Friday, September 30, 2022
হোম সম্পাদকীয়আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বাড়ুক

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বাড়ুক

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করছে রাশিয়া

বার্তাকক্ষ রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার এই অঞ্চলগুলোকে...

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার এক বছরে ক্যাম্পে আরও ২৭ খুন

বার্তাকক্ষ কক্সবাজারের আশ্রয় ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার এক বছর পূর্ণ হলো বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর)।...

মহেশপুরে ৪০ পিচ সোনার বারসহ ১জন আটক

আব্দুস সেলিম, মহেশপুর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর সীমান্ত থেকে ৪০ পিচ সোনার বারসহ শওকত আলী...

ডিমের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা, দাম কেন ১৩: কৃষিমন্ত্রী

বার্তাকক্ষ ফার্মের মুরগির ডিমের উৎপাদন খরচ ৫ থেকে ৬ টাকা বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।...

বার্তাকক্ষ
অর্থনীতি ও উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলার খবর পুরনো। চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। ব্যবসা পরিচালনার নামে দেশের তফসিলি ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়ে হজম করে ফেলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। প্রায় প্রতিটি ব্যাংকে আর্থিক দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারণে এ খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যেই খেলাপি ঋণ ছাড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার অঙ্ক। এ বিশাল অঙ্কের ঋণখেলাপির মূলে রয়েছে বিভিন্ন রকমের জালিয়াতি। ব্যাংক খাতেই দেশের বড় বড় অপরাধগুলো সংঘটিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। ঋণ জালিয়াতির মামলায় ইসলামী ব্যাংকের চার কর্মকর্তার জামিন শুনানিকালে গত মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণটি গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ব্যাংকিং খাতের টাকা জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের আমানত, তাই এ খাতের দুর্বৃত্তদের কোনো ধরনের ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই। জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে রাজনৈতিকভাবেই পরিবর্তন আসে। এতে ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব তো রয়েছেই, এছাড়া কোটি কোটি টাকা লেনদেন ছাড়া এমডি ও সিইও নিয়োগ হয় না। নিয়োগের পেছনে যারা টাকা ব্যয় করে তারা মূলত কোটি কোটি টাকার ঋণখেলাপি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক দলের নেতারা আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ব্যাংকের পরিচালকরা অনেক সময় প্রভাব বিস্তার করে ঋণ অনুমোদন করে। অনেক সময় যথাযথ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান না করে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান করা হয়। এসব ঋণ সময়ের ব্যবধানে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। দেশের আর্থিক খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে সোনালী ব্যাংকের হাত ধরে। হলমার্কের অনুকূলে দেয়া ঋণকে ঋণ বলছেন না সাবেক ও বর্তমান ব্যাংকাররা। তারা এটিকে বলছেন ঋণ দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার নাটক। এছাড়াও বিসমিল্লাহ গ্রুপ, অ্যাননটেক্স, এসএ গ্রুপ, নূরজাহান, অলটেক্স, সানমুন গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি অন্যতম। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির এবং সমৃদ্ধির উজ্জ্বল চিত্র আমাদের উল্লসিত করলেও সব উচ্ছ¡াস থেমে যায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির অঙ্ক দেখলে। এ বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই সচেতন এবং ওয়াকিবহাল। বিষয়টি সবাইকে বিব্রত করে, এ নিয়ে সরকারি বিভিন্ন মহলে এবং ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দারুণ অস্বস্তি রয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া অর্থ আত্মসাৎ সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে হলে প্রথমেই ঋণখেলাপিসহ প্রতিটি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তা-পরিচালকদের সাজা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের সম্পদ জব্দ করে জনগণের শ্রম-ঘামের আমানত উদ্ধার করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে যেন রিকভারি এজেন্টরা জিম্মি হয়ে না পড়ে সেদিকেও গভীর মনোযোগ দিতে হবে।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

দুর্ঘটনা কি আমাদের অনিবার্য নিয়তি

আবারো নৌকাডুবি, প্রাণহানি ও যাত্রী নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া...

পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজুন

নানা কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। রোহিঙ্গা সংকট একটি আন্তঃসীমান্ত এবং আঞ্চলিক সমস্যা।...

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্ক থাকুন

দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত কয়েক দিন ধরে দেশে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের খবর গণমাধ্যমে...