Thursday, February 2, 2023
হোম জাতীয়পতাকার উত্তরাধিকারদের চোখে বাংলাদেশ

পতাকার উত্তরাধিকারদের চোখে বাংলাদেশ

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

অভয়নগরে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক, অভয়নগর অভয়নগরে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে পূজা উদযাপন...

সাতক্ষীরায় প্রজনন মৌসুমে কঁকড়া ধরার অভিযোগে ১০ জন আটক

আব্দুল আলিম, সাতক্ষীরা প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া ধরার অভিযোগে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য থেকে ১০ জেলেকে আটক করেছে...

খাবার নিয়ে খুঁতখুঁতে শিশু, কী করবেন

বার্তাকক্ষ ,,একটা বয়স পর্যন্ত শিশুদের নিয়ে অনেক মায়ের অভিযোগ থাকে ‘আমার সন্তান তো কিছুই...

সাজা শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৯ বাংলাদেশি নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন ভারতে পাচার হওয়া ৯ বাংলাদেশি নারী। বিশেষ...

বার্তাকক্ষ বার্তাকক্ষ স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর নানা রাজনৈতিক বাস্তবতায় বলতে শোনা যায়, স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে, কিন্তু এখনও বিরোধীদের নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। বিরোধী শিবিরের মুখে মুখে ঘুরতে থাকে— এমন দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম? কিন্তু যারা যুদ্ধ করে পতাকা ছিনিয়ে এনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম দিতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন, সেসব শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সন্তানেরা কী বলেন? কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন তারা, কেমন বাংলাদেশে আছেন এখন, সেসব কথা।
১৯৭১ সালে বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বহীন ও মেধাশূন্য করতে হত্যা করা হয় বুদ্ধিজীবীদের৷ তারা এক অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, যা আজ তাদের সন্তানরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। শহীদদের সন্তানেরা বলছেন— বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এটা আমাদের বড় অর্জন। একটা সময় স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশ দখল করে নিলেও, আবার তা মুক্ত হয়েছে। সেটাও বড় আন্দোলন সংগ্রামের ফসল। প্রত্যেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ায় সন্তাষ প্রকাশ করেন তারা।
আমরা যে চার মূলনীতির জন্য যুদ্ধ করেছি, তার কোনোটিই পুরোপুরি অর্জিত হয়েছে বলা যাবে না, উল্লেখ করে শহীদের সন্তান ডা. নুজহাত চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হ্ত্যার মধ্য দিয়ে দেশের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের সব অর্জন ধুলিসাৎ হতে বসেছিল। পথ পরিক্রমায় অনেক জঞ্জাল জমে গেছে। বিষবৃক্ষ মহীরূহ হলে তা উৎপাটন সহজ না
তিনি বলেন, ‘এরশাদের আমলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে যখন ফিরিয়ে আনা হলো, তখন এই বিএনপি তার বিরোধিতা করেছিল। এখন আবার তারাই এটা নিয়ে ভিন্ন রাজনীতিতে মেতেছে।’
নুজহাত চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এবং পরবর্তীকালে আবারও ২০০১ সালে বিএনপি শাসনামলে আমাদের আদর্শ, আমাদের চাওয়া, শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে যে গভীর অন্যায় হয়ে গেছে, তা হঠাৎ সরিয়ে ফেলা যাবে এমন না। এসব পরিশোধন করার জন্য যে আবেগ ও সমাজ পরিবর্তনের উদ্যোগ থাকার কথা ছিল, তার অভাব আছে।’
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সত্যের শক্তি আদর্শকে টিকিয়ে রেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে এবং চলমান আছে— যা দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেখানো সম্ভব হয়েছে,. কী অন্যায় ঘটে গিয়েছে। কিন্তু ৭২ এর সংবিধানে ফেরার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটা সম্ভব হয়নি। আমরা এই কথাগুলো বললেই আমাদেরকে ধর্মেবিরোধী অবস্থানে দাঁড় করানোর প্রবণতা আছে। কিন্তু কথাগুলো আমাদেরই, মানে শহীদদের সন্তানদেরই বলতে হবে।’ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি আর ধর্ম পালন একবিষয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ধর্ম কখনও মসনদে যাওয়ার হাতিয়ার হতে পারে না। যেকোনওে ভুল পদক্ষেপকে স্বাভাবিক করে তোলা হলে আরও বড় ভুলের শঙ্কা দেখা দেয়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আদর্শের ক্ষেত্রে শুদ্ধাচারের ক্ষেত্রে করণীয় আছে। এই সরকারের সেই জায়গায় কাজের সুযোগ— আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্যায়কে অন্যায় বলা শেখবে, ব্যক্তিগতভাবে ধর্ম চর্চাকে রাজনীতিতে ব্যবহার করবে না, চিন্তার স্পষ্টতা থাকবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ইতিহাসকে নির্মোহভাবে বিচার করে আমাদেরকে সেই স্বপ্নের দিকে নিয়ে যাবে। আমাদের আদর্শিক সংগ্রাম চলবে। এই দীর্ঘ পথে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে নেতা হিসেবে আমাদের দরকার।’
শহীদের সন্তান হিসেবে বাংলাদেশকে কীভাবে দেখতে চেয়েছেন, সেই আশা অর্জন করা গেছে কিনা— প্রশ্নে শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের সন্তান তৌহীদ রেজা নূর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চরম এক অস্থির সময়ের মুখোমুখি আজকের বাংলাদেশ। আগামী বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে ক্রমশই। ইতিবাচক এবং নেতিবাচক নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মিশেলে পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরেই শুধু নয়, তথ্য প্রযুক্তির প্রভূত উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে দেশের বাইরে থেকেও নিরবচ্ছিন্নভাবে নানা ধরনের অপচেষ্টা চলছে। দেশের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল এবং ঘোলাটে করার উদ্দেশ্যে।’
সবাই আমরা জানি, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের দেশ এবং সমাজ ক্রমাগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শিবির এবং তাদের সমর্থকগোষ্ঠীর প্রভাবে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। খুব সুপরিকল্পিতভাবে তরুণ প্রজন্মের মনে অসত্য, অর্ধসত্য বিভ্রান্তিমূলক নানা তথ্য প্রোথিত করার কারণে, বাংলাদেশ সৃষ্টির মূল চেতনাবিরোধী প্রজন্ম হরে-দরে বেড়ে উঠেছে। এ দেশের শাসন ক্ষমতার কেন্দ্রে যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধীদের বহাল তবিয়তে পুনর্বাসিত করার কাজ হয়েছে। যার মাধ্যমে এদেশের অর্থনৈতিক নানা ক্ষেত্র তারা কুক্ষিগত করতে সমর্থ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিদারুণ প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে শাসনভার গ্রহণ করার পর নানা ধরনের কর্মকাণ্ড করতে সচেষ্ট হয়েছেন, যা মুক্তিযুদ্ধের হৃত চেতনার আলো নবপ্রজন্মের মনে জ্বালিয়ে দিতে সহায়ক হয়েছে।’
দেশবিরোধী শক্তিকে মোকাবিলা করতে আওয়ামী লীগকে নগর থেকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ঘর গোছাতে হবে। দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ পক্ষ শক্তির— বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাট্টা হতে হবে। অসাম্প্রদায়িক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমাজ গড়ার জন্য যা চলমান সময়ে একান্তভাবে দাবি করছে। অন্যথায়, বাংলাদেশের আগামী অত্যন্ত দুর্বিপাকের মধ্যে পড়বে, যা একাত্তরের আত্মদানকে কলঙ্কিত করবে, প্রতারিত করবে আবারও।’
শহীদ মুনীর চৌধুরীর সন্তান আসিফ মুনীর মনে করেন, বাংলাদেশের যা অর্জন তার মধ্যে অন্যতম চার মূলনীতি। তবে সেই মূলনীতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারিনি। মূল চেতনা বুঝার চেষ্টা করলে চার মূলনীতি তার একটি বড় স্থান। চারটির কোনোটিই সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।
তিনি বলেন, যে বাংলাদেশ দেখতে চাই— ইতিহাস, ইতিহাসের পাতায়, যা সত্য তা প্রতিষ্ঠিত হোক। বিশেষত ভাষা আন্দোলন বা ৪৭ পরবর্তী ও মুদ্ধিযুদ্ধ থেকে পরবর্তী পর্যায়ে যা সত্য ইতিহাস, তা প্রকাশিত থাকুক— সেটা কেবল ইতিহাসের বইয়ের পাতায় না নয়, পাঠ্যপুস্তকে শিল্প সংস্কৃতি ঐতিহ্যে মানুষের মননে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে। বর্তমানে যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার, সে আমলে চার মূলনীতি নিয়ে নিজের মনের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হই যে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে লালিত যে রাজনৈক দল, তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। সেখানে কী করে সত্যিকার অর্থে সবসময় গণতন্ত্র থাকছে না। সেখানে কী করে ধর্মনিরপেক্ষতা বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। সেখানে ধনী দরিদ্রের পার্থক্য কীভাবে বাড়ছে। সেটা দুর্নীতি বা অন্য যেকোনও কারণেই হোক। যারা অর্থলোভী তাদের ধন বাড়ছে, গরিবের সামগ্রিক উন্নতি হলেও বৈষম্যের দূরত্ব বাড়ছে। বাঙালি জাতিয়তাবাদ কিছুটা প্রতিষ্ঠা করতে পারা গেছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে কিছুটা পেরেছি, আরও প্রয়োজন আছে।’
/এপিএইচ/

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

জুট মিল থেকে বিশ হাজার টন চাল জব্দ, গুদাম সিলগাল

বাগেরহাট সংবাদদাতা অতিরিক্ত মুনাফার জন্য মজুদ করা ২০ হাজার মেট্রিকটন চাল জব্দ করেছেে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ...

হজ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেলো ৭৪৭ এজেন্সি

বার্তাকক্ষ ,,চলতি বছর হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রাথমিকভাবে ৭৪৭টি এজেন্সিকে অনুমতি দিয়েছে সরকার। বুধবার...

ঘুস ছাড়া কাগজ দেন না ভূমি কর্মকর্তা

বার্তাকক্ষ ,,দর কষাকষি করে প্রকাশ্যেই ঘুস নেন রাজশাহীর বড়কুঠি মহানগর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি...