রাগ তৈরি হতে থাকে। শুধু কুকুর উদ্ধার নয়, এই খাদও তো মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে, নইলে সাত নম্বর রোডের বাসিন্দারা বন্দি হয়ে পড়বে! যদিও বন্দি হয়ে পড়া কোনো নতুন ঘটনা নয়। তবে এই খাদের ঘটনা আগের যেকোনো ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। বৃষ্টিতে এমন খাদ সমতল এই অঞ্চলে একটি বিরল ঘটনা। একদিকে খাদ অন্যদিকে কুকুর এই দুইয়ে মিলে ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হয়ে উঠেছে। অথচ দায়িত্বপ্রাপ্তরা তেমন কোনো গা করছে বলে মনে হচ্ছে না। এটা পরিষ্কার যে দক্ষ লোক ছাড়া এর সমাধান করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে খাদের গভীর থেকে কুকুরটিকে জীবিত তুলে আনা। খাদ হয়তো মাটি দিয়ে ভরাট করা যাবে কিন্তু কুকুর?
দেখতে দেখতে আবার সাত নম্বর রোড লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠল। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, হয়তো কুকুরটি মারা যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছে গেছে। খাদের চারপাশে জড়ো হওয়া কুকুরগুলোও দেখছি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে! ওরা ক্রমাগত ঘেউঘেউ করে চলেছে। কোনো কোনটা খাদের মধ্যে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু দিচ্ছে না, পিছিয়ে আসছে। এমন সময় একজন আমার অচেনা যুবক কথা বলে ওঠে—
‘ভাইসব, আমরা বুঝে গেছি এই সমস্যার সমাধান আমাদের নিজেদেরই করতে হবে, সরকার এগিয়ে আসবে বলে মনে হচ্ছে না, দেখুন এত সময় চলে গেল তবু প্রত্যাশিত কারও কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না, আসুন, আমরা নিজেরাই চেষ্টা করি কুকুরটিকে তুলে আনতে। আপনারা কি মনে করেন কুকুরটি এখনো জীবিত আছে?’
প্রথমে নীরবতা, তারপর জনতা হইহই করে ওঠে। আমি বক্তার মুখের দিকে তাকাই, আগে কখনো দেখেছি বলে মনে পড়ছে না, একবার মনে হলো বহিরাগত নয় তো?
‘সেই ভালো, সেই ভালো’ জনতা চিৎকার করে উঠল। এই ফাঁকে আমি সেই ছেলেটির কানের কাছে গিয়ে বলে ফেলি—
‘কমিশনারের অফিসের সামনে একটা মানববন্ধন করলে কেমন হয়?’
ছেলেটি আমার দিকে তাকায়, কি যেন ভাবে তারপর জনতার উদ্দেশে বলে—
‘আমাদের এই বন্ধুটি একটা চমৎকার প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা কমিশনারের অফিসের সামনে একটা মানববন্ধন করতে পারি, বলুন পারি কি না?’
জনতা হইহই করে ওঠে, তারা বলতে থাকে এটা একটা ভালো প্রস্তাব, কারণ আমরা নিজেরা এই খাদ যেমন ভরাট করতে পারব না, কুকুরটিকেও তুলে আনতে পারব না, এটা সরকারের কাজ।’
কুকুরগুলি জোরে জোরে চিৎকার করে ওঠে, যেন তারা এক একটা খ্যাপা কুত্তা হয়ে গেছে, পাগলের মতো খাদের চারপাশে ছুটাছুটি করছে।
‘চলুন, আমরা কমিশনার অফিসের সামনে যাই’ বলে ছেলেটি সবাইকে লাইনে দাঁড়াতে বলল, বলামাত্র জনতা দুই লাইনে নিজেদের সাজিয়ে তুলল, আমিও একটি লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লাম, আমার নিজেকে নিয়ে সামান্য গর্ব হয়, কেননা এই রণকৌশলটি আমার মস্তিষ্কজাত! মিছিল চলমান হয়ে উঠল, ছেলেটি স্লোগান তুলল—
‘খাদ থেকে কুকুর’
জনতা উত্তর দিলো—
‘তুলতে হবে, তুলতে হবে।’
‘সরকারের আলসেমি।’
‘চলবে না, চলবে না।’
‘অতি দ্রুত খাদ ভরাট।’
‘করতে হবে, করতে হবে।’
আরো অসংখ্য স্লোগান নিমেষেই রচিত হয়ে পড়তে শুরু করল, মিছিল জমে উঠেছে, বড় রাস্তার দুপাশে শত শত লোক দেখছে, হাততালিতে ফেটে পড়ছে, কেউ কেউ যোগও দিচ্ছে।
যে ছেলেটি নেতৃত্ব দিচ্ছে আমি তার পাশে পাশেই হাঁটছি,
‘ভাইজান কি সরকারবিরোধী লোক?’
ছেলেটি এবার আমার দিকে গরম চোখে তাকাল, আমি ভয় পেয়ে গেলাম,
‘এখানে সরকারবিরোধিতার কি দেখলেন? আমরা কি ন্যায্য দাবি করছি না?’
আমি কোনো কথা বলা থেকে বিরত থাকলাম। আমার ভালো লাগছে যে একই ঘটনায় দুরকম জনতা দেখলাম। একদিকে সাহাবুদ্দিন আহমেদ, কমিশনার, সরকারি দলের স্থানীয় নেতা আর এই ছেলেটি, একে বলা যায় ইস্যু নেতা! অথবা কে জানে বগলের নিচে কোন ইট লুকানো!
দেখতে দেখতে মিছিল কিংবা মানববন্ধন কমিশনারের অফিসের সামনে এসে পড়ল, ইতোমধ্যে কখন যে কয়েক প্লাটুন পুলিশ এসে গেছে, বুঝতেই পারিনি, দেখি কমিশনারের অফিসের সামনে তারা নিশ্ছিদ্র ব্যারিকেড সাজিয়ে বসেছে। মিছিল ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করল না, ছেলেটি সবার উদ্দেশে বলে উঠল—
‘আমাদের উদ্দেশ্য একটাই সমস্যার সমাধান এবং দ্রুত। কারো সঙ্গে আমরা লড়াই করতে আসিনি।’
জনতা ‘ঠিক, ঠিক’ বলে সম্মতি জানাল। এরই মধ্যে কমিশনার সাহাবুদ্দিন আহমেদ তার অফিস থেকে বেরিয়ে এসেছেন, সঙ্গে সকালের সেই সাগরেদগণ। তিনি পুলিশের ব্যারিকেডের ফাঁক দিয়ে মিছিলের একদম কাছে চলে এলেন, আমি মনে মনে বললাম ‘নেতা বটে’! ইতোমধ্যে স্লোগান ওঠে—
‘অনতিবিলম্বে খাদের কুকুর’
‘তুলতে হবে, তুলতে হবে’
তিনি স্লোগানের মধ্যেই সেই ছেলেটির কাছে চলে এসে জানতে চাইলেন—
‘কি চাও তোমরা?’
‘আপনি সব জানেন, খাদ থেকে দ্রুত কুকুর তুলে আনতে হবে, খাদ ভরাট করতে হবে।’
‘তুমি কি ভাবছ আমি বসে আছি’ এই কথা বলে তিনি ফট করে ডিভাইডারের ওপর উঠে দাঁড়ালেন, ঠিক তখনই আমার চোখে তার চোখ পড়ে, দেখি ভ্রু কুচকে ওঠে সামান্য, আমি ভয় পেতে শুরি করি!
‘ভাইসব, আপনারা জানেন, আমি সরেজমিন ঘটনা পরিদর্শন করে এসেছি, আমি মন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেছি, তিনি আমাকে কথা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করে কি করা যায় তার একটা ব্যবস্থা জানাবেন, তিনি এখন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করছেন।’
‘প্রধানমন্ত্রী’ কথাটা শোনামাত্র জনতা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে, কিন্তু কমিশনার সাহাবুদ্দিন আহমেদ তাতে দমে যান না, বলতে থাকেন—
‘আপনারা জানেন এই সরকার গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য দেরি না করেই ঝাঁপিয়ে পড়েন, আপনারা সামান্য সময় অপেক্ষা করুন, সড়ক মন্ত্রী অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বেন।’
জনতা চিৎকার চেঁচামিচি করতে থাকে, স্লোগান দিতে থাকে। সাহাবুদ্দিন আহমেদ সেই ছেলেটির কাছে এসে কানে কানে কি যেন বলেন, তখন ছেলেটি জনতার উদ্দেশে বলে—
‘ভাইসব, আমাদের কমিশনার সাহেব কথা দিয়েছেন, চলুন আমরা খাদের কাছে গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করি।’
সঙ্গে সঙ্গে জনতা রাজি হয়ে পড়ে, তারা আবার সারিবদ্ধ হয়ে স্লোগান দিতে দিতে খাদের দিকে আসতে থাকে, কমিশনার সাহাবুদ্দিন আহমেদ তার অফিসে ঢুকে পড়েন দ্রুত তার দলবল নিয়ে।
মিছিলটি খাদের কাছাকাছি আসতেই ঘটে দিনের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা, পনেরো-বিশ নয়, এবার দেখি সেখানে জড়ো হয়েছে শত শত কুকুর, তারা মিছিলের দিকে পাগলের মতো ধাওয়া করতে থাকে, মিছিল নিমেষে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে, যে যেদিকে পারে দৌড়াতে শুরু করে।
সাত নম্বর রোড এখন কার্যত কুকুরদের দখলে।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন ৮ কবি ও লেখক

বার্তাকক্ষ বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২০২১ সালের সোনার বাংলা সাহিত্য পরিষদ আয়োজিত ‘এসবিএসপি সাহিত্য...

দুলাল বিশ্বাসের কবিতা: শেখ হাসিনা

বার্তাকক্ষ ত্রিশ লক্ষ নক্ষত্র দিয়ে আমরা বানিয়েছি, আমাদের নতুন আকাশ আকাশের ভেতরের আকাশে অনন্ত সূর্যের মতো...

এটা কোনো কবিতা নয়

বার্তাকক্ষ নয় ঘণ্টা আগেও মরিয়ম লিখেছিল আমি বিশ্বাস করি আমি আমার মাকে ফিরে পাব। দু-ঘণ্টা আগে মরিয়ম লিখেছে আমি...