Wednesday, December 7, 2022
হোম সম্পাদকীয়অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে

অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন

বায়ুদূষণ পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস হচ্ছে ধুলাবালি।...

মৈত্রী দিবসের আলোচনায় প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রীতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় ভারত

বার্তাকক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রীর ক্ষেত্রে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত...

স্কুলে ভর্তি: সরকারিতে এক আসনে ছয় আবেদন, বেসরকারির অধিকাংশ ফাঁকা

বার্তাকক্ষ সরকারি-বেসরকারি স্কুল ভর্তির আবেদন শেষ হয়েছে। সরকারি স্কুলে আসন প্রতি প্রায় ছয়জন করে...

আফগানিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৭

বার্তাকক্ষ উত্তর আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শহরে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে অন্তত সাত...

২০১৮ সালে প্রণয়ন করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বিভিন্ন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা, আইনটির অপপ্রয়োগ ও এতে নানা অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার এডিটরস গিল্ডের আয়োজনে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিতর্ক’ শীর্ষক এক বৈঠকে এসব অভিযোগ উঠে আসে। গ্রেপ্তার থাকা অবস্থায় কারাগারেই মৃত্যুবরণ, অজামিনযোগ্য ধারা, ছোট অপরাধে বড় দণ্ড, একই বিষয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলাসহ এই আইনের বেশ কয়েকটি অসামঞ্জস্য খুবই দুঃখজনক। এতে সাংবাদিক, শিল্পী ও সাধারণ মানুষ অনেক সময় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যা মোটেও কাম্য নয়। আইন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে সুরক্ষা দেয়া, অথচ সেই আইনই যদি জনগণের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়, তাহলে ব্যক্তির স্বাধীনতা ও সুরক্ষা ব্যাহত হয়। এই আইনের মাধ্যমে সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের অধিকার ও কর্মপরিবেশ সীমিত, এমনকি খর্ব করার ব্যবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উল্লেখ্য, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তির মুখেই জাতীয় সংসদে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল-২০১৮’ পাস হয়। মুক্ত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই আইনটি একটি খড়গ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিপুল সম্প্রসারণের এই যুগে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইন ও বিধিবিধানের প্রয়োজনীয়তা আমরা অস্বীকার করি না। আমরা দেখছি, দেশে সাইবার অপরাধ ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে বড় নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনাও ঘটেছে। প্রচলিত ব্যবস্থায় এসব অপরাধ যেমন রোধ করা যাচ্ছে না, তেমনি প্রচলিত আইনেও এসব অপরাধের বিচার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সময়োপযোগী আইনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আর আমাদের কাছে আতঙ্কের বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে নতুন আইনের ৩২ ধারাসহ কয়েকটি ধারা। এই আইনের ৩২(১) ধারায় অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টের আওতাভুক্ত কিছু অপরাধ করলে বা করতে সহায়তা করলে অনধিক ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২৫ লাখ টাকা জরিমানা হবে। ২৫ ধারার (ক) উপধারায় বলা হয়, জেনে-বুঝে মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক তিন লাখ টাকা জরিমানা হবে। এসব ধারায় মানবাধিকার বিপন্ন হতে পারে, বিশেষ করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ হতে পারে। এ রকম কোনো ধারা নিশ্চয়ই থাকা সমীচীন নয়। এর সংশোধন জরুরি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধনের বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার কথা থাকলেও তা নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি। এমতাবস্থায় আমরা উদ্বিগ্ন। সরকার আন্তরিক হলে সংসদে আইনটির সংশোধন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আলোচনার বিকল্প নেই। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সেটাই করবে- এ আমাদের প্রত্যাশা। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনটি আইনের কথা বলা হচ্ছে। উপাত্ত সংরক্ষণ আইন নামে একটি আইনও করা হচ্ছে। এতে সরকার সবার ডাটা পাবে। উপাত্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার সামান্য ত্রæটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনেক বড় হুমকির কারণ হতে পারে। তাই বাস্তবতার নিরিখে সব দিক বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষের উচিত জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ করা।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন

বায়ুদূষণ পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস হচ্ছে ধুলাবালি।...

কোনো ছাড় নয় অপরাধীকে

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে দেশজুড়ে। বেপরোয়া গতি, প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো, গাড়ি...

ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ জরুরি

ওষুধের দাম বৃদ্ধি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ছয় মাসে প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজল, এমোক্সিসিলিন, ডায়াজিপাম,...