Thursday, December 1, 2022
হোম অর্থনীতিবৈশ্বিক মন্দা সাত জলাশয়ের সৌন্দর্যবর্ধনে ৬০ কোটির প্রস্তাব, কমিশনের ‘না’

বৈশ্বিক মন্দা সাত জলাশয়ের সৌন্দর্যবর্ধনে ৬০ কোটির প্রস্তাব, কমিশনের ‘না’

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

পুতিনের রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দেখছে না ইউক্রেন

বার্তাকক্ষ রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতারা একটি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ৯ মাস দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান...

পাপড়ি-করামত আলী সাহিত্য পুরস্কার পেলেন তানভীর সিকদার

পাপড়ি-করামত আলী সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন তরুণ কবি তানভীর সিকদার। তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘সেফটিপিনে গেঁথে...

১১২ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিলো ইংল্যান্ড

বার্তাকক্ষ সব শঙ্কাকে পাশ কাঁটিয়ে নির্ধারিত সময়েই পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামে ইংল্যান্ড। বৃহস্পতিবার (১...

আইজিপির নেতৃত্বে আইনের শাসনের ক্ষেত্র প্রস্তুতের আশা বিএনপি মহাসচিবের

বার্তাকক্ষ ‘রাজনৈতিক নিপীড়নমূলক বেআইনি, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের বন্ধ করা এবং দায়েরকৃত সব...

বার্তাকক্ষ করোনা পরবর্তী ধাক্কা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ভালোভাবেই পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে। সবার আশঙ্কায় এখন বৈশ্বিক মন্দা। ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে এরই মধ্যে বেড়ে গেছে মূল্যস্ফীতির হার। পরিস্থিতি সামাল দিতে নানান পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারও। খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো, কৃচ্ছ্রসাধন, বিলাসী পণ্য আমদানি বন্ধ, বিদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চলমান প্রকল্পের আওতায় নতুনভাবে প্রস্তাবিত সাতটি খাল/পুকুর/জলাশয় সংরক্ষণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে মোট ৫৯ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক মন্দা ও গুরুত্ব বিবেচনায় যৌক্তিক নয় বলে দাবি পরিকল্পনা কমিশনের।‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এমন প্রস্তাব করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত এ প্রকল্প নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।কমিশন সূত্র জানায়, গত ১৯ অক্টোবর ভার্চুয়ালি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) সত্যজিত কর্মকারের সভাপতিত্বে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়। সভায় প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ জানায়, বৈশ্বিক মন্দা ও গুরুত্ব বিবেচনায় এই মুহূর্তে প্রায় এ প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকা ব্যয় যৌক্তিক নয়।
এ বিষয়ে আইএমইডির সংশ্লিষ্ট এক পরিচালক একমত পোষণ করে বলেন, খাল/পুকুর/জলাশয় সংরক্ষণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে প্রতিটির জন্য গড়ে প্রায় ৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অত্যধিক। আলোচনা শেষে অতি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখা যায়। প্রস্তাবিত অন্য প্রকল্পের অবশিষ্ট অর্থ পূর্তখাতে বিশেষ করে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ, মেরামত খাতে সমন্বয় করা যেতে পারে।সত্যজিত কর্মকার বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ভেবে-চিন্তে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক মন্দায় সাতটি পুকুর সংস্কার বা সৌন্দর্যবর্ধন যৌক্তিক নয়। তাই এলজিইডির এমন প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি মোট ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জানুয়ারি ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত সময়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। পরবর্তীসময়ে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর অর্থাৎ, ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত বাড়ায়। ব্যয় বাড়ে ৯৫৩ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন জানায়, প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সঠিক নয়। বর্তমানে প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে যেভাবে ব্যয় বাড়ছে তাতে এমটিবিএফ (মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো) সিলিংয়ের আওতায় ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) অনুযায়ী বরাদ্দ সম্ভব নয়।প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রকল্পটি শেষ করতে অন্তত আরও তিন থেকে চার বছর সময়ের প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে শুধু একান্ত অপরিহার্য এবং বাস্তবায়নযোগ্য খাতের সংস্থান রেখে প্রস্তাবিত অতিরিক্ত কাজ বাদ দেওয়ার বিষয়ে একমত কমিশন।প্রকল্প প্রসঙ্গে আইএমইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটি এরই মধ্যে আইএমইডি থেকে সরেজমিনে তিনবার পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে পরিলক্ষিত হয়েছে, কতিপয় সড়কের কিনারে শোল্ডার না থাকায় ভেঙে গিয়ে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রণয়ন করে এলজিইডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ/সুপারিশ করা হয়েছে।একনেকের সিদ্ধান্তে ড্রেন/সড়ক শোল্ডার নির্মাণের সময় যেসব বর্জ্য তৈরি হয় তা সঠিকভাবে স্থানান্তর বা পরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে বলা হয়েছে। এছাড়া পুকুরের পাশে যে সব রাস্তার কাজ হয়েছে বা হচ্ছে সেখানে গাইড ওয়াল না থাকায় এবং মাটির কনসেন্ট্রেশন ভালো না হওয়ার কারণে মাটি সরে যেতে দেখা গেছে। এসব বিষয়ে এলজিইডি কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা ব্যাখ্যা দিতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশন এলজিইডিকে বলেছে, চলমান প্রকল্পের সঙ্গে প্রস্তাবিত ‘দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন (এসসিআরডি)’ শীর্ষক প্রকল্পের মিল আছে। কারণ এই প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার পৌরসভার দ্বৈততা আছে বলে প্রতীয়মান হয়।এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী সেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধন প্রস্তাবের সঙ্গে নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্পের কক্সবাজার পৌরসভার কোনো দ্বৈততা নেই। যদি দ্বৈততা থাকে তাহলে ডিপিপি পুনর্গঠনের সময় তা বাদ দেওয়া হবে। আলোচনা শেষে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সঙ্গে এলজিইডির অন্য কোনো প্রকল্পের দ্বৈততা থাকলে তা বাদ দেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেন।
প্রকল্প প্রসঙ্গে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ জানায়, লগফ্রেম অনুযায়ী প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য যে বস্তুনিষ্ঠ যাচাই নির্দেশক এবং যাচাইয়ের মাধ্যম রয়েছে তা সঠিকভাবে প্রতিফলন করা হয়নি। যেহেতু এ নির্দেশকগুলোর আলোকেই প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়, কাজেই লগফ্রেমে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বস্তুনিষ্ঠ নির্দেশকগুলো যাচাইয়ের মাধ্যম সঠিকভাবে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।
ভৌত অবকাঠামো বিভাগ জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রায় পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর এ পর্যায়ে নতুন করে কম্পিউটার, অফিস সরঞ্জাম, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ও ক্যামেরা কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা যৌক্তিক নয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ এ খাতে মূল ডিপিপি অনুযায়ী অনুমোদিত পরিমাণ এবং অর্থের সংস্থান অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছে।
আলোচনা শেষে কম্পিউটার, অফিস সরঞ্জাম, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি খাতে অতিরিক্ত পরিমাণ এবং নতুন করে ক্যামেরা কেনার সংস্থান পুনর্গঠিত ডিপিপি থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করে পরিকল্পনা কমিশন।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

তিন ব্যাংকে ঋণ অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক

বার্তাকক্ষ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে...

সোনালী ব্যাংক ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি সই

বার্তাকক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীরা এখন থেকে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে যাবতীয় ফি ও চার্জ...

তিনমাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো নভেম্বরে

বার্তাকক্ষ # নভেম্বরে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার এসেছে # অক্টোবরের চেয়ে ৬ কোটি ৯৩...