Friday, September 30, 2022
হোম অর্থনীতিডলার কারসাজির অভিযোগে ১১ প্রতিষ্ঠান সিলগালা

ডলার কারসাজির অভিযোগে ১১ প্রতিষ্ঠান সিলগালা

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

চাকরির নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করায় ৩ জন গ্রেফতার

শাহিনুর রহমান, পাটকেলঘাটা পাটকেলঘাটায় কোয়েষ্ঠ ফার্মা নামে একটি কোম্পানিতে চাকরি দেয়ার নাম করে ভুয়া কাগজপত্র...

মাত্র দু বছরে মৃত্যুর মুখে নদী : খরস্রোতা শোলমারি এখন ৩-৪ মিটারের সরু নালা

খুলনা সংবাদদাতা খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে শোলমারি নদী। এর স্রোত ও গভীরতা...

জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য দুর্নীতি দূর করতে হবে : বিভাগীয় কমিশনার

খুলনা সংবাদদাতা ‘তথ্য প্রযুক্তির যুগে জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হোক’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯...

তালায় দুধে ভেজাল প্রতিরোধ শীর্ষক আলোচনা

শিরিনা সুলতানা, তালা : সাতক্ষীরার তালায় সামাজিক সম্প্রীতি ও দুধে ভেজাল প্রতিরোধ শীর্ষক আলোচনা সভা...

বার্তাকক্ষ
অস্থির ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণ ও কারসাজি বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় ১১টি মানি একসচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। আজ দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ পরিদর্শন দল।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এরপরও ডলার নিয়ে কারসাজি হলে সংশ্লিষ্ট মানি এক্সচেঞ্জের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি করেছে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।খুব দ্রুতই দেশে ডলারের দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার মানি এক্সচেঞ্জ হাউজ, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও খোলাবাজার পরিদর্শন শুরু করে। আজ ছিল এই কার‌্যক্রমের দ্বিতীয় দিন। তদারকি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ রাজধানীর মতিঝিল, পল্টনসহ বেশ কিছু এলাকার মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১০টি দল।
অভিযান সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বুধবার বলেছিলেন, খোলাবাজারে এক ডলারের বিপরীতে দিতে হচ্ছে ১১২ থেকে ১১৪ টাকা, এমন খবর পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০টি দল মানি চেঞ্জার হাউজগুলোতে তদারকি চালাবে। ডলার সংরক্ষণ ও লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
আজ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয় বলে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র। এর মধ্যে রয়েছে ডিআইটি রোডের জেমস মানি এক্সচেঞ্জ। প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এটি সিলগালা করা হয়েছে।
মতিঝিলের দিলকুশার সুগন্ধা মানি এক্সচেঞ্জ, দোহার মানি এক্সচেঞ্জ, জামান মানি এক্সচেঞ্জ ও ওয়েলকাম মানি এক্সচেঞ্জের ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো রেজিস্টার পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে তাদের লাইসেন্স বাতিল করেছিল। কিন্তু উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে অনেক বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছিল। নয়া পল্টনে অবস্থিত বিজয় মানি এক্সচেঞ্জে অবৈধভাবে রাখা বিদেশি মুদ্রা থাই বাথ পাওয়া গেছে।পল্টনের ইস্টার্ন ইউনিয়ন মানি চেঞ্জিং ও ফয়েজ মানি এক্সচেঞ্জ লিমিটেডে পরিদর্শনকালে রেজিস্টারের তথ্যের সাথে কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্যের অমিল পাওয়া গেছে; দিলকুশার বুড়িগঙ্গা মানি এক্সচেঞ্জ, মিসা মানি এক্সচেঞ্জ, পল্টনের দেওয়ান মানি এক্সচেঞ্জে বিদেশি মুদ্রা ও দেশীয় মুদ্রার হিসাবে পার্থক্য পাওয়া গেছে বলে সূত্র জানায়।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ডলার নিয়ে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে উল্লেখ করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রপ্তানি আয় হ্রাস আর আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপ পড়েছে এই আন্তর্জাতিক মুদ্রার ওপর। তবে খুব শিগগির ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’
এদিকে আজ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি করা হয়েছে, কেউ অবৈধভাবে ডলার মজুত করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে কেউ অবৈধভাবে ডলার মজুত করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া জাল ডলার তৈরির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ব্যাংকখাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে ডলারের প্রবাহ বাড়া-কমা নির্ভর করে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে এ খাতে আয় অনেক কমে এসেছে। এ ছাড়া কারসাজির অভিযোগও আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি চলতে থাকলে কেউ আর কারসাজির সুযোগ পাবে না। তাতে দ্রুতই সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন তারা।
ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন মনে করেন, একটি গোষ্ঠীর মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার কারণে ডলারের বাজার অস্থির হয়েছে। তবে কোন গোষ্ঠী বাজার অস্থির করেছে তাদের নাম বলেননি তিনি।
আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বর্তমানে অচল বলে জানান সেলিম আর এফ হোসেন। বলেন, ‘এটাকে সচল করতে হবে। ডলার বাজারের চলমান অস্থিরতায় হয়তো কোনো প্রতিষ্ঠান সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। এ জন্য আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আস্থা বাড়াতে হবে। আমাদের মতো দেশে ডলারের বাজার একেবারে ফ্রি ফ্লোর করা সম্ভব না। তাই কিছুটা ম্যানেজ করতে হবে।’
আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার সচল, আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে বলে মনে করেন সেলিম আর এফ হোসেন।
এদিকে, বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিনই ডলার সরবরাহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার ৯৬ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে সংস্থাটি। এতে করে এদিন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত প্রতি ডলারের দাম ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা।
তবে খোলাবাজার ও ব্যাংকে এই দামে ডলার বিক্রি হচ্ছে না। গতকাল খোলাবাজারে ১০৯ টাকা এবং ব্যাংকে ১০৩ থেকে ১০৪ টাকায় ডলার বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করছে রাশিয়া

বার্তাকক্ষ রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার এই অঞ্চলগুলোকে...

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার এক বছরে ক্যাম্পে আরও ২৭ খুন

বার্তাকক্ষ কক্সবাজারের আশ্রয় ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার এক বছর পূর্ণ হলো বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর)।...

মহেশপুরে ৪০ পিচ সোনার বারসহ ১জন আটক

আব্দুস সেলিম, মহেশপুর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর সীমান্ত থেকে ৪০ পিচ সোনার বারসহ শওকত আলী...