Friday, October 7, 2022
হোম আজকের পত্রিকাকৃষক-কৃষি বিভাগের দুই রকম বক্তব্য : আমন চারার সংকট দাম চারগুণ

কৃষক-কৃষি বিভাগের দুই রকম বক্তব্য : আমন চারার সংকট দাম চারগুণ

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২৪০

বার্তাকক্ষ দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বাড়ছে মৃত্যুও। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত...

ব্যায়াম করার সঠিক সময় কখন?

বার্তাকক্ষ ব্যস্ততা আমাদের জীবনে এভাবে জড়িয়ে রয়েছে যে মাত্র একঘণ্টা সময় খুঁজে বের করাও কঠিন।...

নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া এদেশে নির্বাচন হবে না: টুকু

বার্তাকক্ষ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখেছি— আওয়ামী...

ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যাকবোন হিসেবে কাজ করছে ইন্টারনেট

বার্তাকক্ষ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটালাইজেশনের ফলে বাংলাদেশের অভাবনীয় রূপান্তর হয়েছে। স্বাস্থ্য-শিক্ষা,...

সালমান হাসান :
অনাবৃষ্টির কারণে মৌসুমের শুরুতে যশোরে চাষিদের অনেকেই সময়মত আমন চারা রোপণ করতে পারেননি। তাই শেষ সময়ে এসেও এখনো অনেকে মাঠে আমনের চারা বুনছেন। কিন্তু চারার সংকটসহ অতিরিক্ত দাম তাদের ফেলেছে বিপাকে। ক্ষেত প্রস্তুত রয়েছে, তবে চারা মিলছে না। আবার মিললেও দাম গতবারের চেয়ে তিন থেকে গুণ চার গুণ। আবাদ মৌসুমের শেষভাগে এসে এক বিঘা জমির আমন চারার দাম ২০০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। ফলে ডিজেল, সার ও অন্যান্য উপকরণের মত চারার দামেও নাজেহাল কৃষক।
তবে যশোরের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের দেয়া তথ্য বলছে এর ঠিক উল্টোটা। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জেলায় এবার আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৭ হেক্টর। ইতিমধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭০ জমিতে আমন চারা রোপণ হয়েছে। শতকরা হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ ভাগ জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন। সূত্র আরো জানায়, আট উপজেলায় ৬৮৫৬ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়। তার চেয়েও বেশি পরিমাণ জমি ৭৮১৮ জমিতে বীজতলা তৈরি করেন চাষিরা। সেই অর্থে চারার কোন সংকট নেই।
তবে কৃষকদের ভাষ্য পুরোপুরি ভিন্ন। তাদের দাবি, ভরা বর্ষায় বৃষ্টি না থাকায় অনেকে দেরিতে আবাদে নেমেছেন। এছাড়া যারা পাট চাষ করেন তারা বরাবরই মৌসুমের শেষ দিকে এসে আমনের চারা লাগান। অন্যবারের মত এবারও পাট কাটার পরপরই আমন আবাদের জন্য জমিতে চাষ দিয়েছেন। কিন্তু চারার অভাবে মাঠ খালি পড়ে রয়েছে। আবার চারা মিললেও দাম বিগত দিনের তুলনায় তিন চার গুণ বেশি।
যশোর সদরের মাহিদিয়ায় হরিণার বিলে প্রত্যেক মৌসুমে ধানের আবাদ করেন কৃষক তপন সরকার। তিনি জানান, এবারও ৩ বিঘা জমি আমন আবাদের জন্য প্রস্তুত করেন। কিন্তু মৌসুমের শেষভাবে এসে আবাদে নেমে চারার সংকটে পড়েছেন। তিনি বলেন, ২ বিঘা জমিতে চারা বুনেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ২০০০ টাকা। একেক বিঘা জমির ধানের চারার দাম পড়েছে ৪০০০ টাকা। কিন্তু বাকি এক বিঘা জমির জন্য চারা পাচ্ছেন না। আর পাওয়া গেলেও যে দাম হাকা হচ্ছে সেই দামে চারা কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন, গতবার এক বিঘা পরিমাণ জমির আমন চারার দাম পড়েছিলো ৫০০ টাকা। সেই চারার দাম এবার চারগুণ, ২০০০ টাকা। তারপরও চারা পাওয়া যাচ্ছে না।
গত শুক্রবার হরিণার বিলের কালাবাগায় অবস্থান করে দেখা যায়, চাষিরা দূরদুরান্ত থেকে বাঁশের তৈরি ‘বাক’-এ বয়ে কাঁধে করে আমনের চারা নিয়ে আসছেন। আলাপচারিতায় কৃষ্ণ রায় নামে এক চাষি বলেন, হরিণার বিলের রূপদিয়া অংশে তাদের জমি আছে। পারিবারিভাবে তারা দীর্ঘ দিন ধরে ধানের আবাদ করেন। এবার মৌসুমে পাট চাষ করেছিলেন। পাট কাটার পর আমন চাষে নেমেছেন। কিন্তু আশপাশে কোথাও চারা না পেয়ে তার বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে বিলের খরিঞ্চাডাঙ্গা গ্রাম থেকে আমনের চারা কিনেছেন। তিনি বলেন, এক বিঘা জমি চাষ করার মত ‘পাত’ (স্থানীয় ভাষায় ধান চারার নাম) জোগাড় হয়েছে। দাম পড়েছে ২০০০ টাকা। আরো বেশি চেয়েছিলো, দামাদামি করে ওই দামে কিনতে পেরেছি। চারার অভাবে তার মত আরো অেেনকের ক্ষেত ফাঁকা পড়ে আছে।
জানা গেছে, আমন রোপণের মৌসুম মূলত ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই। এরপরও অনেকে আমন আবাদ করেন। বিশেষ করে যারা পাটের আবাদ করেন তার দেরিতে আমন চাষাবাদে নামেন। আগস্টের পরও সেপ্টেমবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আমন চারা রোপণ করা যায়। যারা রবি মৌসুমে তেল-বীজ জাতীয় ফসল সরিষা ও তিলের চাষ করেন তাদের আমন চারার রোপণ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। বৃষ্টির অভাব ব্যতীত চারার সংকটের মুখে তাদের পড়তে হয়নি। কিন্তু যারা মৌসুমের শেষে এসে আবাদে নেমেছেন তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। একদিকে চারা প্রাপ্তির সংকট অন্যদিকে কয়েকগুণ বাড়তি দাম।
সদরের হাশিমপুর গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন জানান, জমি থেকে পাট তোলার পর স্বল্প মেয়াদে আবাদ সম্পন্ন হয় এমন জাতের আমন চারা লাগান । স্বল্পজীবনকাল সম্পন্ন এসব চারা থেকে শীতকালীন রবি মৌসুম শুরুর আগেই ফসল ঘরে উঠে যায়। সেই আশায় পাটের পর একটু দেরিতে আমন চাষে নামেন। কিন্তু এ বছর চারার উচ্চদাম ও দুর্লভ হওয়ায় দারুন সংকটের মুখে পড়েছেন। চারার অভাবে আবাদ করতে পারবেন কিনা সেটি নিয়েও সংশয়ে আছেন। চারা লাগানোর জন্য চাষ দেয়ার পর এখনো দুই বিঘা জমি খালি পড়ে আছে। এখনো আমন চারা বুনতে পারেননি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক জানান, লক্ষ্যমাত্রার প্রায় কাছাকাছি আমন চারার রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। নিজেরা যারা বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করেননি, তাদের হয়ত অন্যের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এই মুহুর্তে দামের তথ্য তার জানা নেই।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

কেশবপুরে কৃষকলীগের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন

সোহেল পারভেজ, কেশবপুর কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন পূজা ম-প পরিদর্শন করেছেন কৃষকলীগে নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার সংগঠনের উপজেলা,...

দেবহাটায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদ্যাপন

দেবহাটা প্রতিনিধি : ‘সময়ের অঙ্গীকার কন্যা শিশুর অধিকার’ প্রতিপ্রাদ্য নিয়ে দেবহাটায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদ্যাপন...

শার্শায় ভুল মানুষের দ্বারা রাজনীতি পরিচালিত হওয়ায় প্রকৃত নেতাকর্মীরা অত্যাচার জুলুম নির্যাতনের শিকার : আশরাফুল আলম লিটন

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল...