Thursday, September 29, 2022
হোম আজকের পত্রিকা১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের হামলার ঘটনা ‘বিছিন্ন নয়’ : আশরাফুল আলম...

১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের হামলার ঘটনা ‘বিছিন্ন নয়’ : আশরাফুল আলম লিটন

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করছে রাশিয়া

বার্তাকক্ষ রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার এই অঞ্চলগুলোকে...

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার এক বছরে ক্যাম্পে আরও ২৭ খুন

বার্তাকক্ষ কক্সবাজারের আশ্রয় ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার এক বছর পূর্ণ হলো বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর)।...

মহেশপুরে ৪০ পিচ সোনার বারসহ ১জন আটক

আব্দুস সেলিম, মহেশপুর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর সীমান্ত থেকে ৪০ পিচ সোনার বারসহ শওকত আলী...

ডিমের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা, দাম কেন ১৩: কৃষিমন্ত্রী

বার্তাকক্ষ ফার্মের মুরগির ডিমের উৎপাদন খরচ ৫ থেকে ৬ টাকা বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।...

আনিছুর রহমান, বেনাপোল :

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেছেন, বিশ্ব মানবতার মা, জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য ১৯৮১ সালে এ দেশে এসেছিলেন। এসেছিলেন তার পিতার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। সেই নেত্রী যখন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাসীরা তাকে গ্রেনেড হামলা করে। যে গ্রেনেড যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় সেই গ্রেনেড হামলা চালায়। জননেত্রীর সভা মঞ্চের পাশে সেদিন তিনটি গ্রেনেড সেদিন বিষ্ফোরিত হয়নি। ফলে প্রাণে বেঁচে যান শান্তির কন্যা, লড়াই সংগ্রাম ঐতিহ্যের ধারক বাহক সেই মহান নেত্রী, যিনি এই বাংলার অগ্রদূত দৃঢ়চেতা মানুষ, তিনি আমাদের নেত্রী আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতায় তার মেয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিতেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার ‘মূল কুশীলব’ জিয়াউর রহমানের ধারাবাহিকতায় তার দল বিএনপি ‘রাষ্ট্রীয় মদদে’ জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ২১ আগস্টের হত্যাকা- ঘটিয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে হামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ মদদ ছিলো বলেও বক্তব্যে অভিযোগ আনেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন।
তিনি বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা ও ২১ আগস্টে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনা ‘বিছিন্ন নয়’। একাত্তরের সেই পরাজিত শক্তি ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে জেলের অভ্যন্তরে হত্যা করে। এরপর বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী সাম্প্রদায়িক রাজনীতির শুরু হল। ২১ আগস্টে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রাঙ্গনে বিএনপি জামায়াত সন্ত্রাসীদের ভয়াল গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আশরাফুল আলম লিটন।

রোববার বিকেল ৫ টায় উলাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের ভয়াল গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে সমাবেশের আয়োজন করে। শার্শার উলাশী বাজারে এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উলাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথি আশরাফুল আলম লিটন বলেন. পঁচাত্তরে দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। খুনিরা সেই অসম্পূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ২১ অগাস্টে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে। এ হামলা হয়েছিল তৎকালীন জোট সরকারের মদদে, তাদের ছত্রছায়ায়। তাদের উদ্দেশ্যে ছিল, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়া, যাতে করে আগামী ১০০ বছরেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারে। এ হামলায় বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জননেত্রীর সব থেকে কাছের মানুষ আইভি রহমান নিহত হন। সব থেকে হৃদয় বিদারক ঘটনা সেদিন আইভি রহমানের দুটি পা গ্রেনেড হামলায় উড়ে গেলেও ওই জালিম সরকার কোন হাসপাতালে চিকিৎসা হতে দেয়নি। ঢাকা শহরের সব অষুধের দোকানও সেদিন বন্ধ করে দেয়া হয়। হাসপাতালগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ১৮ বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীর কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ নেতা-কর্মী প্রাণ হারান। প্রাণে রক্ষা পেলেও স্থায়ীভাবে শ্রবণেন্দ্রিয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা-কর্মীরা মানববর্ম সৃষ্টি করে তাকে রক্ষা করে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান। ওই ঘটনায় আহত হন আওয়ামী লীগের পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী, যাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন, অনেকেই আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে যেতে পারেননি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে এ মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে অধিকতর তদন্তেও উঠে আসে। তদন্তে জানা যায়, হামলার বিষয়ে নোয়াখালীর জজ মিয়ার ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দেয়ার বিষয়টি ছিল সাজানো। আর এই হামলার মদদ ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের।

তিনি আরো বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় ২১ আগস্টে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার অপচেষ্টা হয়েছে। সেটির অনুমোদন দিয়েছে খালেদা জিয়া আর পরিচালনা করেছে জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান। অর্থাৎ দুটি হত্যাকান্ড একইসূত্রে গাঁথা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার, শার্শা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক বকুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ইলিয়াছ আযম, দপ্তর সম্পাদক আজিবর রহমান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শেখ কোরবান আলী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শেখ সারোয়ার, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমেনা খতিব, কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন, নিজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বিপুল, সাবেক ছাত্র নেতা রুহুল কুদ্দুস, বেনাপোল পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র সাহাবুদ্দিন মন্টু, পৌর যুবলীগের আহবায়ক সুকুমার দেবনাথ, পৌর ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আশা সহ যুবলীগ, ছাত্রলীগে স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকমীরা।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

যশোরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :  যশোরে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ২৮ বোতল ফেনসিডিল ও ১শ ৫ পিস...

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ৭৬ তম জন্মদিন উপলক্ষে যশোর আ.লীগের দোয়া অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : বুধবার সকালে যশোর শহরের গাড়িখানা রোডস্থ জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী...

বাংলাদেশ এখন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি: এমপি নাসির

নিজস্ব প্রতিবেদক, চৌগাছা : যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অবঃ) অধ্যাপক...