Friday, December 2, 2022
হোম জাতীয়২০ হাজার টাকা আয়ে ঝুপড়ি ঘর, ৩০ হাজারে সাবলেট!

২০ হাজার টাকা আয়ে ঝুপড়ি ঘর, ৩০ হাজারে সাবলেট!

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

যশোর মনিরামপুরে কাভার্ডভ্যানের চাপায় ৫ জন নিহত:  তিনঘন্টা যান চলাচল বন্ধ 

জি এম ফারুক আলম/শামমি হোসনে,মণিরামপুর যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মণিরামপুর বেগারীতলা নামক বাজারে এক সড়ক দূর্ঘটনায়...

অবসান হোক সহিংসতার রাজনীতির

১০ ডিসেম্বর সামনে রেখে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এদিন বিএনপি পল্টনে সমাবেশের ডাক...

রেমিট্যান্স অর্জনে সপ্তম বাংলাদেশ: বিশ্ব ব্যাংক

বার্তাকক্ষ: গত বছর প্রবাসী আয় থেকে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স অর্জন করেছিল ২২ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছর...

পুতিনের রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দেখছে না ইউক্রেন

বার্তাকক্ষ রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতারা একটি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ৯ মাস দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান...

বার্তাকক্ষ # দ্রব্যমূল্য বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে
# পরিবারের বাড়তি টাকার প্রয়োজন হলে ধার-দেনা করতে হয়
# খাদ্য-শিক্ষা-চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত
# নষ্ট হচ্ছে শ্রমঘণ্টা, কমেছে সাধারণের গড় আয়ু
মহামারি করোনাভাইরাসের ছোবলে আয় কমেছিল দেশের বহু মানুষের। অনেকে হারিয়েছিলেন চাকরি। সেই ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। বিশ্বজুড়ে তৈরি হলো সংকট। সেই প্রভাব ভালোভাবেই টের পাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষও। গত কয়েক মাসে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম। জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী। যার প্রভাব সব শ্রেণির মানুষের ওপর। অথচ এই সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি আয়। সংসার চালাতে হচ্ছে খরচ ছাঁটকাট করে। রাজধানী ঢাকার আবাসনের ওপর চালানো রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) এক গবেষণা বলছে, যাদের আয় ২০ হাজার টাকার মধ্যে তারা সংসার চালাতে এখন ঝুপড়ি ঘরে থাকছেন। আর ৩০ হাজারের মধ্যে আয় হলে তাদের ভরসা এখন ১০ হাজার টাকার মধ্যে সাবলেট।
রিহ্যাবের গবেষণা আরও বলছে, বাড়তি খরচ থেকে বাঁচতে অনেকেই পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়ে ব্যাচেলর জীবন-যাপন করছেন। অনেকেই আবার বড় সাইজের ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে বেছে নিচ্ছেন ছোট ফ্ল্যাট বা ঝুপড়ি ঘর। আর এক লাখ টাকার বেশি আয় না করলে রাজধানীতে কোনো বড় মাপের ফ্ল্যাটে থাকার সামর্থ্য নেই নগরবাসীর।
গবেষণাটি রাজধানীর পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, ধানমন্ডি, মিরপুর, গুলশান, বনানী, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে।
রাজধানীতে কর্মরত মানুষের আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে বাসা ভাড়ায়। এতে নিম্ন বা মধ্যবিত্ত পরিবার পারছে না তার সন্তানকে ভালোভাবে পুষ্টিকর খাবার দিতে কিংবা ভালোমানের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আয়ের বড় একটি অংশই আবাসনের পেছনে যাওয়ায় খাদ্য-শিক্ষা-চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি শ্রমঘণ্টা আর কমে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের গড় আয়ু।
রিহ্যাবের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় যাদের আয় ২০ হাজার বা ২০ হাজার টাকার মধ্যে তাদের ভরসা ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে কোনো ঝুপড়ি ঘর। এ ঘরে পরিবার নিয়ে কোনোরকমে থাকছেন তারা। যাদের আয় ২১ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা তারা থাকছেন ৬ থেকে ১০ হাজার টাকায় সাবলেট। ৩১ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয়কারীরা থাকছেন ছোট আকারের কোনো ফ্ল্যাটে। যেগুলোর ভাড়া ১১ থেকে ১৪ হাজার টাকার মধ্যে। আর যাদের আয় ৪১ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে তারা থাকছেন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার কোনো ফ্ল্যাটে। যেগুলোর আয়তন ১১০০ থেকে ১১৫০ স্কয়ার ফুট।
আর ৫১ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয়ের মানুষের ভরসা ১১৫০ থেকে ১২০০ স্কয়ার ফুটের কোনো ফ্ল্যাট, যেগুলোর ভাড়া ২১ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। ৮০ থেকে এক লাখ টাকা আয়ের মানুষ থাকছেন ১২০০ থেকে ১৫০০ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাটে- যেগুলোর ভাড়া ৩১ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। তবে ভালো মানের ১৫০০ স্কয়ার ফুট বা তারচেয়ে একটু বড় কোনো বাসায় থাকতে হলে অবশ্যই এক লাখ টাকার বেশি তাকে আয় করতে হবে। যেগুলোর ভাড়া ৪০ হাজার টাকা বা তারচেয়ে কিছুটা বেশি।
মাসুদ হাসান থাকেন রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায়। প্রায় আট বছর ধরে ঢাকায় তিনি। স্ত্রী আর পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন। একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনে। করোনাকালীন তার চাকরি চলে যায়। এনজিও থেকে লাখ টাকা ঋণ নিয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনেছেন। এখন তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রাইডে ভাড়া চালান। এতে মাসে ২০ হাজার টাকা আয় আসে তার।
তিনি বলেন, আমার একটি মেয়ে। এখন পাঁচ বছর চলছে। আসছে বছর তাকে কোনো একটি স্কুলে ভর্তি করতে হবে। বস্তিতে বাসা ভাড়া পাঁচ হাজার টাকা চলে যায়। মোটরসাইকেল অন্য একটি গ্যারেজে রাখি। সেখানে দিতে হয় এক হাজার টাকা। মেয়েকে স্কুলে কীভাবে পড়াবো এটা নিয়ে চিন্তা হয়।
‘নিত্যপণ্যের দাম কম থাকলেও হয়তো মেয়ের পড়ালেখা এখানে (রাজধানী ঢাকা) হতো। এখন খাবার কিনতে সব টাকা চলে যায়। অসুস্থ হলে লোকাল ডিসপেনসারি (স্থানীয় ওষুধের দোকান) থেকে চিকিৎসা নিতে হয়, বড় চিকিৎসক দেখাতে পারি না। ভাবছি নতুন বছর স্ত্রী-মেয়েকে গ্রামে রেখে আসবো। আমার যা আয় তা দিয়ে খাবার কেনা আর মেয়ের পড়ালেখা একসঙ্গে চালানো যাবে না।’
কথা হয় মতিঝিল এলাকায় একটি কোম্পানির সিকিউরিটিতে কাজ করা আসলাম হোসেনের সঙ্গে। তিনিও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এক যুগ ধরে ঢাকায় কাজ করছি। কিন্তু এখনো পরিবার নিয়ে থাকার সাহস করতে পারিনি। প্রতি মাসে ২৩ হাজার টাকা বেতন আসে, সাবলেট বাসা ভাড়ায় চলে যায় ৮ হাজার টাকা। গ্রামে বাবা-মা, স্ত্রী আর এক সন্তান আছে, তাদের টাকা দিতে হয়। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তখন অন্য কারও কাছ থেকে টাকা ম্যানেজ (ধার-দেনা) করে চলতে হয়।
তিনি বলেন, ভালোমানের খাবারের কথা চিন্তায়ও আনি না। তবে অফিসের কোনো অনুষ্ঠান হলেই সেখানে ভালোমানের খাবার পাই, এতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। আমি এক যুগে কোনো সঞ্চয় করতে পারিনি। কোম্পানি বলেছে ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দেবে চাকরি শেষে, যদি আসে তাহলে সেটাই বোনাস হবে। না দিলে যেভাবে খালি হাতে এসেছি সেভাবেই শূন্য হাতে গ্রামে ফিরতে হবে।
গবেষণা চালানো প্রতিষ্ঠান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি (প্রথম) কামাল মাহমুদের সঙ্গে কথা হয় আবাসন নিয়ে। তিনি বলেন, এখন সব কিছুর দাম বেড়েছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার কারণে কম দামে ফ্ল্যাট কেনা বা হস্তান্তর সম্ভব হয়ে উঠছে না কোম্পানিগুলোর। নিম্ন আয়ের মানুষের ভালোভাবে বসবাসটা হয়ে উঠছে না। তবে নির্মাণসামগ্রীর দামসহ নিত্যপণ্যের দাম কমলে মানুষের আবাসন সমস্যার সমাধান হবে। যেহেতু বাসা ভাড়ায় বড় অংশ চলে যাচ্ছে, এক্ষেত্রে সবার জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিতে ২০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড করে দিতে পারে সরকার। এতেও অনেকটাই সমাধান আসবে নগরের অধিবাসীদের।
নগরবাসীর স্বাস্থ্য-চিকিৎসা-শিক্ষা বিষয়ে কথা হয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, যারা ঢাকায় এ আয়ের মধ্যে থাকে তাদের একটা বড় অংশই নিম্ন বা মধ্যবিত্ত। তাদের আয়ের বড় একটি অংশই থাকা বা খাবার খরচে চলে যায়। এতে তারা খাদ্য-শিক্ষা-চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে ছোট বা বড় কোনো সংক্রমণ (অসুখ) হলেও তারা চিকিৎসা নিতে পারেন না অর্থের অভাবে। আবার সরকারি হাসপাতালেও সেটা পর্যাপ্ত পাওয়া যায় না। ফলে চিকিৎসা সেবা-শিক্ষা অবহেলিত থাকে।
তিনি আরও বলেন, এদের কোয়ালিটিপূর্ণ লাইফ কমে যাচ্ছে, এতে গড় আয়ু কমে যায়। এসব মানুষের হেলথ সেফটি, শিক্ষা সেফটি আনতে সরকারি ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার। নিত্যপণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। এটা না হলেও দেশের বড় অংশ বেকার হবে, কোটি কোটি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হবে, অর্থনীতিতে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

যশোর মনিরামপুরে কাভার্ডভ্যানের চাপায় ৫ জন নিহত:  তিনঘন্টা যান চলাচল বন্ধ 

জি এম ফারুক আলম/শামমি হোসনে,মণিরামপুর যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মণিরামপুর বেগারীতলা নামক বাজারে এক সড়ক দূর্ঘটনায়...

রেমিট্যান্স অর্জনে সপ্তম বাংলাদেশ: বিশ্ব ব্যাংক

বার্তাকক্ষ: গত বছর প্রবাসী আয় থেকে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স অর্জন করেছিল ২২ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছর...

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের পদ সংখ্যা বাড়ছে

বার্তাকক্ষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পদ সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও...