Saturday, December 3, 2022
হোম জাতীয়ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: চট্টগ্রাম ও বরিশালের পর ক্ষয়ক্ষতি বেশি ঢাকায়

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: চট্টগ্রাম ও বরিশালের পর ক্ষয়ক্ষতি বেশি ঢাকায়

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

গাড়ির নিচে নারীকে টেনে নেওয়া: ঢাবির সাবেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

বার্তাকক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চাকরিচ্যুত শিক্ষকের প্রাইভেটকারে টেনে নেওয়া রুবিনা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় শাহবাগ...

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিস্ফোরণ, নিহত ৩

বার্তাকক্ষ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কাঁথিতে এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতের এ...

বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতার মৃত্যুতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি অভয়নগর থানার একতারপুর গ্রামতলা কমিটির সাবেক সভাপতি...

কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্টের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা ডব্লিউএইচওর

বার্তাকক্ষ কোভিড মোকাবিলায় মানুষের সতর্কতা কমে যাওয়া এই ভাইরাসের মারাত্মক নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি করতে...

বার্তাকক্ষ
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এতে ভেঙে পড়েছে গাছ ও ঘরবাড়ি। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম। টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম নগরী ও নিম্নাঞ্চল। এছাড়া সিত্রাংয়ের প্রভাবে রাজধানীতেও অনেক গাছপালা ভেঙে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছে ঢাকা বিভাগ। আর এরমধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেই ক্ষয়ক্ষতি বেশি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকালে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাতভর তুমুল বৃষ্টির ফলে রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল ও নয়াবাজার এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার শতাধিক দোকানে পানি উঠেছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর কাওরানবাজার, শাহবাগ, ঢাবি ক্যাম্পাস, আগারগাঁও, ধানমন্ডি লেকসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়ে আছে ছোট-বড় গাছ। এসব গাছ সড়াতে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
এদিকে সকাল থেকে রাজধানীর সড়কগুলোকে গণপরিবহনের চাপ কম থাকলেও যেসব সড়কে গাছ ভেঙে পড়েছে সেগুলোতে জানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে গুলিস্তান ভাসানী স্টোডিয়ামের পাশে একটি গাছ ভেঙে পড়ায় পল্টন মোড় থেকে দীর্ঘ গাড়ির লাইন হয়ে আছে। এদিকে শান্তিনগরের দিকেও গাড়ির চাপ কিছুটা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা ৮ নম্বর বাসের চালক আকাশ রহমানের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। তিনি বলেন, গতকাল গাড়ি নিয়ে বের হতে পারিনি। তাই আজকে সকাল-সকাল গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু বের হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছি। ৭টার আগে বের হয়েছি, পল্টন মোড় পর্যন্ত আসতে সাড়ে ৯টা বাজলো। রাস্তায় বিভিন্ন স্থানে গাছে ভেঙে পড়ায় এই দুর্ভোগ। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে সারাদেশে ঝড় ও বৃষ্টিতে ৩২৯টি স্থানে গাছ ভেঙে পড়েছে। এরমধ্যে ঘরের ওপর পড়েছে ১৮টি গাছ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি। তার মধ্যে ১৭টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঢাকায়। সড়ক দুর্ঘটনা চারটি, নৌ দুর্ঘটনা একটি, অন্যান্য দুর্ঘটনা একটি। এছাড়া সারাদেশের ১৫টি স্থানে মাইকিং করে সচেতনা কার্যক্রম অংশ নেন ফায়ার সার্ভিস।
অবশ্য অন্যান্য সংস্থার হিসাব মিলিয়ে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন তথ্য বলছে, দুই সিটিতেই তিন থেকে চার’শ ছোট-বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। এরমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কুইক রেসপন্স টিম ঝড়ে উপচে পড়া প্রায় দুই শতাধিক গাছপালা অপসারণ করেছে বলে জানান। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এখনও নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও আনুমানিক দেড়-দুইশ গাছ ভেঙে পড়েছে বলে জানান। ফায়ার সার্ভিসের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৬টি, বরিশালে ৬৪টি, ঢাকায় ৫৬টি, খুলনায় ২৬টি, রাজশাহী ১৭টি, সিলেটটে ৪টি, ময়মনসিংহে ৩টি এবং রংপুরে একটি গাছ ভেঙে পড়েছে। আর ঘরের ওপরে খুলনায় ১০টি, বরিশালে ৪টি, ঢাকায় ৩টি এবং চট্টগ্রামে একটি গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।  এছাড়া এই ঝড় ও বৃষ্টির মধ্যে সারাদেশে ৩৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চারটি, নৌ দুর্ঘটনা একটি এবং ১৩ জনকে আহত উদ্ধার ও তিন জনকে মৃত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ফকিরাপুলের কাগজ ব্যবসায়ী বরকত উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তুমুল বৃষ্টিতে আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমার দোকান রাস্তার সঙ্গে হওয়ায় বৃষ্টির পানি দোকানের মধ্যে চলে আসে। সন্ধ্যার পরে পানি ঢুকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার কাগজ নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবে দোকনে পানি ঢুকে ফকিরাপুল ও নয়াবাজারের কাগজ ব্যবসায়ীদের কয়েক কোটি টাকার কাগজ নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকানীরা। মঙ্গলবার সকালে এসব এলাকার অধিকাংশ কাগজের দোকান থেকে পানি সেঁচতে দেখা যায়।
রাজধানীর পানি ভবনের সামনে কয়েকজন ভাসমান মানুষের সাথে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। তারা বলেন, কালকে সারাদিন কোথাও বের হতে পারিনি। রাস্তার উল্টা পাশে ফার্নিচারের দোকানের সামনেই ছিলাম। বিকালে হঠাৎ করে এই (পানি ভবনের সামনের) গাছটি ভেঙে পড়ে। আমরা বেশির ভাগ সময় এই গাছির নিচেই থাকতাম। অনেক সময় রাতে এখানেই ঘুমাতাম। সকালে লোকজনে এসে রাস্তা থেকে গাছ সরিয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। বাংলা ট্রিবিউনের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম নগরী ও নিম্নাঞ্চল। নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় বেড়িবাঁধ টপকে আশপাশের এলাকায় পানি উঠেছে। নগরীর বাকলিয়া, খাতুনগঞ্জ, চাকতাই, আছাদগঞ্জ, ফিরিঙ্গিবাজার, পাথরঘাটা হাজী নজুমিয়া লেইন, ইপিজেড, খলিফাপট্টি, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, কাট্টলী রাসমনিরঘাট, জেলেপাড়াসহ বেশকিছু স্থানে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। সিটি করপোরেশনের পাথরঘাটা হাজী নজুমিয়া লেইন এলাকার বাসিন্দা এরশাদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই এলাকায় মধ্যরাতে পানি উঠেছিল। পানিতে রাস্তা-ঘাটসহ অনেক বসতঘরও ডুবে যায়। পানি ঢুকেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এ কারণে অনেক বাসিন্দাকে রাতেই আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।’

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্টের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা ডব্লিউএইচওর

বার্তাকক্ষ কোভিড মোকাবিলায় মানুষের সতর্কতা কমে যাওয়া এই ভাইরাসের মারাত্মক নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি করতে...

কমতে পারে তাপমাত্রা, সাগরে লঘুচাপের আভাস

বার্তাকক্ষ আগামী ২৪ ঘণ্টায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া...

বিশ্ববাজারে বেড়েছে সোনার দাম

বার্তাকক্ষ গেল সপ্তাহে বিশ্বাবাজারে সোনার দামে বড় উত্থান হয়েছে। এক সপ্তাহেই প্রতি আউন্স সোনার...