Wednesday, December 7, 2022
হোম আইন আদালতবুয়েট শিক্ষার্থী হত্যা: যেসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছেন গোয়েন্দারা

বুয়েট শিক্ষার্থী হত্যা: যেসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছেন গোয়েন্দারা

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন

বায়ুদূষণ পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস হচ্ছে ধুলাবালি।...

মৈত্রী দিবসের আলোচনায় প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রীতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় ভারত

বার্তাকক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রীর ক্ষেত্রে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত...

স্কুলে ভর্তি: সরকারিতে এক আসনে ছয় আবেদন, বেসরকারির অধিকাংশ ফাঁকা

বার্তাকক্ষ সরকারি-বেসরকারি স্কুল ভর্তির আবেদন শেষ হয়েছে। সরকারি স্কুলে আসন প্রতি প্রায় ছয়জন করে...

আফগানিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৭

বার্তাকক্ষ উত্তর আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শহরে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে অন্তত সাত...

বার্তাকক্ষ বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। ফারদিনের বাবা দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফারদিনের বান্ধবী বুশরা গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছেন। এ ঘটনায় বুশরার সম্পৃক্ততা এবং বাবার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। তবে এখনও হত্যার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছেন তারা। তদন্ত করতে গিয়ে কোনও বিষয়কেই ছোট করে দেখা হচ্ছে না। সব বিষয় সামনে রেখেই তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ, আবরার হত্যা মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন ফারদিন নূর পরশ। এছাড়া পরশের সঙ্গে কাদের বন্ধুত্ব ছিল, কাদের যোগাযোগ ছিল এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রেম ঘটিত কোনও বিষয় রয়েছে কিনা তাও দেখা হচ্ছে। এছাড়া তার সব শেষ মোবাইল লোকেশন গাজীপুর থাকার পর কীভাবে তার মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে আসলো, তার চুলচেড়া বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সবশেষ কাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, সেসবও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। গোয়েন্দারা জানান, ফারদিন একজন ভালো বিতর্কিক ছিলেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে কারও কোনও দ্বন্দ্ব ছিল কিনা, সেটাও দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, ফারদিনের বাবার দাবি, রামপুরা পুলিশ বক্সের পাশে ফারদিনের বান্ধবী বুশরাকে নামিয়ে দেওয়ার পর থেকেই তার ছেলে নিখোঁজ হন— এ বিষয়টিও মাথায় রেখে তদন্তের কাজ করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ফারদিন আসলেই গাজীপুর গিয়েছিলেন কিনা, নাকি তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন অন্য কেউ গাজীপুর নিয়ে গিয়েছে, এসব বিষয়ের জট খুলতে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কারও সঙ্গে পূর্বশত্রুতা ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার মাদক-সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা, কোনও ছিনতাই বা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে নিহত হয়েছেন কিনা, এসব বিষয় সামনে রেখে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন।
জানা গেছে, ফারদিন নূর পরশের সঙ্গে যে দুই তরুণীর বন্ধুত্ব— সেই বুশরা ও আশার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। এরই মধ্যে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে বুশরা ফারদিনের খুব ভালো বন্ধু ছিল। চার বছর ধরে তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তবে আশার বিষয়টি সম্পর্কে এখনও কোনও ধারণা পায়নি গোয়েন্দা পুলিশ। আশার সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি লালবাগ গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব আল মাসুদ বলেন, ‘এই হত্যা মামলার তদন্তে সব বিষয়ে মাথায় রেখে আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। এখনও পর্যন্ত বুশরা ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করতে পারিনি। বুশরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য আমরা খতিয়ে দেখছি।’
গত ৪ নভেম্বর রাতে নিখোঁজ হন ফারদিন নূর পরশ। ৭ নভেম্বর লাশ উদ্ধারের পর থেকেই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে— এমন দাবি করে আসছিলেন ফারদিনের বাবা নুর উদ্দিন রানা। রামপুরা থানায় দায়ের করা মামলায় ফারদিনের হত্যাকাণ্ডে তার বান্ধবী বুশরার ইন্ধন রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেন বাবা। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, রামপুরা থানা এলাকা কিংবা অন্য কোথাও হত্যাকারীরা পরিকল্পিতভাবে তার ছেলে ফারদিনকে হত্যা করা হয়েছে।
বান্ধবী বুশরাকে গত ৪ নভেম্বর রাতে রামপুরা পুলিশ বক্সের পাশে নামিয়ে দেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হন বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ। তার সন্ধান না পেয়ে একদিন পর বাবা নুর উদ্দিন রানা রামপুরা থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন। ৭ নভেম্বর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তে চিকিৎসকরা ফারদিনের মাথায় এবং বুকে আঘাতের চিহ্ন পান। আঘাতজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানান চিকিৎসকরা।
মামলা দায়েরের পরপরই ১০ নভেম্বর বুশরাকে রামপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন বুশরা। বর্তমানে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

জামিন পেলেন হাজী সেলিম

বার্তাকক্ষ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে জামিন...

ময়লার গাড়ি ভাঙচুর: রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বার্তাকক্ষ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি ভাঙচুর মামলায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর...

গাড়ি পোড়ানোর মামলা বিএনপি নেতা ইশরাকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বার্তাকক্ষ রাজধানীর মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে...