Friday, September 30, 2022
হোম আজকের পত্রিকাবেনাপোলের আ.লীগ নেতা ইবাদত হত্যা মামলা : সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে চার্জশীটভুক্ত কিলাররা

বেনাপোলের আ.লীগ নেতা ইবাদত হত্যা মামলা : সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে চার্জশীটভুক্ত কিলাররা

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করছে রাশিয়া

বার্তাকক্ষ রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার এই অঞ্চলগুলোকে...

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার এক বছরে ক্যাম্পে আরও ২৭ খুন

বার্তাকক্ষ কক্সবাজারের আশ্রয় ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার এক বছর পূর্ণ হলো বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর)।...

মহেশপুরে ৪০ পিচ সোনার বারসহ ১জন আটক

আব্দুস সেলিম, মহেশপুর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর সীমান্ত থেকে ৪০ পিচ সোনার বারসহ শওকত আলী...

ডিমের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা, দাম কেন ১৩: কৃষিমন্ত্রী

বার্তাকক্ষ ফার্মের মুরগির ডিমের উৎপাদন খরচ ৫ থেকে ৬ টাকা বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।...

বিশেষ প্রতিবেদক :
বেনাপোলের চাঞ্চল্যকর আওয়ামী লীগ নেতা ইবাদত হত্যা মামলার সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে চার্জশীটভুক্ত কিলাররা। কেউ টেলিফোনে, কেউ বাড়িতে-বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে বলে বাদির পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আসামিদের মাইক্রোতে করে সাক্ষীদের কোর্টে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। তাদের নির্দেশ মোতাবেক সাক্ষী না দিলে পরে সমস্যা হতে পারে বলেও হুমকি দিচ্ছে। লাগাতার এই হুমকির কারণে স্বাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ন্যায় এবং সুষ্ঠ বিচারের স্বার্থে চার্জশীটভুক্ত আসামিদের জেলকাস্টডিতে নিয়ে বিচার কাজ পরিচালনার দাবি করেছেন বাদি পক্ষ।
যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বেনাপোলের চাঞ্চল্যকর ইবাদত হত্যা মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। গত ৮ আগষ্ট দুই জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আর তাতেই হৃৎপি-ে কাঁপন ধরেছে চার্জশীটভুক্ত কিলারদের। স্বাক্ষ্য গ্রহণের আগামি দিন ধার্য্য হয়েছে ২৯ ও ৩০ আগষ্ট। তার আগেই শুরু হয়েছে সাক্ষীদের হুমকি এবং ভয়ভীতি দেখানো। কেউ মোবাইলে আবার কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিচ্ছে বলে বাদি পক্ষের অভিযোগ। বিশেষ করে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার মূল আসামি মাহাতাব উদ্দিন ওরফে খোড়া মাহাতাব। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষায় যে বেনাপোল বন্দরের আলোচিত তুলা চোর সিন্ডিকেটের হোতা হিসেবে খ্যাত ‘কিলার ভাগ্নে মন্টু’ নামে পরিচিত এই হত্যাকান্ডের আরেক মূল আসামি জুলফিকার আলী মন্টু এবং এই চক্রের আরেক মূল হোতা অহিদুজ্জামান অহিদসহ চার্জশীটভুক্ত আসামিরা। দুর্বল সাক্ষীদেরকে চার্জশীটভুক্ত সবল কিলাররা যেভাবে লাগাতার হুমকি ও ভয়ভীতির দেখাচ্ছে তাতে মামলার ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে বাদি এবং সাক্ষীদের মাঝে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সাক্ষী বাদি পক্ষকে জানান, প্রথমে তাদের মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়া হয়েছে। তারপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঠান্ডা মাথায় নরম সুরে প্রত্যক্ষ হুমকি দেয়া হচ্ছে সাক্ষীদের। প্রথমে নরম সুরে কোর্টে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কখনও বেনাপোল বন্দরের আলোচিত তুলা চোর সিন্ডিকেটের হোতা হিসেবে খ্যাত ‘কিলার ভাগ্নে মন্টু’ নামে পরিচিত জুলফিকার আলী মন্টু, কখনও চার্জশীটভূক্ত কিলার মাহাতাব উদ্দিন ওরফে খোড়া মাহাতাব, আবার কখনও কখনও অহিদুজ্জামান অহিদসহ চার্জশীটভূক্ত কয়েকজন আসামি এই অপতৎপরতা চালাচ্ছে। সাক্ষী দিলে পরে সমস্যা হতে পারে বলেও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতেও যখন কাজ হচ্ছে না, তখন বেছে নেয়া হয়েছে অন্য পথ। তাদের নির্দেশের বাইরে কেউ স্বাক্ষী দিতে চাইলে তাদেরকে চার্জশীটভুক্ত কিলারদের মাইক্রোতে করে কোর্টে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে বেনাপোলের মৃত রবিউল হোসেনের পুত্র আওয়ামী লীগ নেতা ইবাদত হোসেনকে বেনাপোল বন্দরের আলোচিত তুলা চোর সিন্ডিকেটের হোতা হিসেবে খ্যাত ‘কিলার ভাগ্নে মন্টু’ নামে পরিচিত জুলফিকার আলী মন্টুর গাড়িতে করে অপহরণ করে মারপিট করা হয়। মাহাতাব উদ্দিন ওরফে খোড়া মাহাতাব, তুলা চোর সিন্ডিকেটের হোতা হিসেবে খ্যাত ‘কিলার ভাগ্নে মন্টু’ নামে পরিচিত জুলফিকার আলী মন্টুর নেতৃত্বে গাড়ির মধ্যে ইবাদতকে বেপরোয়া মারপিট করে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। মৃত ভেবে তারা যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের বাগআঁচড়া এলাকায় ফেলে দিয়ে যায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। গত ২১ এপ্রিল ২০১৪ তারিখ রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ নেতা ইবাদত হোসেন (৪৮) মারা যান। এ বিষয়ে গত ২৩/৪/২০১৪ সালে নিহতের ভাই জাকির হোসেন বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু একজন শীর্ষ জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে মামলার তদন্ত থমকে যায়। পরে তৎকালীন পুলিশের তদন্তকর্তার পরামর্শে মামলাটির তদন্তের জন্য র‌্যাবে আবেদন করে বাদি পক্ষ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে র‌্যাব-৬ খুলনার তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার জাকির হোসেন চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার মূল আসামি মাহাতাব উদ্দিন ওরফে খোড়া মাহাতাব, বেনাপোল বন্দরের আলোচিত তুলাচোর সিন্ডিকেটের হোতা ‘কিলার ভাগ্নে মন্টু’ নামে পরিচিত জুলফিকার আলী মন্টু এবং অহিদুজ্জামান অহিদসহ ১০ জনকে আসামি করে চার্জশীট দাখিল করেন। অভিযোগ পত্র নং-৮৪, তারিখঃ-০৫/০২/২০১৮ইং।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

যশোরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :  যশোরে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ২৮ বোতল ফেনসিডিল ও ১শ ৫ পিস...

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ৭৬ তম জন্মদিন উপলক্ষে যশোর আ.লীগের দোয়া অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : বুধবার সকালে যশোর শহরের গাড়িখানা রোডস্থ জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী...

বাংলাদেশ এখন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি: এমপি নাসির

নিজস্ব প্রতিবেদক, চৌগাছা : যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অবঃ) অধ্যাপক...