Wednesday, February 1, 2023
হোম জাতীয়কণ্ঠযোদ্ধার কণ্ঠে বিজয়ের সুখস্মৃতি আর আক্ষেপের বাস্তবতা

কণ্ঠযোদ্ধার কণ্ঠে বিজয়ের সুখস্মৃতি আর আক্ষেপের বাস্তবতা

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

মিয়ানমারে সেনা শাসনের দুই বছর, জনগণের নীরব প্রতিবাদ

বার্তাকক্ষ ,,দুই বছর হয়ে গেছে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের। সামরিক শাসন, গনতন্ত্রের অধিকার হরণ ও...

৭ দিনের আয়ে ইতিহাস গড়ল ‘পাঠান’

বার্তাকক্ষ ,,সমালোচকদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে দুর্দান্তভাবে ফিরলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। দীর্ঘ চার বছরেরও...

ফিফা কাউন্সিলের নির্বাচনে হেরে গেলেন মাহফুজা আক্তার

বার্তাকক্ষ ,,টানা তৃতীয় মেয়াদে ফিফার কাউন্সিল মেম্বার হওয়া হলো না মাহফুজা আক্তার কিরণের। টানা...

আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী না : ঢাবি অধ্যাপক

বার্তাকক্ষ ,,পাঠ্যবই সংশোধনী কমিটিতে সদস্য হিসেবে কাজ করার কোনো আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা...

বার্তাকক্ষ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হঠাৎ করেই ঘুমন্ত বাঙালির ওপর হামলে পড়ে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের উচিত জবাব দেওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ায় আপামর বাঙালি। রণাঙ্গনে যুদ্ধের পাশাপাশি চলে কূটনৈতিক আর সাংস্কৃতিক যুদ্ধ। রণক্লান্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মনে তথ্য, সাহস ও শক্তি সঞ্চার করতে কলকাতা থেকে পরিচালিত হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। যাকে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি সেক্টর হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। সেখানে বাংলাদেশের অসংখ্য শিল্পী-কুশলীর মাধ্যমে তৈরি ও প্রচার হয় নাটক, গান, সংবাদ। যে কণ্ঠগুলো রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের মনে সাহস যোগাতো, পথ দেখাতো। সেই ঐতিহাসিক স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ইংরেজি সংবাদ পাঠ করতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ।
মহান বিজয় দিবসে (১৬ ডিসেম্বর) মুখোমুখি হয় এই কণ্ঠযোদ্ধার। জানার চেষ্টা হয় ১৯৭১ সালের এই দিনের অমূল্য স্মৃতিটুকু। কথা প্রসঙ্গে স্মৃতিকাতর ড. নাসরীন আহমাদ মনখুলে বলেন আরও অনেক কথা। জানান বিজয়ের স্মৃতি আর আক্ষেপের বাস্তবতা।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ খানিক পেছনে যান। বলেন, ‘‘১৪-১৫ ডিসেম্বর থেকে আমরা বুঝতে পারছিলাম যে যুদ্ধটা আমাদের দিকে চলে এসেছে। মানে পাকিস্তানিরা হেরে যাচ্ছে, আমরা জিতে যাচ্ছি। আর সে বিষয়টাকে নিয়ে আমাদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা কাজ করছিল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের রোজকার প্রোগ্রাম রোজই পরিকল্পনা ও রেকর্ডিং হতো। সে অনুযায়ী ১৪-১৫ তারিখ থেকে আমরা বেতারের মাধ্যমে জেনারেল নিয়াজিকে বলছিলাম, ‘তুমি সারেন্ডার করো’, ‘তোমার কোনও উপায় নেই। চারপাশ দিয়ে আমরা তোমাদের ঘিরে রেখেছি’। নিউজের মধ্যে আমরা এ জাতীয় কথাগুলো তাদেরকে বলছিলাম। আমরা শুধু নিউজেই বলছিলাম না, অনলাইনে যে লাইনারের মাধ্যমে কথা বলা হতো, সেটির মাধ্যমেও আমরা তাদেরকে কথাগুলো বলছিলাম। যেন তারা আমাদের শক্ত অবস্থানটা টের পায়। একইভাবে এই বার্তার মাধ্যমে রণাঙ্গনের যোদ্ধারাও যেন উৎসাহ পায়। এটা ১৪ ডিসেম্বর থেকেই করছিলাম আমরা। তবে তখন তো আর এটা জানতাম না, ১৬ ডিসেম্বর অন্যরকম একটা দিন আসবে আমাদের জীবনে।’’
অবশেষে এলো সেই বিজয়ের দিন। ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকায় বিজয়ের হাওয়া বইলেও, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ছিলো অন্যরকম উত্তেজনা। কারণ আগের রেকর্ডকৃত ও পরিকল্পনার প্রায় সব প্রোগ্রাম বাদ দিয়ে নতুন অনুষ্ঠান প্রচারের তাড়া ছিলো বেতার যোদ্ধাদের ভেতর। সেদিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে স্মিৃতিকাতর এই সংবাদযোদ্ধা বলেন, ‘‘১৬ তারিখ সকাল ১০টার দিকে আমরা স্বাভাবিক নিয়মের দিনের সকল প্রোগ্রামের সিডিউল ঠিক করে ফেলেছিলাম। তারপর দুপুর দুইটা-আড়াইটার দিকে আমরা জানলাম আজ সারেন্ডার হবে! কখন হবে ঠিক জানি না, তবে আমরা জানতে পারলাম কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়াজি সারেন্ডার করবে। তখন আমাদের যে আগের সিডিউল প্রোগ্রাম, সেগুলো সব বাদ হয়ে গেল। বিকালের জন্য নতুন প্রোগ্রাম রেকর্ড করতে হলো। মনে পড়ে, যখন সারেন্ডারের খবর পেলাম এবং অনুষ্ঠান সব বদলাতে হবে শুনলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে সবাই বসে গেলাম। বসেই আমাদের শহিদুল ইসলাম একটা গান লিখলেন, সঙ্গে সঙ্গে সুজেয় শ্যাম সুর করলেন এবং অজিত রায় সেটি কণ্ঠে তুলে নিলেন। সেই ঐতিহাসিক গানটি ছিল, ‘বিজয় নিশান উড়ছে ওই, বাংলার ঘরে ঘরে’। এই গানটি সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রচার হয়েছিল। সেদিনের বড় ঘটনার মধ্যে এটুকু স্পষ্ট মনে আছে।’’স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই যোদ্ধা কথায় কথায় আরেকটি তথ্য দেন। জানান, ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের আনন্দ শুধু বাংলাদেশেই নামেনি, তারই প্রতিচ্ছবি হিসেবে এদিন সন্ধ্যায় আলোয় ভেসেছিলো শহর কলকাতাও। তার ভাষায়, ‘কলকাতা ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট ছিল। কিন্তু সেদিন (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা বাজতে না বাজতেই পুরো শহর আলোয় ঝলমল করে উঠল! চেয়ে দেখলাম, চারিদিকে আর কোনও অন্ধকার নেই, সব আলোকিত। সেখানে আমরা যারা বাংলাদেশি ছিলাম, তাদের মধ্যে উত্তেজনা তো ছিলই। কলকাতার স্থানীয়রাও একে অপরকে অভিনন্দন জানাচ্ছিল। সবার মুখে স্লোগান ছিল- জয় বাংলা। একটা হই-হই উৎসবের ব্যাপার ছিলো সেই রাতে।’
১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ-পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সদস্যদের নানা ব্যস্ততার মধ্যে কাটতো! কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পরদিন থেকে পুরো পরিস্থিতি বদলে গেল। সেই পরিস্থিতিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে অভিমত জানালেন অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ।
এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘স্বাধীনতার পরের দিন একটা অ্যাবনরমাল ভাব চলে আসে। এতদিন যে পরিস্থিতি যে পরিবেশে চলছিলাম, পরদিন (১৭ ডিসেম্বর) সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হলো- যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলো! এটা মনে রাখতে হবে, নয় মাসের যুদ্ধ খুব অল্প সময়ের একটা যুদ্ধ। আমরা বছরের পর বছর নিজেদেরকে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ভেবে রেখেছিলাম। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পর আমাদের অনেকের কাছেই মনে হয়েছিল, কি ব্যাপার স্বাধীন হয়ে গেলাম! যুদ্ধ শেষ! আমরা স্বাধীন!’
স্বাধীনতার ৫২ বছর পেরিয়ে এই যোদ্ধার মনে তৈরি হলো কিছু আক্ষেপ। তিনি মনে করেন, ‘‘যে উদ্দেশ্য নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম সেটি প্রথম হোঁচট খেয়েছে ১৯৭৫ সালে, বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলার মধ্য দিয়ে। আমাদের তখন মনে হয়েছে, যার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লাম, তাকেই তো হারিয়ে ফেললাম। তারপর যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বলে আমরা যুদ্ধ করতাম, যেটি ছিল আমাদের রণধ্বনি; সেটি উচ্চারণ করতে পারিনি ২১ বছর। বঙ্গবন্ধুর নাম পর্যন্ত আমরা উচ্চারণ করতে পারিনি, একটা অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলাম তখন।’’
‘তারপরও আমরা ৫২ বছরে এগিয়েছি। গত ১৫ বছর আমরা কিছুটা থিতু হয়েছি। তারপরও আমরা সেভাবে এগোইনি। চারিদিকে এত অবকাঠামো উন্নয়ন, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল ইত্যাদি অনেক উন্নয়ন। কিন্তু আমরা যেই বাঙালিয়ানার জন্য যুদ্ধ করেছি, সেই বাঙালি এখন দেখছি না। এগুলো সত্যিই আমাকে অনেক কষ্ট দেয়।’ হতাশা নিয়ে যোগ করলেন এই কণ্ঠযোদ্ধা।
এই শিক্ষাবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা নিজেদের ব্যর্থ প্রজন্ম বলে দাবি করেন। মনে করেন, পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে পারেননি তারা। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। ড. নাসরীন আহমাদ বলেন, ‘একাত্তরের প্রজন্মের গর্ব করার বিষয় হলো- তারা একাত্তরের প্রজন্ম। কিন্তু কথা হলো, তারাও কি তাদেরকে ঠিকমতো চালাতে পেরেছে এ পর্যন্ত? কারণ, এখনও আমরা নানাভাবে সুবিধা নেয়ার চিন্তা করি। কিন্তু আমাদেরও যে একটা দায়িত্ব রয়েছে সেটা নিয়ে ভাবি না। এবং এখানটায় আমার কথা হচ্ছে, আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, তারা ব্যর্থ হয়েছি। আমরা আমাদের প্রজন্মকে ঠিকমতো গড়ে তুলতে পারিনি, পথটা দেখাতে পারিনি। যার জন্য এতগুলো বছর ধরে এখনও আমরা ঠিক সোজা পথে চলছি না।’

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

দুই আসনেই হারলেন হিরো আলম

বার্তাকক্ষ ,,বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে হেরে গেছেন আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল...

অনির্বাচিত সরকার এলে সংবিধান অশুদ্ধ হবে: প্রধানমন্ত্রী

বার্তাকক্ষ ,,দেশে অনির্বাচিত সরকার নিয়ে আসার পেছনে কলকাঠি নাড়েন- এমন ‘জ্ঞানীদের’ কঠোর সমালোচনা করেছেন...

ঢাকাকে মানুষের বসবাস উপযোগী করতে ১২ দফা

বার্তাকক্ষ ,,বায়ুমানের সূচক অনুযায়ী পৃথিবীর চারটি দূষিত নগরীর একটি হচ্ছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। জানুয়ারি...