Wednesday, December 7, 2022
হোম অর্থনীতিভাদ্রের শেষেও যশোরে নদীর ইলিশের দাম কমেনি

ভাদ্রের শেষেও যশোরে নদীর ইলিশের দাম কমেনি

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন

বায়ুদূষণ পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস হচ্ছে ধুলাবালি।...

মৈত্রী দিবসের আলোচনায় প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রীতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় ভারত

বার্তাকক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রীর ক্ষেত্রে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত...

স্কুলে ভর্তি: সরকারিতে এক আসনে ছয় আবেদন, বেসরকারির অধিকাংশ ফাঁকা

বার্তাকক্ষ সরকারি-বেসরকারি স্কুল ভর্তির আবেদন শেষ হয়েছে। সরকারি স্কুলে আসন প্রতি প্রায় ছয়জন করে...

আফগানিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৭

বার্তাকক্ষ উত্তর আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শহরে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে অন্তত সাত...

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন
ভাদ্র মাসের শেষ সপ্তাহে এসেও যশোরবাসীর কপালে এখনও যুক্তিসঙ্গত মূল্যের ইলিশ মাছ জোটেনি । যশোরের বড়বাজারে বরিশাল, ভোলা, বরগুনার পাথরঘাটা ও পটুয়াখালীর মহিপুর থেকে স্বল্প পরিমাণ যে ইলিশ আসছে তার দাম এই ভরা মৌসুমেও আকাশচুম্বি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তলদেশে পলি জমে নদীর গভীরতা কমে গেছে। এ কারণে ইলিশের অবাধ বিচরণে বাধা পড়ছে। তাছাড়া ইলিশের ভরা মৌসুম আষাঢ়-শ্রাবণে কাক্সিক্ষত বৃষ্টি না হওয়ায় নদীতে এ বছর ইলিশ মাছের আনাগোনা বাড়েনি। তবে ইতোমধ্যে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। যার স্বাদ নদীর ইলিশের তুলনায় অনেক কম। নদীর মিষ্টি পানির ইলিশের স্বাদ হয় অতুলনীয়। যশোরবাসী সাগরের ইলিশের দামের নাগাল কোনোরকম পেলেও নদীর মাছ যৎসামান্য যা আসছে, তার অগ্নিমূল্যে ধারে কাছে যেতে পারছে না।
বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর,২০২২) সকালে যশোরের বড়বাজার মাছবাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ খুচরা দোকানিই তাদের ডালায় সাগরের ইলিশ মাছ সাজিয়ে বসে আছেন। নোনা জলের ইলিশের স্বাদ তেমন না হওয়ায় ক্রেতারা দোকানে তেমন একটা ভিড়ছেন না। খুচরা বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটনকে সাগরের ৪শ/৫শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৬শ টাকা আর ৫ টায় কেজি ইলিশ ৪শ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। আরেক বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম সাড়ে ৫শ/৫শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি সাড়ে ৫শ/৬শ টাকায় বিক্রি করছেন। আলতাফ হোসেন ৫টায় কেজি ইলিশের কেজি সাড়ে ৪শ টাকায় বিক্রি করছেন। এ সব ইলিশই সাগেরের নোনা জলের। বিক্রেতারা এ প্রতিবেদককে জানান, বাজারে ইলিশের আমদানি কম, বিক্রেতাও কম।
অন্যদিকে নদীর মিষ্টি পানির সুস্বাদু ইলিশ মাছের খুচরা বিক্রেতা এরশাদ আলী জানান, তিনি বুধবার ১ কেজি ২শ/৩শ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১৫শ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ১ কেজি সাইজ বিক্রি করছেন ১৩শ টাকা, আর ৭শ/সাড়ে ৭শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি করছেন ৯শ টাকা দরে। এরশাদ আলী জানান, বাজারে ইলিশের আমদানি কম তাই দামও বেশি। বাজারে সরবরাহ না বাড়লে দাম কমবে না। বড়বাজার মাছবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আড়তদার আলহাজ শেখ পিয়ার মুহাম্মদ দৈনিক প্রতিদিনের কথাকে জানান, ইলিশ মাছ যশোরে আসে বরিশাল, ভোলা, পাথরঘাটা আর মহিপুর এলাকা থেকে। ওইসব এলাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা যশোরের মোকামে পাঠান তাদের মাছ বিক্রি করতে। যশোরের আড়তদাররা খোলা মার্কেটে নিলাম ডেকে কমিশনের ভিত্তিতে তা বিক্রি করেন। বর্তমানে ইলিশ মাছের আমদানি কম হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আর দাম বেশি হওয়ায় মাছ বিক্রিও অনেকখানি কমে গেছে। তিনি বুধবার ৮শ/৯শ গ্রাম ওজনের নদীর সুস্বাদু ইলিশ পাইকারি প্রতি মণ ৪৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি আরও জানান, সামনে ৪ অক্টোবর ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সাগর ও সব নদীতে প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ও মা ইলিশ রক্ষায় সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। তাই এ মাসে মাছের আমদানি বাড়লে তখন দামও কমে আসতে পারে।
এদিকে, বুধবার সকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দৈনিক প্রতিদিনের কথার এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিপি মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী বাবুরাম কর্মকারের সাথে। তিনি জানান, ভারতে মাছ রফতানির উদ্দেশে পাথরঘাটায় রফতানিকারকদের ইলিশ কেনা বেড়ে গেছে। তারা ওই এলাকা থেকে নদীর সুস্বাদু ইলিশ কিনছেন। তিনি আরও জানান, ভারতে অন্যতম ইলিশ রফতানিকারক পাবনা জেলার সেভেন স্টার কোম্পানি বুধবার সকালে পাথরঘাটা থেকে ৬ থেকে ৭ টন নদীর ইলিশ কিনেছে। তিনি এদিন ১ কেজির একটু ওপরের সাইজ ইলিশ প্রতি মণ মানভেদে ৫৬ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। আর ৭শ থেকে ১ কেজি সাইজের ইলিশের মণ বিক্রি করেছেন ৪৫ থেকে ৪৭ হাজার টাকায়। বাবুরাম কর্মকার দেশের বিভিন্ন মোকামের সাথে যশোর বড়বাজার মাছবাজারেও আড়তে মাছ বিক্রির জন্য সরবরাহ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে নদীর ইলিশের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ও ভারতে রফতানির জন্য যশোরের মোকামে ঠিকমত পাঠাতে পারছেন না। তিনি আরও জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারের শুভেচ্ছা হিসেবে পাঠানো ৫ হাজার টন ইলিশ ভারতে রফতানি হয়ে গেলে দামও অনেকটা কমে আসবে।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

মৈত্রী দিবসের আলোচনায় প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রীতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় ভারত

বার্তাকক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রীর ক্ষেত্রে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত...

করোনায় মৃত্যু নেই, শনাক্ত ২২

বার্তাকক্ষ বাংলাদেশে ৫ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনাভাইরাসে কারও...

ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২৬৯

বার্তাকক্ষ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি...