Tuesday, February 7, 2023
হোম মুক্ত ভাবনাপ্রধানমন্ত্রী জাপাকে শক্তিশালী দেখতে চান’

প্রধানমন্ত্রী জাপাকে শক্তিশালী দেখতে চান’

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

উন্মুক্ত হোক মালয়েশিয়া শ্রমবাজার

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে দীর্ঘসময় জটিলতা চলছে। বারবার উদ্যোগ নিলেও ফলপ্রসূ হচ্ছে না। দুদিনের সফরে...

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ফল প্রকাশ

বার্তাকক্ষ ,,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২০ সালের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষ চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ...

আশংকাজনক হারে বাড়ছে মুখের ক্যান্সার

বার্তাকক্ষ ,,বিশ্বে ক্যান্সারে মোট মৃত্যুর কারণের মধ্যে মুখের ক্যান্সার নবম। বিশ্বে সকল ক্যান্সারের মধ্যে...

১২ দিনেই শাহরুখের পাঠানের আয় ৮৩২ কোটি রুপি

বার্তাকক্ষ ,,চার বছর পর ফিরেই একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন শাহরুখ খান। তার...

প্রভাষ আমিন
সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি দলের মতো বিরোধী দলেরও সমান গুরুত্ব আছে। সরকারি দল আর বিরোধী দল আসলে সাইকেলের দুই চাকার মতো। সংসদ কার্যকর ও সচল রাখতে হলে দুই চাকাই সচল থাকা দরকার। গণআন্দোলনে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে গণতন্ত্রের নবযাত্রায় ফিরে আসে সংসদীয় ব্যবস্থাও। কিন্তু দুই চাকার দুই মেরুতে অবস্থানের কারণে সংসদীয় গণতন্ত্রের সাইকেলটি ঠিকঠাক মতো চলতে পারেনি। ওয়াকআউট, বর্জন, পদত্যাগে বারবার হোঁচট খেয়েছে সেই সাইকেল। সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিরোধী দলের। সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া, সমালোচনা করা, সরকারকে ঠিক পথে চলতে বাধ্য করাও বিরোধী দলের দায়িত্ব। সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারি দলের সঙ্গে বিরোধী নিয়মিত যোগাযোগ, আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের সুযোগ রয়েছে। অধিবেশনের সময় সংসদের ফ্লোরে তো বটেই, সংসদীয় কমিটিতেও বিরোধী দল সরকারকে চাপে রাখতে পারে। কিন্তু সংসদকে সচল রাখা, সরকারকে ঠিক পথে রাখার চেয়ে বর্জনে, পদত্যাগে সংসদ অচল করার চেষ্টাই বেশি ছিল আমাদের বিরোধী দলগুলোর। কিন্তু সংসদকে অচল করলে যে গণতন্ত্রই অচল হয়ে যায়, সরকার অচল হয়ে যায়; সেটা বিরোধী দলগুলো ভাবেনি।
অবশ্য ভাবেনি না বলে, ভেবেচিন্তে সরকারকে বিপাকে ফেলতেই বিরোধী দল বর্জন, পদত্যাগে যায় বলাই ভালো। সংসদীয় গণতন্ত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা বড্ড তেতো। কখনও আওয়ামী লীগ, কখনও বিএনপি; বিরোধী দলে থাকার সময় সবাই সরকারকে ঠিকপথে রাখার চেয়ে বিপাকে ফেলার দিকে বেশি নজর দিয়েছে। তাতে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশ, ভুগেছে সাধারণ মানুষ, ভুগেছে অর্থনীতি
২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসে। আশা ছিল, এবার বুঝি সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় পরিবর্তন আসবে। পরিবর্তন এসেছে; তবে যা এসেছে তা অকল্পনীয়, নজিরবিহীন, অবিশ্বাস্য। জাতীয় পার্টি একই সঙ্গে বিরোধী দল এবং সরকারি দলও। বিরোধী দলের দুই জন সদস্য ছিলেন মন্ত্রিসভায়ও। সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রত্যাশিত হলেও বিরোধী দলের একেবারে সরকারের বিলীন হয়ে যাওয়াটা আসলেই অভূতপূর্ব। দুই চাকার বদলে সংসদ হয়ে যায় এক চাকার জাদুর সাইকেল। জাতীয় পার্টি পরিণত হয় ‘গৃহপালিত বিরোধী দলে’। অবশ্য রাজনৈতিক অভিধানে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’-এর অন্তর্ভুক্তির কৃতিত্বও বর্তমানের গৃহপালিত জাতীয় পার্টিরই।
১৯৮৮ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিল বাংলাদেশের মূলধারার সব রাজনৈতিক দল। তখন আ স ম আব্দুর রব কাগুজে ৭২ দল নিয়ে একটি সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ) বানিয়ে এরশাদের সেই নির্বাচনকে বৈধতা দিতে এগিয়ে এসেছিলেন। সে নির্বাচনে আ স ম আব্দুর রব ছিলেন ‘গৃহপালিত বিরোধী দলে’র নেতা। এখন যেই দায়িত্ব পালন করছেন রওশন এরশাদ। তবে আ স ম আব্দুর রবের ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ও এখনকার মতো সরকারে বিলীন হয়ে যায়নি।
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণআন্দোলনের মুখে পতনের পর কেউ ভাবেনি এরশাদ আবার এ দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই’ এই আপ্তবাক্যকে পুঁজি করে জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের জায়েজ করে নিয়েছে।
প্রথমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন এরশাদ। এরপর বিএনপির সঙ্গে চারদলীয় জোট করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে জাতীয় পার্টি। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকেই জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক, আর ২০১৪ সাল থেকে গৃহপালিত বিরোধী দল।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হলেও জাতীয় পার্টিতে বরাবরই দুটি ধারা বিদ্যমান- একটি আওয়ামীপন্থি, অন্যটি আওয়ামী বিরোধী। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বরাবরই আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত। এরশাদ বেঁচে থাকতে বিভিন্ন সময়ে সরকার বিরোধী অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলেও নানা কারণে পারেননি। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এরশাদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাননি। কিন্তু এরশাদকে অসুস্থ সাজিয়ে চিকিৎসার নামে সিএমএইচে আটকে রেখে আওয়ামী লীগ সেবার নির্বাচনি বৈতরণী পার হয়ে যায়।
এরশাদকে বশে রাখার কার্যকর একটি উপায় বের করে নিয়েছিল সরকারি দল। এরশাদ যখনই সত্যিকারের বিরোধী দল হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তখন মঞ্জুর হত্যা মামলার তারিখ পড়েছে। আর দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা এরশাদ আর কখনোই কারাগারে ফিরে যেতে চাননি। তাই নিজের পছন্দের রাজনীতিটাও করতে পারেননি। বিএনপির সঙ্গে আদর্শিক নৈকট্য থাকলেও তার শেষ জীবনটা কাটাতে হয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে। মামলার তারিখ পড়লেই এরশাদের বিপ্লব ফুরিয়ে যেতো।
এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব পান তার ছোট ভাই জি এম কাদের। তবে এরশাদের সঙ্গে রওশনের যে দ্বন্দ্ব ছিল তার ধারাবাহিকতা এখন চলছে রওশনের সঙ্গে জি এম কাদেরের। দেবর-ভাবির দ্বন্দ্ব এখন বাংলাদেশের রাজনীতির আলোচনার বিষয়। চিকিৎসার জন্য রওশন দীর্ঘদিন ব্যাংককে ছিলেন। সেখান থেকেই কাউন্সিল ডাকলে দ্বন্দ্ব আবার সামনে আসে। চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন রওশন। দেশে ফিরেই তিনি জাতীয় পার্টিতে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তবে সেই ডাকে এখনও পুরোপুরি সাড়া মেলেনি। স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে না গেলেও ভাবির সঙ্গে দেবরের এক টেবিলে নাস্তার খবরে স্বস্তি আসে জাতীয় পার্টিতে।
সরকার এরশাদকে যে কৌশলে বশ করে রেখেছিল, জি এম কাদেরের জন্যও সেই একই কৌশল বের করা হয়েছে। তবে জি এম কাদের তো আর এরশাদের মতো দুর্বৃত্ত নন, তাই তার বিরুদ্ধে পুরোনো কোনও মামলাও নেই। তাকে আটকাতে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত দুই নেতার মামলা সাজানো হয়েছে। সেই মামলায় দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জি এম কাদেরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
একটি দল চলবে তার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সেখানে আদালতের কিছু করার থাকার কথা নয়। কিন্তু নজিরবিহীনভাবে আদালতকে ব্যবহার করে জি এম কাদেরকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। বুঝতে অসুবিধা হয় না, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত কখনও রওশন এরশাদ, কখনও আদালত দিয়ে জি এম কাদেরকে বশে রাখার চেষ্টা হবে। তিনি সত্যিকার বিরোধী দল হতে চাইলেই বিপাকে পড়বেন, এটা এখন পরিষ্কার।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার মতো ঝানু রাজনীতিবিদ বর্তমানে তো নেইই, অতীতে খুব বেশি ছিলেন না। দেশের অন্য সবকিছুর মতো রাজনীতিতেও শেখ হাসিনাই শেষ কথা। তিনি নিজের দল তো সামলানই, জোট, মহাজোটের শরিক দলের দ্বন্দ্ব সামলানোর দায়িত্বও যেন তার। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ঘরের বিবাদ মেটানোর দায়িত্বও শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকেই নিতে হয়। আগে এরশাদ আর রওশনের ঘরের সমস্যা মেটাতেন, এখন দেবর-ভাবির মান-অভিমান মেটানোর দায়িত্বও শেখ হাসিনার কাঁধেই।
গত মঙ্গলবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রওশন এরশাদ ও জি এম কাদের। রওশনের সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে ও সংসদ সদস্য সাদ এরশাদ। তবে জি এম কাদের একাই আলাদাভাবে গেছেন। তবে তারা একসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। দৃশ্যত এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এই সৌজন্য সংসদীয় গণতন্ত্রেরই বিরল সৌন্দর্য। তবে বুঝতে অসুবিধা হয় না, বৈঠকে জাতীয় পার্টির চলমান দ্বন্দ্ব, দেশের রাজনীতি, আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইদানীং জি এম কাদের জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত থেকে ‘সত্যিকারের বিরোধী দল’ বানানোর চেষ্টা করলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি আগামী নির্বাচনে মহাজোটের অধীনেই অংশ নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৈঠক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় গণতন্ত্রে গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকা পালনের জন্য জাতীয় পার্টিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীর যেকোনও দেশে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলসমূহের দায়িত্বশীল ভূমিকার বিষয়ে আলোচনা করেন।’
‘প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি ছাড়া বলা ঠিক হবে না’ বলে জি এম কাদের বৈঠকের আলোচনার বিষয় এড়িয়ে গেলেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী দেখতে চান।’ এটাই বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থার হাল। প্রধান বিরোধী দলকে শক্তিশালী করার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর চাইতে হয়!
লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

অর্থনীতিতে সুবাতাস, তবে…

প্রভাষ আমিন হঠাৎ গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে একটা গেল গেল রব উঠেছিল। অর্থনীতি ধ্বংস...

আন্তর্জাতিক মেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বইমেলাকে

ড. মাহবুব হাসান বাংলা ভাষাকে যেমন মায়ের মতো ভালোবাসি, বইমেলাকেও সেই মতো ভালোবাসতে শিখেছি। এটা...

নির্বাচনী হতাশা মস্ত রাজনৈতিক ফাঁদ

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বিএনপির এমপিদের পদত্যাগে শূন্য হওয়া ছয়টি সংসদীয় আসনে নতুন জনপ্রতিনিধি ঠিক হলো...