Wednesday, October 5, 2022
হোম আজকের পত্রিকাঅভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হালচাল : রমরমা কমিশন বাণিজ্য

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হালচাল : রমরমা কমিশন বাণিজ্য

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে

কিছু উন্নয়ন প্রকল্প ধীর গতির কারণে জনভোগান্তি চরমে উঠেছে। এছাড়া অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি তো চলছে।...

সিলেটের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ কোচের ক্ষোভ

বার্তাকক্ষ শিরোপার স্বপ্ন নিয়েই নারী এশিয়া কাপে খেলছে বাংলাদেশ। তাও আবার ঘরের মাঠে। প্রথম ম্যাচ...

‘আপনারা হয়তো মনে করছেন আমি এক চোখ নিয়েই খেলতে পারব’

বার্তাকক্ষ ২০২৩ আইপিএল মৌসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুতে ফিরছেন, নিশ্চিত করলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। কিন্তু খেলোয়াড়...

অদ্ভুত কারণে দল থেকে বাদ পড়া আরও ৫ খেলোয়াড়

বার্তাকক্ষ টুর্নামেন্ট বা সিরিজের আগে চোটের কারণে খেলোয়াড়দের দল থেকে ছিটকে পড়ার ঘটনা নতুন কিছু...

হারুন-অর-রশীদ, অভয়নগর :

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে ৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে হাসপাতাল গেটেই ৮টির অবস্থান। কোন রকম বাছ-বিচার ছাড়াই এসব ডায়গনস্টিক সেন্টার পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিশেষভাবে ‘ম্যানেজ’ হয়ে এগুলোর অনুমোদন দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তরা। এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এসব ডায়গনস্টিক সেন্টারের মালিকানার অংশীদার।
স্থানীয়রা জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বিশেষ দূর্বলতার কারণে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। নাম মাত্র অভিযান পরিচালনা হলেও ছোট খাটো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপরই নেমে আসে যত খড়গ। যেসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের সাথে স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতনকোন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা থাকে বা হাসপাতালের কোন চিকিৎসকের ‘পার্টনারশিপ’ রয়েছে সেখানে অভিযানের নামে চলে ‘আইওয়াশ’।

স্থানীয়দের দাবি, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কষ্টার্জিত টাকা লুটে নিচ্ছেন। সেবার নামে অনেকটা কষাইয়ে পরিণত হয়েছেন। এক সময় নওয়াপাড়ার প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো ছিলো সবচেয়ে বড় কসাইখানা। আর এখন প্রাইভেট ক্লিনিক টপকে সেই স্থান দখল করে নিয়েছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বেপরোয়া অবস্থানের পেছনে রয়েছে হাসপাতালের চিকিৎসকদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডায়াগানস্টিক সেন্টারগুলোর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কোন কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কেউ কেউ সরাসরি ব্যাবসায়িক পার্টনার। আবার কোন কোন স্বনামধন্য চিকিৎসকের রয়েছে বিনা ইনভেস্টের পার্টনারশিপ। কেউ কেউ হয়েছেন সরাসরি মালিক।
এছাড়া কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হাসপাতালের চিকিৎসকদের রোগী দেখার চেম্বার রয়েছে। সেখানে রোগী দেখে চিকিৎসকরা আয় করে নিচ্ছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। ডায়গনস্টি সেন্টারের মালিকরাও চিকিৎসদের পাশপাশি বিপুল অংকের অর্থ হাতাচ্ছেন।
চিকিৎসকদের ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংশ্লিষ্টতার কারনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে চরম অব্যবস্থাপনা। প্রয়োজনের বাইরে রোগীদের করানো হচ্ছে হাজার হাজার টাকার টেস্ট। জ্বর, সর্দি, কাশি, পেট ব্যাথা, মাথা ব্যাথা কোমর ব্যাথাসহ যেকোন ছোট-খাটো সমস্যায় হাসপাতালে আসলে চিকিৎসকরা রোগীদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন ২ থেকে ১০ হাজার টাকার টেস্ট। আবার কোন কোন চিকিৎসক যে কোন রোগীকে কিছু কমন টেস্ট ধরিয়ে দিচ্ছেন। হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, দু’জন চিকিৎসক রয়েছেন যারা হাসপাতাল গেট সংলগ্ন দু’টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার করেন। রোগী গেলেই তারা ২ থেকে ৫ হাজার টাকা টেস্ট ধরিয়ে দেন। যার মধ্যে প্রতি রোগীর টেস্টের তালিকায় দেখা গেছে ইলেক্ট্রলাইট টেস্ট। জ্বর, মাথা ব্যাথা, সর্দি, কাশি যাই হোক না কেন। ইলেক্ট্রলাইট টেস্ট বাধ্যতামূলক।
সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার এক্তারপুর গ্রামের আবুল হাসান অসুস্থ্য অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসক তাকে এক্সরেসহ বেশ কিছু টেস্ট করতে বলেন। তিনি হাসপাতাল গেট সংলগ্ন তার এক আত্মীয়ের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করাতে যান। কিন্তু এক্সরেসহ অন্যন্য টেস্ট করিয়ে কোন কিছু না পাওয়ায় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক তার আত্মীয় আবুল হাসানকে ডেঙ্গু টেস্টের পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক ডেঙ্গু টেস্ট করলে তার ডেঙ্গুজ্বর ধরা পড়ে। পরে তাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এমন ঘটনা অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিত্যদিনের। এ হাসপাতালে আসা রোগীরা চিকিৎসকদের এই টেস্ট বাণিজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ আছে কোন কোন চিকিৎসক ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মাসে লাখ টাকা কমিশন তোলেন। তদন্ত করলে এটির সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে সূত্র দাবি করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আক্ষেপ করে বলেন, কোন আত্মীয় স্বজন আসলে বা কারও অনুরোধে কেবলমাত্র খরচের টাকা নিয়ে টেস্ট করিয়ে দিলে চিকিৎসকরা নাখোশ হন। পরবর্তীতে আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট ওই চিকিৎসক আর দেখতে চান না। উল্টো রোগীদের বকাঝকা করেন। সম্প্রতি টেস্ট বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে দু’জন চিকিৎসককে অনত্র বদলী করলেও শীর্ষ জনপ্রতিনিধিদের ফোনের কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাহমুদুর রহমান রিজভী বলেন, হঠাৎ করেই হাসপাতাল গেটে এতো বেশি ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে যে ডাক্তারদের নৈতিকতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোভের ফাঁদে পড়ে নৈতিকতার অবক্ষয় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে অভয়নগরবাসীকে মূল্য দিতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহেদুজ্জামান অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, এসকল বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে গেলে আমাকেই বিভিন্নভাবে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

মাতৃপূজা

সুন্দর সাহা মা দুর্গা জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতা। তিনি এক কিন্তু বিভিন্নরূপে প্রকাশমানা। ব্রহ্মাদি দেবগণ তাঁর স্বরূপ...

এক জনমেই জন্মান্তর

ড. পরেশ চন্দ্র মণ্ডল : জন্মান্তরবাদ’ হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান ধারণ স্তম্ভ (জন্মান্তরবাদ ও কর্মফল ওতোপ্রোতভাবে...

মা গো আনন্দময়ী

শ্রী তিলককান্তি সেন দুর্গাপূজা তথা দুর্গোৎসবের আবেদন। বাঙালি হিন্দুর সমাজজীবনে চিরকালীন। তা সে যেখানেই থাকুক...