Thursday, February 2, 2023
হোম জাতীয়বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিনের মৃত্যু: র‌্যাব-ডিবির তদন্তে এবার ‘একই কারণ’

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিনের মৃত্যু: র‌্যাব-ডিবির তদন্তে এবার ‘একই কারণ’

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

মোদীর বিদেশ সফর, খরচ জানালো সরকার

বার্তাকক্ষ ,,২০১৯ সাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২১ বার বিদেশ সফর করেছেন। তাতে...

নিজেকে ধোনির মতো মনে হচ্ছে হার্দিক পান্ডিয়ার

বার্তাকক্ষ ,,টি-টোয়েন্টিতে ভারতের অধিনায়ক এখন হার্দিক পান্ডিয়া। যদিও এখনও স্থায়ী দায়িত্ব পাননি। তবে, তার...

নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস করে লাভবান হতেন তারা

বার্তাকক্ষ ,,রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ও উত্তরপত্র ফাঁস করে আসছিল সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র।...

আইএমএফের ঋণ প্রথম কিস্তির ৫০৯৪ কোটি টাকা পেলো বাংলাদেশ

বার্তাকক্ষ ,,আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের ৪৭৬.১৭ মিলিয়ন ডলারের প্রথম কিস্তি বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশি...

বার্তাকক্ষ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এসেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে। এ নিয়ে নানা বিভ্রান্তিও ছড়িয়েছে। কিছু দিন বিরতির পর আলোচিত এই ঘটনায় এবার তদন্তকারী দুই সংস্থা র‌্যাব ও ডিবির তদন্তে প্রায় একই রকম তথ্য এসেছে। যদিও ঘটনায় এসেছে নতুন মোড়, দুই সংস্থার পক্ষ থেকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে নতুন একটি কারণ; অর্থের অভাবে ‘আত্মহত্যা’
ফারদিন নিহত হওয়ার কারণ জানতে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত করে আসছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তের বরাত দিয়ে এই তরুণের মৃত্যুর কারণ হিসেবে একাধিক তথ্য দিয়েছে সংস্থা দুটি। ঘটনার ১ মাস ১০ দিন পর নতুন তদন্তে ডিবি বলছে, ‘টাকার জন্য হতাশা ও মানসিক চাপ থেকেই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন ফারদিন।’ আর র‍্যাব বলছে, ‘ব্রিজের উপর থেকে স্বেচ্ছায় নদীতে ঝাঁপ দেয় মৃত্যুবরণ করেন ফারদিন।’ নতুন এই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রায় ঐকমত্যে আসতে পেরেছে তদন্তকারী সংস্থা দুটি।এরআগে র‌্যাব ও ডিবির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে ফারদিন মৃত্যুর পেছনে ‘চনপাড়ার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রায়হানসহ বেশ কয়েকজন’, মাদকের সম্পৃক্ততা, ‘রায়হান গ্যাং’ এবং ‘ঢাকা শহরের কোনও স্থানে তাকে খুন করে লাশ শীতলক্ষায় ফেলে দেওয়া হয়েছে’ প্রভৃতি তথ্য জানানো হয়।
আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দুটি সংস্থা থেকে এমন দাবির পর ফারদিনের পরিবারের পক্ষ থেকেও এর বিরোধিতা করা হয়। ফারদিনের পরিবারের অভিযোগে এ ঘটনায় এই তরুণের এক বান্ধবীকেও গ্রেফতার দেখায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
তবে তদন্ত সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এমন ভিন্ন ভিন্ন তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়। এ বিষয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘ডিবি হোক আর র‌্যাব হোক, কেউ পয়েন্ট নেওয়ার জন্য সব মিডিয়াতে দেবে; এটা ঠিক না। কোনও ঘটনার একটা গ্রহণযোগ্য অগ্রগতি হবে, তখন সেটা মিডিয়াতে আসবে।’
নিয়মিত বিরতি দিয়ে একাধিক কারণ জানানোর পর বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) নতুন এক কারণ বের করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এবার পার্থক্য, তদন্তকারী দুটো সংস্থা ‘একই কারণ’ ব্যাখ্যা করেছে।
র‍্যাব আজ (১৪ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় কাওরানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সামনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন স্বেচ্ছায় সুলতানা কামাল ব্রিজ হতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টসহ অন্যান্য সকল সংশ্লিষ্ট আলামত বিবেচনায় নিয়ে র‍্যাবের তদন্তে এমনটাই বের হয়ে আসে। তবে এখনও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘ফারদিন নূর পরশ নিহত হওয়ার ঘটনায় র‌্যাব তার পারিবারিক সূত্র, অধিকতর তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজসহ স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের আলোকে রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করে।’
এর আগে আজ সন্ধা ৭টার দিকে ফারদিন প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ টাকার জন্য হতাশা ও মানসিক চাপ থেকেই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য স্পেন যেতে ৬০ হাজার টাকা প্রয়োজন ছিল পরশের। যেটা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। বন্ধুরা তাকে ৪০ হাজার টাকা দেন। পরে এক প্রকার মানসিক চাপে পড়েই আত্মহত্যা করেছেন তিনি।’
1র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন
ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন উল্লেখ করেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা যায়, রাত ২টা ১ মিনিটটে (সিসিটিভি ফুটেজ টাইম ২টা ৩ মিনিট। যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচা হতে নিহত ফারদিনকে লেগুনায় উঠতে দেখা যায়। রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিট সুলতানা কামাল ব্রিজের অপর পাশে তারাবো বিশ্বরোডের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লেগুনা থেকে নেমে যায় ফারদিন। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জানা যায় যে, রাত ২টা মিনিট সুলতানা কামাল ব্রিজের তারাবো প্রান্তে ফারদিনের অবস্থান ছিল। ঠিক রাত ২টা ৩৪ মিনিট সুলতানা কামাল ব্রিজের প্রায় মাঝখানে আসে ফারদিন।’
উল্লেখ্য যে, ব্রিজের তারাবো প্রান্ত হতে সুলতানা কামাল ব্রিজের মাঝখান পর্যন্ত দূরত্ব আনুমানিক ৪০০-৫০০ মিটার। রাত ২টা ৩৪ মিনিট ৯ সেকেন্ডে সুলতানা কামাল ব্রিজের রেলিং ক্রস করে ফারদিন এবং রাত ২টা ৩৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে সুলতানা কামাল ব্রিজের উপর থেকে ‘স্বেচ্ছায় নদীতে ঝাঁপ দেয়’। ঝাঁপ দেওয়ার পর রাত ২ টা ৩৪ মিনিট ২১ সেকেন্ডে শীতলক্ষ্যা নদীর পানিতে পড়ে ফারদিন। রাত ২টা ৩৫ মিনিটে ৯ সেকেন্ড ফারদিনের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও রাত ২টা মিনিটে ঘটিকায় ফারদিনের হাতের ঘড়িতে পানি ঢুকে অকার্যকর হয়ে পড়ে।’ উল্লেখ করেন কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তদন্তের বরাদ দিয়ে র‍্যাবের কর্মকর্তা কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘ফারদিনের শরীরের যে আঘাত চিহ্ন ছিল, সেটি ব্রিজের উপর থেকে পড়ে বুকে প্রচণ্ড আঘাত লাগে বা ব্রিজের গোড়ায় পড়ে আঘাত পেয়েছেন।’
কী বলেছিলেন র‌্যাব ও ডিবির কর্মকর্তারা
ঘটনার ১০ দিন পর ১৪ নভেম্বর রাতে র‌্যাব জানায়, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চনপাড়ার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রায়হানসহ বেশ কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যারা বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। যেকোনও সময় তাদের গ্রেফতার করা হবে।
১৭ নভেম্বর ফারদিন হত্যা মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি প্রধান) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, ফারদিনের চনপাড়া বস্তিতে যাওয়ার প্রমাণ এখনও মেলেনি, তাকে অন্য কোথাও হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ফারদিনের মোবাইলের ডাটা এনালাইসিস ও বিভিন্ন জায়গায় তিনি যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে ঢাকা শহরের কোনও এক জায়াগায় খুন হতে পারেন তিনি। মোবাইলের লোকেশনে আমরা নারায়ণগঞ্জও পেয়েছি।
প্রসঙ্গত, গত ৪ নভেম্বর রাজধানীর রামপুরা পুলিশ বক্সের সামনে বান্ধবীকে নামিয়ে দেওয়ার পর নিখোঁজ হয় ফারদিন নূর পরশ। এ ঘটনায় সন্তানের দাবিতে রামপুরা থানায় একটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন রানা। ৭ নভেম্বর শীতলক্ষ্যা নদীতে তার লাশ পায় নৌ পুলিশ। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, তার পরিবার ও সহপাঠীরা দাবি করে, ফারদিনকে হত্যা করা হয়েছে।
ছেলেকে হত্যা এবং লাশ গুমের অভিযোগে জড়িত থাকার অভিযোগে এনে রামপুরা থানায় ছেলের বান্ধবীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন বাবা নূর উদ্দিন রানা। লাশ উদ্ধারের পর থেকেই ফারদিনের বাবা দাবি করে আসছেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ফারদিনের কথিত সেই বান্ধবী এখনও কারাগারে আছেন, বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

জুট মিল থেকে বিশ হাজার টন চাল জব্দ, গুদাম সিলগাল

বাগেরহাট সংবাদদাতা অতিরিক্ত মুনাফার জন্য মজুদ করা ২০ হাজার মেট্রিকটন চাল জব্দ করেছেে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ...

হজ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেলো ৭৪৭ এজেন্সি

বার্তাকক্ষ ,,চলতি বছর হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রাথমিকভাবে ৭৪৭টি এজেন্সিকে অনুমতি দিয়েছে সরকার। বুধবার...

ঘুস ছাড়া কাগজ দেন না ভূমি কর্মকর্তা

বার্তাকক্ষ ,,দর কষাকষি করে প্রকাশ্যেই ঘুস নেন রাজশাহীর বড়কুঠি মহানগর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি...