Wednesday, October 5, 2022
হোম অর্থনীতিজ্বালানি তেল বিক্রিতে পাম্পের কারসাজি

জ্বালানি তেল বিক্রিতে পাম্পের কারসাজি

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে

কিছু উন্নয়ন প্রকল্প ধীর গতির কারণে জনভোগান্তি চরমে উঠেছে। এছাড়া অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি তো চলছে।...

সিলেটের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ কোচের ক্ষোভ

বার্তাকক্ষ শিরোপার স্বপ্ন নিয়েই নারী এশিয়া কাপে খেলছে বাংলাদেশ। তাও আবার ঘরের মাঠে। প্রথম ম্যাচ...

‘আপনারা হয়তো মনে করছেন আমি এক চোখ নিয়েই খেলতে পারব’

বার্তাকক্ষ ২০২৩ আইপিএল মৌসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুতে ফিরছেন, নিশ্চিত করলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। কিন্তু খেলোয়াড়...

অদ্ভুত কারণে দল থেকে বাদ পড়া আরও ৫ খেলোয়াড়

বার্তাকক্ষ টুর্নামেন্ট বা সিরিজের আগে চোটের কারণে খেলোয়াড়দের দল থেকে ছিটকে পড়ার ঘটনা নতুন কিছু...

বার্তাকক্ষ
প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আজাদের বড় মেয়ে মৌলি আজাদ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উপ-পরিচালক তিনি। পেট্রোলপাম্পে প্রতারিত হয়েছিলেন; পরে হাতে-নাতে পাম্পের জালিয়াতি ধরে ফেললেন। সহযোগিতা নেন জাতীয় পরিষেবা-৯৯৯-এর।
ঘটনার দিনের বর্ণনা জানিয়ে মৌলি আজাদ বলেন, ‘সোমবার পেট্রোল পাম্প থেকে এক হাজার টাকার তেল নিলাম। গাড়ির তেলের মিটারে এক দাগ শো করল। অথচ দুই দাগ দেখানোর কথা। সঙ্গে সঙ্গে যিনি তেল দিলেন তাকে ধরলাম। তিনি যুক্তি দিলেন- গাড়ি বন্ধ করে স্টার্ট দেন। গাড়ি চালালেই দাগ উঠবে। কিন্তু তা হলো না। বুঝলাম আমাকে ৫০০ টাকার তেল কম দিয়েছে।’
ফিলিং স্টেশন বা পেট্রোল পাম্পে যেকোনো ধরনের তেল (অকটেন-পেট্রোল-ডিজেল) কম দেওয়ার অভিযোগ বেশ পুরনো। ক্ষেত্রবিশেষে লিটারে প্রায় ১০০ মিলিলিটার পর্যন্ত কম দেওয়ার অভিযোগ আছে। এসব বন্ধে বিভিন্ন সংস্থা- যেমন বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও র‌্যাব পাম্পগুলোতে অভিযান চালায়। অভিযান জরিমানা বা সর্তকতায় সীমাবদ্ধ থাকে বলে আবার ঘটে তেল কম ও ভেজাল দেওয়ার ঘটনা।
বিশেষজ্ঞদের মত, পেট্রোল পাম্পগুলোর বড় চুরি ওজনে কম দেওয়া। ডিজিটাল মেশিনে গ্রাহক এটা ধরতেও পারেন না। তেলে ভেজাল ও ওজনে কম দেওয়ায় যদি তেল সরবরাহ বন্ধ ও লাইসেন্স বাতিল করা হতো তাহলে এই ধরনের অপরাধ কমে আসত।
পাম্প মালিক ভেজাল বা ওজনে কম দিয়ে যে পরিমাণ লাভ করছেন, সেই তুলনায় জরিমানার পরিমাণ সামান্য বলে মনে করেন পরিবহন খাতের কয়েকজন নেতা। তাই বারবার একই অপরাধ করার প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়া কেউ অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ায় আরও অনেকে এই কাজে উৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করেন তারা।
পাম্প থেকে তেল কম দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করছে না বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে এর সঙ্গে মালিকরা জড়িত নন বলে দাবি সংগঠনটির। তারা বলছে, ভোক্তাদের তেল কম দেওয়ার সঙ্গে কর্মচারীরা জড়িত। আর পাম্পগুলো নজরদারি করতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যে কমিটি আছে, তারা কোনো দিন মাঠে আসে না। যদিও কখনো যায়, তা আগেই জেনে যায় পাম্প কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিএসটিআইয়ের তথ্য বলছে, গেল তিন মাসে (এপ্রিল, মে, জুন) ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়েছে শতাধিক। এতে ১৬ লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয়। আর এ সময়ে সার্ভিল্যান্স বা নজরদারি করা হয় ১২৭টি পাম্প।
জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দুই হাজারের বেশি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত পদ্মা অয়েল কোম্পানি (পিওসিএল), যমুনা অয়েল কোম্পানির (জেওসিএল) এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের (এমপিএল) মাধ্যমে এসব পাম্পে তেল সরবরাহ করা হয়। এসব পেট্রোলপাম্পে কোথাও ডিজিটাল আবার কোথাও এনালগ মেশিনের মাধ্যমে গ্রাহক তেল পেয়ে থাকেন। অনেক সময় এসব মেশিন টেম্পারিং করে গ্রাহককে ওজনে ঠকানো হয়। আবার প্যাম্পগুলোতে তেলে ভেজাল মেশানোরও অভিযোগ আছে।
তেল কিনে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী মৌলি বলেন, ওই দিন যখন তিনি বুঝতে পারেন তার গাড়িতে তেল কম দেওয়া হয়েছে, তখন যিনি তেল দিয়েছেন তাকে ধরে জিজ্ঞাসা করেন। এসময় ৯৯৯-এর সহযোগিতা নেন মৌলি। অবস্থা বেগতিক দেখে তেল কম দেওয়ার কথা স্বীকার করে আবার ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হয়।
‘এ সময় পাম্পের লোকজনের চেহারা পাল্টে গিয়েছিল। আমি যদি না ধরতাম তাহলে এখানে তারা একটা দুর্নীতি করত।’ যোগ করেন এই ভুক্তভোগী।
কল্যাণপুরের মেসার্স সোহরাব সার্ভিস স্টেশন থেকে একদিন মোটরসাইকেলের জন্য অকটেন কেনেন মনিরুল ইসলাম। তার সন্দেহ হয় তাকে ওজনে তেল কম দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএসটিআইয়ে অভিযোগ করেন তিনি। পরে সংস্থাটি সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে অকটেন ইউনিটে ১০ লিটার তেলে ৪৮০ মিলিলিটার তেল কম দেওয়ার প্রমাণ পায় সংস্থাটি। ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সম্প্রতি একটি তেল পাম্পে অভিযানের ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা গেছে, পাম্পের তেল দেওয়ার মেশিন টেম্পারিং করে তেল কম দেওয়া হচ্ছিল। চোখের পলকে মেশিনের চাবি ঘুরিয়ে কারসাজি করে তেল কম দেওয়া হচ্ছিল। পাঁচ লিটার অকটেনে ৪০০ মিলিলিটার এবং পেট্রোলে এর বেশি পরিমাণ তেল কম পাচ্ছিল গ্রাহকরা। এ কারসাজিতে পাম্পটির ম্যানেজার সরাসরি জড়িত ছিলেন।
র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, ভেজাল আর নিম্ন মানের তেল সরবরাহের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প থেকে তেলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা বিএসটিআই পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তেলে ভেজাল এবং একই সঙ্গে মাপে কম।
এসব অভিযোগে র‌্যাবের পক্ষ থেকে অনেক পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যমে শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘তেল সরবরাহে ত্রুটিপূর্ণ থাকায় অনেক পেট্রোল পাম্পে অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব। অনেক সময় সতর্ক কিংবা জরিমানাও করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। আমরা পাম্পের কারসাজি রোধে নজরদারি রাখছি।’
জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাম্পগুলোতে ভেজাল এবং পরিমাপে কম দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মোবাইল কোর্ট মাঝে মধ্যে পরিচালনা করলেও নিয়মিত তদারকির অভাব রয়েছে। পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) যে নজরদারি করার কথা তারা তা করে না। এতে গ্রাহক প্রতারিত হন। অভিযানে দেখা যাচ্ছে, কেউ মাপে কম দিচ্ছেন, কেউ মেশাচ্ছেন ভেজাল। মোবাইল কোর্ট জরিমানা করলেও তাতে গ্রাহকের উপকার হচ্ছে না।
সূত্র বলছে, অনেক পাম্প মালিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে কম দামে কনডেনসেট কিনে তেলের মধ্যে মিশিয়ে বিক্রি করছে। এতে দুই ধরনের ক্ষতি হচ্ছে গ্রাহকের। প্রথমত, তিনি তেল পাচ্ছেন কম। দ্বিতীয়ত, ভেজালের কারণে ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে। তেলের পরিমাপ ঠিক রাখার জন্য ক্যালিব্রেশন করা হয়। এটি এমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে শুরুতে আদর্শমান যাচাই করে নেওয়া হয়। কিন্তু অনেক পাম্পে ক্যালিব্রেশনেও সমস্যা রয়েছে।
অপর একটি সূত্র বলছে, ওজন কম দেওয়া ও ভেজাল দেখভালের দায়িত্ব পালনের কথা বিএসটিআইয়ের। একসময় প্রতিষ্ঠানটিকে অনেক পাম্প ম্যানেজ করে রাখত। এজন্য তারা সেখানে অভিযান চালাত না।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে বিএসটিআই। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারা প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘প্রায় দেখছি পেট্রোল পাম্পগুলো ওজনে তেল কম দিচ্ছেন। সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর উচিত মাঝে মধ্যে তদারকি করা। এতে ভয়ে হলেও পাম্পগুলো তেল ওজনে কম দেওয়া ও ভেজাল দেওয়া বন্ধ রাখবে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, ‘পাম্পগুলোতে আমরা প্রায় অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে বেশির ভাগ সময় তেলে ওজন কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই অনুযায়ী আমরা সংশ্লিষ্ট পাম্পকে জরিমানা করি। আর তেলে ভেজালের অভিযোগ পেলে ল্যাবটেস্টের প্রয়োজন হয়। টেস্ট রিপোর্টে ভেজালের প্রমাণ মিললে আমরা জরিমানা করে থাকি।’
পাম্পগুলোতে এই ধরনের প্রতারণা নিয়ে নিজেরাই চিন্তিত বলে জানান বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক। তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা যেভাবে চাই, সরকার আমাদের সেভাবে সহযোগিতা করে না। আমাদের কাছে তো পাওয়ার নেই। আমরা বলব অমুক পাম্পে তেল নিয়ে কারসাজি করছে, কিন্তু সেখানে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তখন আমাদের মালিকদের মধ্যে ভূল বোঝাবোঝির আশঙ্কা থাকে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে একটা মনিটরিং সেল করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা আলোর মুখ দেখেনি।’
তেলে ভেজাল ও ওজন কম দেওয়া প্রতিরোধে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে কেউ প্রথমবার কারসাজি করলে তাকে সতর্ক করা; দ্বিতীয়বার একই কাজ করলে তার তেলের সরবরাহ কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখা এবং তৃতীয়বার ধরা পড়লে তার লাইসেন্স বাতিল করে দিতে হবে। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য চালক সুজন শিকদারকে (৩৪) হত্যার দায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড...

বুধবার পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকবে

বার্তাকক্ষ ঢাকা: শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই ও অপর বাজার...

সূচকের উত্থানে পুঁজিবাজারে লেনদেন চলছে

বার্তাকক্ষ ঢাকা: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)...