Tuesday, September 27, 2022
হোম শহর-গ্রামরুপনা-ঋতুপর্ণার সাফল্যে সড়ক ও সেতু পাচ্ছেন এলাকাবাসী

রুপনা-ঋতুপর্ণার সাফল্যে সড়ক ও সেতু পাচ্ছেন এলাকাবাসী

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

করোনায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত, সংক্রমণ হার ১৫.৪২

বার্তাকক্ষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। এসময়ে প্রাণঘাতী...

একদিনে হাসপাতালে ৪৬০ ডেঙ্গুরোগী, একজনের মৃত্যু

বার্তাকক্ষ দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বাড়ছে মৃত্যুও। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত...

হৃদরোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় কমিউনিটি ক্লিনিকেও চিকিৎসার দাবি

বার্তাকক্ষ উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ব হার্ট...

বিদ্যুৎ বিলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ইনভয়েস কর চালান হিসেবে গণ্য হবে

বার্তাকক্ষ ভ্যাটের চালান ব্যবহারে উৎসাহ দিলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে গ্রাহকের পরিশোধিত বিদ্যুৎ...

রাঙামাটি প্রতিনিধি
সাফজয়ী রাঙামাটির দুই ফুটবলারের কীর্তিতে এবার সড়ক ও সেতু উপহার পাচ্ছেন এলাকাবাসীসাফজয়ী রাঙামাটির দুই ফুটবলারের কীর্তিতে এবার সড়ক ও সেতু উপহার পাচ্ছেন এলাকাবাসী
সাফজয়ী রাঙামাটির দুই ফুটবলারের কীর্তিতে এবার সড়ক ও সেতু উপহার পাচ্ছেন এলাকাবাসী। বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমার বাড়িতে যাওয়ার সড়ক ও বাঁশের সাঁকোর স্থানে সেতু এবং ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি যাওয়ার সড়ক তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এমন ঘোষণা শুনে এলাকার মানুষের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা।
বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সম্প্রীতি সমাবেশে রুপনার বাড়ির সড়ক-সেতু এবং ঋতুপর্ণার বাড়ির সড়ক তৈরি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। তিনি বলেছেন, ‘রুপনা এবং ঋতুপর্ণার বাড়ি যাওয়ার সড়ক ও সেতু দ্রুত তৈরি করে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তাদের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
সাফের মুকুটজয়ী রুপনার বাড়ি নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভূঁইয়া আদাম গ্রামে। ঋতুপর্ণার বাড়ি কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে মগাছড়ি গ্রামে। বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে মেঠোপথে যেতো হয় ভূঁইয়া আদাম গ্রামে। গ্রামের ভাঙাচোরা কুঁড়েঘরে বেড়ে উঠেছেন সাফজয়ী রুপনা।
রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঘাগড়া ইউনিয়ন থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার ধানক্ষেত, ছড়া ও পাহাড় পেরিয়ে যেতে হয় মগাছড়ি গ্রামে। গ্রামের একটি টিনশেড ঘরে বেড়ে উঠেছেন ঋতুপর্ণা। বর্ষা মৌসুমে পথ চলতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় মগাছড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের। বারবার সড়কের আবেদন করলেও সাড়া মেলেনি। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক তাদের বাসায় উপহার নিয়ে যান। তখন সড়ক ও সেতুর জন্য তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং সংগ্রামের কথা জানতে পারেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসককে ঋতুপর্ণার মা বসুমতি চাকমা বলেন, ‘আমার মেয়ে দেশের জন্য ভালো খেলেছে তাতে আমিসহ গ্রামবাসী আনন্দিত। আমাদের বাড়ির রাস্তা নেই। বাড়িতে আসা-যাওয়ায় আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। ঋতু ছুটিতে যখন বাসায় আসে তখন প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে আসতে হয়। রাস্তাটি করে দিলে মগাছড়ি এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।’
একই দিন রুপনার মা কালাসোনা চাকমা জেলা প্রশাসককে বলেন, ‘মেয়ের সাফল্যে অনেক খুশি হয়েছি। গর্বে বুক ভরে যাচ্ছে। আমরা ছোট একটি ভাঙা ঘরে থাকি। একটি ঘর করে দিলে খুব খুশি হবো। পাশাপাশি গ্রামের বাঁশের সাঁকোর স্থলে সেতু ও সড়কটি করে দিলে আমরা উপকৃত হবো।’
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘রুপনা ও ঋতুপর্ণা আমাদের গর্বিত করেছে। রুপনার পরিবারের জন্য ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি তার এলাকার সড়ক-সেতু এবং ঋতুপর্ণার বাড়িতে যাওয়ার সড়কটি দ্রুত তৈরি করে দেওয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘তাদের পরিবারের পাশে আমরা আছি। তাদের পরিবারের জন্য যা যা করার দরকার সবই করা হবে। এরইমধ্যে বাঁশের সাঁকোর স্থলে সেতু, কাঁচা সড়কের স্থলে পাকা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শুরু হয়ে যাবে।’
রাঙামাটি১বর্ষা মৌসুমে পথ চলতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় মগাছড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের
ঘাগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ঋতুপর্ণা শুধু এই ইউনিয়নের নয়; সারা দেশের গর্ব। তার বাড়িতে যাওয়ার সড়কটি দ্রুত করে দেবো আমরা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে।’
সড়ক ও সেতু নির্মাণের খবর শুনে খুশি হয়ে রুপনার মা কালাসোনা চাকমা বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কেটে যাবে। সড়ক ও সেতু হলে গ্রামবাসীর কষ্ট দূর হবে। এজন্য আমি অনেক খুশি হয়েছি।’
ঋতুপর্ণার মা বসুমতি চাকমা বলেন, ‘আমাদের বাড়ি আসার সড়কটি তৈরি করে দেওয়ার খবর শুনে খুশি হয়েছি। অবশেষে আমাদের কষ্ট দূর হচ্ছে।’
ভূঁইয়া আদাম গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গলাদেবী চাকমা বলেন, ‘একটা সেতুর অভাবে গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করছে। রুপনার সাফল্যের জন্য আমাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের পথে। এজন্য আমরা অনেক খুশি।’

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, ৯ জনের যাবজ্জীবন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ঝিনাইদহে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন...

শার্শায় সারের ব্যাগে মিলল ১০ পিস স্বর্ণের বার

বিশেষ প্রতিবেদক যশোরের শার্শার সীমান্তের গোগা এলাকায় সারের ব্যাগে পাওয়া গেল ১০ পিস স্বর্ণের বার।...

পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫

বার্তাকক্ষ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবার...