Friday, December 2, 2022
হোম আজকের পত্রিকাপ্রথম পাতা চৌগাছার শাহজাদপুর সীমান্তের পাশে মরিচ ক্ষেত থেকে ৮০ পিস সোনার বার উদ্ধার

 চৌগাছার শাহজাদপুর সীমান্তের পাশে মরিচ ক্ষেত থেকে ৮০ পিস সোনার বার উদ্ধার

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

ফিরছেন বিন্দু

বার্তাকক্ষ লাক্স তারকা বিন্দু অভিনয়ে নেই দীর্ঘ দিন ধরে। এবার আট বছর পর চলচিত্র...

অস্ত্রোপচার শেষে ভালো আছেন রুক্ষ্মিণী

বার্তাকক্ষ হাসপাতালে ভর্তি অভিনেত্রী রুক্ষ্মিণী মৈত্র। বুধবার রাতে আচমকাই নায়িকার পোস্ট। হুইলচেয়ারে বসে অভিনেত্রী।...

মেসির নামে গোল…

বার্তাকক্ষ মেসিকে নিয়ে চিত্রনায়িকা পরীমনির পাগলামি নতুন কিছু নয়। এবারো মেসিকে নিয়ে নানা কাণ্ড...

লুকোচুরি খেলার সময় ১০তলা ভবন থেকে পড়ে গেলো শিশু

বার্তাকক্ষ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে লুকোচুরি খেলার সময় ১০তলা ভবন থেকে পড়ে অণ্বেষা ঘোষ (৮) নামে...

সুন্দর সাহা
যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অভিযান এবার চৌগাছা থানার কাশিপুর-শাহজাদপুর সীমান্তের কাঁটাতারের একটি মরিচ ক্ষেতে পুঁতে রাখা অবস্থায় ৮০ পিস সোনার বার উদ্ধার হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে (১৯ নভেম্বর) উদ্ধারকৃত সোনার ওজন ৯ কেজি ৩১০ গ্রাম, যার দাম ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ নিয়ে গত চার দিনে (১৬ থেকে ১৯ নভেম্বর) খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি) এবং যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) জওয়ানদের চার দিনের অভিযানে ২৯১ পিস সোনার বার উদ্ধার হলো। বিজিবির উদ্ধারকৃত সোনার ওজন সাড়ে ৩৭ কেজি। উদ্ধারকৃত সোনার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩২ কোটি ২০ লাখ টাকা।
সর্বশেষ যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) জওয়ানরা যশোরের চৌগাছা সীমান্ত থেকে ৮০ পিস সোনার বার উদ্ধার করেছে। শনিবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চৌগাছা থানার কাশিপুর-শাহজাদপুর সীমান্তের কাঁটাতারের ৩০০ গজ দূরে বাংলাদেশের ভেতরের মৎসমপুর মাঠের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। পাশাপাশি ভারতের সীমান্ত অঞ্চলে দুইজনকে দেখে বিজিবির সন্দেহ হয়। এসময় ব্যাটেলিয়ান অধিনায়কের নির্দেশে সীমান্ত অঞ্চলে চিরুনী অভিযান চালানো হলে একটি মরিচ ক্ষেতে পুঁতে রাখা অবস্থায় সোনার চালানটি উদ্ধার করা হয়। যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল শাহেদ মিনহাজ সিদ্দিকী দৈনিক প্রতিদিনের কথাকে বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় বিপুল পরিমাণ সোনার একটি চালান চৌগাছা থানার শাহজাদপুর সীমান্ত দিয়ে যাবে ভারতে পাচারের নেয়ার গোপন তথ্য পাওয়া যায় । পরে কাশিপুর-শাহজাদপুর সীমান্তে বাংলাদেশের ৩০০ গজ অভ্যন্তরে মেইন পিলার ৩৮/৮৫-এর পাশে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে মরিচ ক্ষেতের মধ্যে মাটিতে পুঁতে রাখা দুটি কাপড়ের বেল্টের মধ্যে আটালো টেপ দিয়ে মোড়ানো চারটি বড় সোনার বারের বান্ডেল পাওয়া যায়। প্রতিটি বান্ডিলে ২০ পিস করে চারটি বান্ডেলে ৮০ পিস সোনার বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সোনার ওজন ৯ কেজি ৩১০ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজার মূল্য দাম ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।’
এর আগে খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি)জওয়ানরা শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে অভিযান চালিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর সীমান্তে সাইকেলের মধ্যে থেকে এক কেজি ৭৪৯ গ্রাম ওজনের ১৫ পিস সোনর বারসহ ইমানুর রহমান নামে এক ক্যারিংম্যানকে আটক করেছে। সে বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালি গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে। খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল তানভীর রহমান, পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্স দৈনিক প্রতিদিনের কথাকে জানান, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতপুর পুটখালি সড়কে অভিযান চালিয়ে একজনকে একটি বাইসাইকেলসহ গতি রোধ করা হয়। ওই বাইসাইকেলে তল্লাশি করে ১৫ পিস সোনার বার উদ্ধার করা হয় এবং তাকে আটক করা হয়। যার ওজন ১ কেজি ৭৪৯ গ্রাম ওজনের যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।’ এ ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি)জওয়ানরা ভারতে পাচারের সময় শার্শার পাঁচভূলাট সীমান্তের রহমতপুর এলাকা থেকে ৮২ পিস সোনার বারসহ একটি মোটরসাইকেল আটক করেন। আটক সোনার পরিমাণ ৯ কেজি ৫৫৮ গ্রাম। যার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই সোনার বহনকারী ছিল বেনাপোলের পুটখালীর আব্দুল করিমের ছেলে মোহাম্মদ মেহেদী। খুলনা ব্যাটালিয়নের (২১ বিজিবি) অধিনানাক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তানভীর রহমান, পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্স দৈনিক প্রতিদিনের কথাকে জানান, ‘খুলনা ২১ ব্যাটালিয়নের পাঁচভূলাট বিওপির হাবিলদার মো. মালেক গাজীর নেতৃত্বে অভিযানে একটি মোটরসাইকেলকে চ্যালেজ্ঞ করে। এসময় সোনার বারের একটি ব্যাগ ফেলে সে পালিয়ে যায়। মেহেদীর ব্যাগ তল্লাশি করে ৮২ পিস সোনার বার উদ্ধার হয়।’ এদিন সকালে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন থেকে ২৩২ গ্রাম ওজনের দুই পিচ সোনার বারসহ রিপন (৪৪) নামে এক পাসপোর্ট যাত্রীকে আটক করেছে কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা। উদ্ধারকৃত সোনার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৬ লাখ টাকা। তার আগের দিন গত বুধবার (১৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০ টায় যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) জওয়ানরা অভিযান চালিয়ে বেনাপোলের আমড়াখালী থেকে ১১২ পিচ সোনার বারসহ দুই জনকে আটক করে। আটক সোনার পরিমাণ ১৬ কেজি ৫১২ গ্রাম। যার বাজার মূল্য সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। আটককৃত আসামিরা হলেন, কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকার মনু মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (২৭) ও চাঁদপুর জেলার মতলেব উওর থানার কালিপুর বাজার এলাকায় বারেক সরকারের ছেলে ফরহাদ সরকার (৩২)। এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি)অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহেদ মিনহাজ সিদ্দিকী দৈনিক প্রতিদিনের কথাকে জানান, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর বেনাপোল হাইওয়ের আমড়াখালি চেকপোস্টে সন্দেহ ভাজন একটি পিক-আপ ভ্যানের (যার নম্বর-ঢাকা মেট্রো-ন-১৯৮৩৯০) গতিরোধ করে তল্লাশি চালিয়ে ১১২ পিচ সোনার বার উদ্ধার করা হয়। যার ওজন ১৬ কেজি ৫১২ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
সীমান্তের সূত্রগুলো জানায়, যশোরের শার্শা-বেনাপোল-চৌগাছার বিভিন্ন সীমান্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভারতে সোনা পাচার সিন্ডিকেটের হোতারা। যশোর জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বানের স্রোতের মত প্রতিদিন পাচার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ সোনার বার। যার মধ্যে চৌগাছা সীমান্তের কাবিলপুর, মাশিলা, শাহাজাদপুর ও পুড়াপাড়াসহ অন্তত ২০টি অবৈধ ঘাট, শার্শা সীমান্তের গোগা, ভূলাট, অগ্রভূলাট, পাঁচভূলাট, রুদ্রপুর, হরিশচন্দ্রপুর, কায়বা, চরপাড়া ও দাঁদখালীসহ অন্তত ১০টি ঘাট, বেনাপোলের পুটখালী, দৌলতপুর, বড়আচড়া, রেললাইন, মেইন বর্ডার, সাদীপুর, বাহাদুরপুর এবং রঘুনাথপুরসহ অন্তত: ২০টি ঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সোনা পাচার করা হচ্ছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে আসছে ফেনসিডিল। সীমান্তের সূত্রগুলো আরও জানায়, এসব ঘাট দিয়ে যত সোনা পাচার হয়ে ভারতে যায় তার সবই জমা পড়ে আন্তর্জাতিক সোনা সিন্ডিকেটের হোতা বস্ গৌতমের ডেরায়। মাফিয়া ডন বস্ গৌতমের সঙ্গী এবং সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত রয়েছে আলোচিত অপু সাহাসহ ছোট গৌতম, দীপাঙ্কর, রাজীব, অজয়, পিন্টু, বরুণ, অনুপ, ডাকুসহ শতাধিক ব্যক্তি। যাদের সোনা সরবরাহ করে এদেশের সিন্ডিকেটগুলো। বস্ গৌতম এবং অপু সাহার এ দেশের সবচেয়ে বড় পার্টি হচ্ছে আন্তর্জাতিক সোনা সিন্ডিকেটের হোতা এ দেশের হোতা পল্টনের আওলাদ, বায়তুল মোকাররম সোনার মার্কেট এলাকার ইমরাণ, আরিফ, খোকা, খবির, তাঁতীবাজারের রাম এবং চট্রগ্রামের গোপাল। এরাই সব চেয়ে বড় সোনার যোগানদাতা। তারপরও অদৃশ্য কারণে পল্টনের কুখ্যাত আওলাদ, বায়তুল মোকাররমের আলোচিত ইমরাণ-আরিফ, খোকা, খবির, তাঁতীবাজারের ডিলার রাম এবং চট্রগ্রামের গোপালরাও থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বিশেষ ব্যবস্থায় সব ঘাট ম্যানেজ করে সোনা পাচারের ব্যবসা চলে বলেই এরা থাকছে ধরা ছোয়ার বাইরে। আর এসব কারণেই বন্ধ হচ্ছে না ভারতে সোনা পাচার।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

ব্রাজিলে হঠাৎ বন্যা, পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ

বার্তাকক্ষ প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে ব্রাজিলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শত...

রাশিয়ার তেল ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারে কিনতে একমত ইইউ

বার্তাকক্ষ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। অস্থিরতা বিরাজ করছে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারেও। সস্তায় তেল...

যশোর মনিরামপুরে কাভার্ডভ্যানের চাপায় ৫ জন নিহত:  তিনঘন্টা যান চলাচল বন্ধ 

জি এম ফারুক আলম/শামমি হোসনে,মণিরামপুর যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মণিরামপুর বেগারীতলা নামক বাজারে এক সড়ক দূর্ঘটনায়...