Tuesday, September 27, 2022
হোম মুক্ত ভাবনারাজপথেই রাজনীতির ফয়সালা?

রাজপথেই রাজনীতির ফয়সালা?

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য নীতিমালা করছে ইউজিসি

বার্তাকক্ষ দেশে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পর অনুমোদন ছাড়া শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একটি...

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য ৮ নির্দেশনা

বার্তাকক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে প্রাথমিকের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষকদের সতর্ক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।...

শাওমি এবার বর্ষসেরা উদ্ভাবনী কোম্পানির তালিকায়

বার্তাকক্ষ শাওমি এবার বছরের সেরা ৫০ উদ্ভাবনী কোম্পানির তালিকায় স্থান পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন কনসালটিং গ্রুপ...

গ্রামীণফোনের কিছু সেবা পেতে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন

বার্তাকক্ষ কারিগরি উন্নয়নের জন্য গ্রামীণফোনের কিছু সেবা পেতে গ্রাহকদের সমস্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।...

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা
মহানগর আর জেলা সদরের দেড়শ’ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকক্ষে সিসি ক্যামেরায় নজরদারির লক্ষ্য ঠিক করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এ সময় আগামী বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের কথাও জানানো হয়।
কমিশন ঘোষিত এই রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে সরকার নিজেরা কোনও উদ্যোগ না নিলে, দাবি না মানলে রাজপথেই সরকার পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই বক্তব্যে আগামী দিনগুলোতে রাজনীতির মাঠ সহিংস হয়ে ওঠার ইঙ্গিত স্পষ্ট। তার কিছুটা প্রমাণও আমরা দেখছি। ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপি তার কর্মী হারিয়েছে, কয়েকদিন আগে রাজধানীর বনানীতে তাবিথ আওয়ালের মতো কেন্দ্রীয় নেতা আওয়ামী লীগ কর্মীদের সঙ্গে দলের সংঘর্ষের সময় আহত হয়েছেন।
আমাদের রাজনীতি সুদীর্ঘকাল ধরে সহিংসতাকেই রাজনৈতিক অনুশীলন ও সংস্কৃতির অঙ্গ করে তুলেছে। তাই বলা যায় সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে এগিয়ে গিয়ে নির্বাচন করা এই দেশে নতুন নয়। মারামারি, রক্তপাত এড়িয়ে যুক্তি-তর্কের মুন্সিয়ানায় রাজনীতি এখন কোথাও নেই। জাতীয় রাজনীতিতে নেই, স্থানীয় রাজনীতিতে নেই, নেই ছাত্র বা পেশাজীবীদের রাজনীতিতেও।
এই যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিংসা, উত্তেজনাকে অবধারিত করে রাখা হয়েছে, এটা জনগণও মেনে নিয়েছে। তারা জানে শেষ পর্যন্ত রাজনীতি হলো শক্তিমত্তার পরিচয়। প্রশ্ন হলো, রাজপথে বিএনপি সেই শক্তি কতটা দেখাতে পারবে? একথা সত্য যে বিএনপি একটি ক্ষমতামুখী দল। গণতান্ত্রিক পন্থায়, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়াই তাদের লক্ষ্য। কিন্তু বারবার আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে হেরে ক্ষমতা থেকে বহু দূরে সরে আছে বিএনপি। সেই দল যখন রাজপথে ফয়সালার কথা বলে তখন ভাবতে হয় – তাহলে কোন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে দলটি
আওয়ামী লীগ টানা তিন দফায় ক্ষমতায় আছে। এই সময়ে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে, আবার একথাও সত্যি যে শাসন পদ্ধতিতে নানা অনিয়ম হয়েছে এবং সরকারকে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে যেগুলো সাধারণ মানুষকে অনেক বেশি নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশের মতো দেশে সাধারণভাবে একটি সরকার ক্ষমতায় থাকলে, তার বিরুদ্ধমত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সাধারণত বিরোধী পক্ষ সেই বিরুদ্ধমতকে কাজে লাগাতে চায়। বিএনপি হয়তো সেটিই ভাবছে।
কিন্তু রাজনীতি তো কৌশলেরও বিষয়। ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচন নয়– এই কৌশলে অনড় থেকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। সে নির্বাচনে খালি মাঠে গোল দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির প্রচেষ্টা ছিল, নির্বাচনে না গিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং আন্দোলন করে আওয়ামী লীগকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে বাধ্য করা। কিন্তু বিএনপি সেটা পারেনি। বিএনপির কাছে মডেল ছিল ১৯৯৬।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে একটি নির্বাচন করেছিল, কিন্তু টিকতে পারেনি। আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিএনপিকে বাধ্য করতে পেরেছিল। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে যেটা পেরেছিল, বিএনপি ২০১৪ সালে সেটা পারবে বলেই ধরে নিয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি।
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়, এই দাবিতে অনড় থাকলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই তারা অংশ নেয়। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে যায় এবং ভরাডুবি হয়। রাতে ভোট হয়েছে কিংবা অন্য নানারকম অনিয়মের কথা বলা হলেও বাস্তবতা হলো, সেই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রায় চার বছর পার করে এখন পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
খোদ বিএনপির ভেতরেই মূল্যায়ন আছে যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি ভুল করেছিল, আর ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে আরও একটি ভুল করা হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিত থেকেই বিএনপি আবার পরীক্ষার সামনে– এবার সে কোন পথে এগোবে। হিসাবটি জটিল। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না এবং দলটি মনে করে তাঁর অধীনে অংশ নেওয়া মানেই একটি পরাজয়। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আওয়ামী লীগ থেকে আদায় করে নিতে পারবে, এমন আস্থাও পুরোপুরি দলের ভেতরে নেই। মানুষের মাঝেও সেই আলোচনা নেই।
বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ড মাথায় নিয়ে সরকারের অনুকম্পায় অন্তরীণ এবং দলের বর্তমান প্রধান তারেক রহমানও দণ্ড মাথায় নিয়ে দেশের বাইরে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটি নির্বাচনি আন্দোলন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দিয়ে কতটা সফলতার দিকে নিয়ে নেওয়া যাবে সেটা দেখার বিষয়। বিএনপি আবার আন্দোলনে। আগেও আন্দোলন করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কঠোরভাবে সেসব দমন করেছে। আন্দোলনের চেষ্টায় দলের শক্তি ক্ষয় হয়েছে, নেতাকর্মীদের মামলার সংখ্যা বেড়েছে। আর পরিস্থিতি এখন আবার সেদিকে যাচ্ছে।
বিএনপি ক্ষমতায় ফিরতে চায়। সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথটা সহজ নয়। রাজপথেই সেই পথে যাওয়ার পথ পরিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছে দল, কিন্তু সামর্থ্য বিএনপির আছে কিনা, সেটা দেখার অপেক্ষায় সবাই। মানুষ কেন দলে দলে রাজপথে নামবে? গোটা সমাজকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো কর্মসূচি কি দিতে পেরেছে নিকট অতীতে বা পারবে আগামীতে?
লেখক: সাংবাদিক

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের দায় এড়াতে পারেন না জিয়া

মানিক লাল ঘোষ পৃথিবীর কোনো সংবিধানে লেখা নাই যে, খুনিদের বিচার করা যাবে না। বাংলাদেশেই...

জাতিসংঘে জাতির জনক

তোফায়েল আহমেদ জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদপ্রাপ্তির ৪৮ বছর পূর্ণ হয়েছে এ বছর। এই উপলক্ষে মনে পড়ছে...

আরাকান আর্মির প্রস্তাবে কী ভাবছে বাংলাদেশ?

মো. আবুসালেহ সেকেন্দার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ইউএলএ) এবং এর সামরিক...