Friday, December 9, 2022
হোম আজকের পত্রিকাবাঘারপাড়ায় নজিরবিহীন অনিয়মের মধ্যে চলছে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম!

বাঘারপাড়ায় নজিরবিহীন অনিয়মের মধ্যে চলছে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম!

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

মানবাধিকার কমিশনের অবৈতনিক সদস্য হলেন অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ

বার্তাকক্ষ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অবৈতনিক সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য...

টাইগারদের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি

বার্তাকক্ষ: ভারত সিরিজে টাইগারদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লিটন দাসের সামনে হাতছানি দিচ্ছে ইতিহাস গড়ার। চট্টগ্রামে সিরিজের...

ঝিনাইদহে আ.লীগ কার্যালয়ে ককটেল হামলা ৫টি উদ্ধার: প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ

মহিউদ্দীন, ঝিনাইদহ ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় লক্ষ্য করে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। ৪...

ছাত্র রাজনীতি কি প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলছে?

ড. প্রণব কুমার পান্ডে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির রয়েছে একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে ছাত্র...

বাঘারপাড়া প্রতিনিধি :
বাঘারপাড়ায় অনিয়ম-দুর্নীতি-জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার নামে সরকারি অর্থ লোপাটের চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয় নিয়োগকৃত শিক্ষকদের দেয়া হয় না বেতন, আলাদা ঘর তৈরির কথা থাকলেও মানুষের বাড়ির বারান্দায়, দোকানের বেড়ার পাশে খোলা হয়েছে কেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্রে একাধিক বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে নেই কোনে কেন্দ্রে। শিক্ষার্থী থাক বা না থাক খাতা কলমে দেখানো হয়েছে ৭০ উপানুষ্ঠানিক কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাঘারপাড়া উপজেলায় ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্যে প্রাথমিক পর্যায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০টি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম কেন্দ্র শুরু হয়েছে। এ শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্বাচিত হয় যশোরের দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থাকে। ঝরে পড়া নয় এমন শিক্ষার্থীদেরকে অনিয়ম-দুর্নীতি-জালিয়াতির মাধ্যমে ঝরেপড়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৭০টি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাকেন্দ্রে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি স্কুলে ২০-৩০ জন শিক্ষার্থী থাকবে। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী এখানে ভর্তি করা যাবে না। ছাত্রছাত্রীর বয়স হবে ৮ থেকে ১৪ বছর। নানা সুযোগ-সুবিধার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষণ কেন্দ্রে বৈদ্যুতিক ফ্যান কেনার জন্যেও টাকা বরাদ্দ আছে। সরেজমিনে এ সব ক্ষেত্রে একেবারেই উল্টো চিত্র দেখা যায় । ফ্যান থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের কিছুই দেয়া হয়নি। অধিকাংশ স্কুল করা হয়েছে বিভিন্ন জনের বারান্দায়, গোয়ালঘরের পার্শ্বে, রান্নাঘর বা দোকানঘরে। এমনকি জাতীয় পতাকা ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এসব জায়গায় সাইনবোর্ড থাকলেও ক্লাস হয় না। কোনো স্কুলেই ৩০ জন শিক্ষার্থী নেই। কয়েকটি স্কুল চললেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭-৮ জন। তারাও অন্য প্রতিষ্ঠানের। ধলগ্রাম ইউনিয়নের একটি কেন্দ্র বল্লামুখ শিক্ষা কেন্দ্র ক্লাস করছে সাত শিশু। প্রত্যেকেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে স্বপ্না রানী কুন্ডু নামে এক মহিলাকে। শিক্ষার্থীরা জানালেন কোনো দিনই স্বপ্না রানী কুন্ডু কেন্দ্রে আসেননি। তার স্বামী কৃষ্ণ হরি কুন্ডু ক্লাস নেন। দোহাকুলা ইউনিয়ন বহরমপুর কেন্দ্রে দেখা গেছে ৭জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী মাছুম বিল্লাহ জানায়, বহরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। তারা অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হলেও লোভ দেখিয়ে এসব স্কুলে ভর্তি করা হয়। জহুরপুর,বন্দবিলা, রায়পুর ও বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রসহ অধিকাংশ ইউনিয়নের শিক্ষাকেন্দ্রের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাইনবোর্ড সর্বস্ব দু-একটি শিক্ষা কেন্দ্রে ৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী নিয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম সচল দেখানো হচ্ছে। এমন চিত্র সারা উপজেলায়। বিল সাদীপুর কেন্দ্রের শিক্ষার্থী মেঘনা সুলতানা মীমের পিতা রাজু মোল্লা জানান, আমার মেয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষণ কেন্দ্রে পড়েনা । সে মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। নিয়োগপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন শিক্ষিকা জানান, খাতা-কলমে ২৮-৩০ জন থাকলেও শিক্ষাকেন্দ্রে আসে সাত-আটজন। তাদের মধ্যে দু-একজন ঝরে পড়া শিক্ষার্থী। এলাকা ঘুরে শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এ পর্যন্ত কোনো বেতন ভাতা পাননি ফলে ক্লাস চলে দায় সারাভাবে। তবে এনজিও দিশা সংস্থা বই, বোর্ড, খাতা , চক, কাটার , পেন্সিল ও পাটি দিয়েছে। এনজিও দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামানের কাছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চাইলে , তিনি বলেন প্রকৃতপক্ষে সঠিক তথ্য তার জানা নেই। তিনি আরো বলেন এখনও টাকা পাননি, তাই স্কুলের ফ্যান দেওয়া হয়নি। দুই একটি কেন্দ্রে বেড়া নেই । এছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তাদের কেন্দ্রে পড়ে কি না তাও তার জানা নেই। জেলা ম্যানেজার কামরুল ইসলাম বলেন, তাদের ২০ টি কেন্দ্রের কার্যক্রম চলছে। ৫০টি কেন্দ্রে অনুমোদনের জন্যে অপেক্ষায় রয়েছে। শিক্ষণ কেন্দ্রের সার্বিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, এবিষয় তার কোনো বক্তব্য নেই। ‘আপনি যা লিখতে চান লেখেন’। এনজিও দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা নির্বাহী পরিচালক রাহিমা সুলতানা জানান, বাঘারপাড়ায় তাদের ৭০ টি কেন্দ্র চলছে। ফান্ড আসেনি এখনও তাই কিছু সমস্যা হয়েছে। ফান্ড আসলে সব ঠিক হয়ে যাবে। ‘আমাদের সাথে যোগাযোগ রাইখেন’। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের জরিপ অনুযায়ী ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪ জন, কিন্তু ৭০ কেন্দ্রে ২ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী কোথা থেকে এসেছে তা তিনি জানেন না । এই কর্মকর্তা আরো বলেন প্রথম পর্যায়ে ২০টি কেন্দ্রের অনুমোদনের সময় তাদের সাথে যোগাযোগ ছিল। অবশিষ্ট ৫০ টি কেন্দ্রের বিষয় তার জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান জানান, ‘দেখে শুনেই এবিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে।’ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মুহম্মদ বজলুর রশিদ বলেন, বাস্তবায়ন সংস্থা কোনো অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

রেমিট্যান্স অর্জনে সপ্তম বাংলাদেশ: বিশ্ব ব্যাংক

বার্তাকক্ষ: গত বছর প্রবাসী আয় থেকে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স অর্জন করেছিল ২২ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছর...

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা সাস‌পেন্ড

সুন্দর সাহা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের বদলির পর এবার ব্যাংকের তিন...

এবার মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৯১ পিস সোনার বারসহ আটক ১

সুন্দর সাহা যশোরের শার্শা-বেনাপোল-ঝিকরগাছা এবং চৌগাছার পর এবার মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ সোনার...