Thursday, October 6, 2022
হোম আজকের পত্রিকাইউপি সদস্য আশানুজ্জামান বাবলু হত্যাকান্ড : প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মাস্টারমাইন্ডরা অধরাই থেকে যাবে...

ইউপি সদস্য আশানুজ্জামান বাবলু হত্যাকান্ড : প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মাস্টারমাইন্ডরা অধরাই থেকে যাবে ?

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে

কিছু উন্নয়ন প্রকল্প ধীর গতির কারণে জনভোগান্তি চরমে উঠেছে। এছাড়া অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি তো চলছে।...

কেশবপুরে কৃষকলীগের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন

সোহেল পারভেজ, কেশবপুর কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন পূজা ম-প পরিদর্শন করেছেন কৃষকলীগে নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার সংগঠনের উপজেলা,...

দেবহাটায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদ্যাপন

দেবহাটা প্রতিনিধি : ‘সময়ের অঙ্গীকার কন্যা শিশুর অধিকার’ প্রতিপ্রাদ্য নিয়ে দেবহাটায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদ্যাপন...

শার্শায় ভুল মানুষের দ্বারা রাজনীতি পরিচালিত হওয়ায় প্রকৃত নেতাকর্মীরা অত্যাচার জুলুম নির্যাতনের শিকার : আশরাফুল আলম লিটন

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল...

সুন্দর সাহা :

যশোর জেলার শার্শার বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আশানুজ্জামান বাবলু (৪৮) হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ডরা প্রভাবশালী বলে কি সবাই অধরাই থেকে যাবে? এমনিতেই মামলাটি দায়েরের আগেই ‘বিশেষ ব্যবস্থায়’ সংশ্লিষ্ট থানাকর্তা যার বারো বাজিয়ে দিয়েছেন। অন্ততঃ চারবার মামলাটি কাটাছেড়া করা হয়েছে বলে অভিযোগ বাবলুর পরিবারের।

অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের বদান্যতায় বিএনপি ঘরানার একনেতার ভগ্নিপতি হিটার তৌহিদকে হুকুমের আসামি বানিয়ে দেয় পোর্ট থানা পুলিশ। অথচ র‌্যাবের অভিযানে আটক আশানূর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। যাতে সে জানায়, ‘তৌহিদসহ তারা সকলেই হিটার’। সবাই বাবলুকে কুপিয়েছে। কিলিং মিশনে কে কি করেছে তার বিস্তারিত বেরিয়ে আসে ওই জবানবন্দিতে। এর কয়দিন পরেই বিএনপি ঘরানার সেই নেতার সহযোগিতায় হিটার তৌহিদ এবং তার সহোদর ইলিয়াস হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডর মাস্টারমাইন্ডদের তালিকায় তার নাম আছে কিনা সেটা অবশ্য জানা যায়নি। তবে, বকুল নামে আরেক হিটার ধরা পড়ে বেনাপোলে পোর্ট থানায়। বকুলকে গ্রেফতারের পর একজন চেয়ারম্যান ৩০০/৪০০ অনুসারি নিয়ে আসে তাকে ছাড়াতে। এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই মামলার তৎকালীন আইও প্রতিদিনের কথাকে বলেন, ‘বকুলকে গ্রেফতারের পর গোগা ইউপির চেয়ারম্যান তবিবর রহমানের নেতৃত্বে ৩/৪শ লোক থানায় আসে তাকে ছাড়াতে। বকুলকে ছাড়ানোর ওই চেয়ারম্যানের কি স্বার্থ সেটাও জানা যায়নি। এই হত্যাকান্ডর মাস্টারমাইন্ডদের তালিকায় তার নাম আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

ডিবি পুলিশের অভিযানে আটক হয় লুৎফর, আব্দার এবং কলিম। যার মধ্যে লুৎফর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। যাতে সে এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কয়েকজন মাস্টারমাইন্ডের নাম বলেছে। আদালতে লুৎফরের দেয়া জবানবন্দিতে বাবলু হত্যাকান্ডের নেপথ্যের মূল মাস্টারমাইন্ডের নাম বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। যার মধ্যে উলাসী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সীমান্তের খুনিদের গুরুখ্যাত আয়নাল হক এবং সীমান্তের চোরাচালান স¤্রাজ্যের গাং লিডার খ্যাত গোগার ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান তবিবর রহমান ওরফে তবি অন্যতম বলে জানা গেছে। এদিকে বাবুলের পারিবারিক সূত্র জানায়, ৩০ মে’র জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠান নিয়ে নিয়ে মেম্বার আশানুজ্জামান বাবলুর সাথে কামরুল নাম করে একজনের দ্বন্দ্ব হয়। কামরুল এবং বাবলুকে নিয়ে বিষয়টি মিমাংসায় বসেন নাভারণে বিএনপি এবং যুবদলের কয়েকজন নেতা। তারা মিমাংসা করেও দেন। কিন্তু এই মীমাংসায় কামরুল সন্তুষ্ঠ হতে পারেনি। বাবলুকে সরিয়ে দেয়ার জন্য খুনিদের সাথে হাত মেলায়। প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পনা করে। যার জের ধরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কামরুল এই হত্যা মিশন সফলে তৌহিদ, হাকিম এবং শাহাবাজের সাথে চুক্তি করেছে কিনা সেটিও তদন্তের দাবি রাখে। মাস্টারমাইন্ডদের তালিকায় তার নামটি আছে বলেই মনে করেন নিহতের পরিবার। এই হত্যা মিশনে কামরুল সহযোগিতা নেয় একজন বর্তমান এবং দুইজন সাবেক চেয়ারম্যানের। বাবলুসহ এই তিন বর্তমান এবং সাবেক চেয়ারম্যানকে মাস্টারমাইন্ডের তালিকায় রেখে তদন্ত করলেই বেরিয়ে পড়বে অনেক অজানা রহস্য। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই কিলিং মিশনের নেপথ্য হোতা তথা মাস্টারমাইন্ডের পক্ষে তদবির মিশনে নেমেছেন একজন শীর্ষ জনপ্রতিনিধি। তিন দফা তিনি ডিবি এবং জেলা পুলিশ উধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তদবির করেছেন। আর সে কারনেই প্রশ্ন উঠেছে, বাবলু হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ডরা প্রভাবশালী বলে কি সবাই অধরাই থেকে যাবে?

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন রাতে ইউপি মেম্বার আশানুজ্জামান বাবলু বালুন্ডা বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসে গল্প করছিলেন। এসময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তৌহিদ-ইলিয়াস-লুৎফর-বকুল-হাকিম-শাহাবাজ ও আশানুরের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা এসে প্রথমে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। উপস্থিত লোকজন ছত্রভঙ্গ হলে মেম্বার বাবলুকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। প্রকাশ্যেই চলে চিহ্নিত দুর্বৃত্তদের এই হত্যাযজ্ঞ। শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার বালুন্ডা বাজারে আলার দোকানের সামনে তৌহিদুর ও ইলয়াসের নেতৃতে¦ চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ। বাবলু মহিষাকুড়া গ্রামের রাহাজান মোল্লার ছেলে। তিনি ৮নং বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ছিলেন। ইউপি মেম্বার আশানুজ্জামান বাবলু হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার পিতা রাহাজান আলী মোল্যা বাদি হয়ে ১৩ জনকে জ্ঞাত এবং ৮/৯জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

কেশবপুরে কৃষকলীগের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন

সোহেল পারভেজ, কেশবপুর কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন পূজা ম-প পরিদর্শন করেছেন কৃষকলীগে নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার সংগঠনের উপজেলা,...

দেবহাটায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদ্যাপন

দেবহাটা প্রতিনিধি : ‘সময়ের অঙ্গীকার কন্যা শিশুর অধিকার’ প্রতিপ্রাদ্য নিয়ে দেবহাটায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদ্যাপন...

শার্শায় ভুল মানুষের দ্বারা রাজনীতি পরিচালিত হওয়ায় প্রকৃত নেতাকর্মীরা অত্যাচার জুলুম নির্যাতনের শিকার : আশরাফুল আলম লিটন

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল...