Wednesday, February 8, 2023
হোম সাহিত্যঅমৃতকথা—১

অমৃতকথা—১

Published on

সাম্প্রতিক সংবাদ

জ্যোতির ‘আগুনের পাখি’

বার্তাকক্ষ ,,সর্বশেষ ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন জ্যোতিকা জ্যোতি। এবার তিনি...

ঐশ্বরিয়া অন্তঃসত্ত্বা!

বার্তাকক্ষ ,,হেঁটে এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আসছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। পরনে সাদা...

‘আমার ক্যারিয়ারের ৮০ শতাংশ কৃতিত্ব শাকিবের’

বার্তাকক্ষ ,,ঢালিউডের জনপ্রিয় দুই তারকা শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। অভিনয় জীবনের বাইরে তাদের...

তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৭,৮০০

বার্তাকক্ষ: ভূমিকম্পে সিরিয়া ও তুরস্কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই দেশে...

শামিম আহমেদ
যে মরে না, তাকে ‘অমৃত’ বলে। মৃত্যুহীন অবিনাশী হল, অমৃত। এক অর্থে মৃতভিন্ন বা জীবিতকেও অমৃত বলে। পুরাণের দেবতারা অমর, এ কথাও পুরাণের অনুষঙ্গে সত্য নয়। দেবাসুরের যুদ্ধে বহু দেবতার মৃত্যু হয়েছে। তাহলে অমৃত কী? অমৃত হল কাহিনী, তত্ত্ব, সাহিত্য। তবে সব কাহিনী বা তত্ত্ব অমর হয় না, কেউ স্বল্পকাল বাঁচে, কেউ বহু কাল। মানুষ চিন্তাশীল প্রাণী, অন্যান্য প্রাণিরা চিন্তাশীল নয়—এ কথা হলফ করে বলা যায় না। তাহলে মানুষের চিন্তাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয় কেন? কারণ, মানুষ তার চিন্তাকে লিপিবদ্ধ করতে পারে, পরের প্রজন্মের মধ্যে তার ভাবনাকে সঞ্চারিত করতে পারে। লিপির আগে সে এই কাজ করত শ্রুতির মধ্য দিয়ে। মানুষ ছাড়া অন্য কোনও প্রাণি এমন করতে পারে বলে মনে হয় না।
মানুষের চিন্তার ইতিহাস সুপ্রাচীন। মানুষের ভাবনার ইতিবৃত্ত দর্শন, বিজ্ঞান ও রাজনৈতিক চিন্তার ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করে। গোটা মানবতার ইতিহাস জুড়ে মানুষের চিন্তাই হল প্রধান বিষয়। চিন্তার ইতিহাসের অধ্যয়নকে বুদ্ধিবৃত্তীয় ইতিহাস বলা হয়। তাত্ত্বিক চিন্তা বা সংস্কৃতির বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছানোর পূর্বে মানব-চিন্তা তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে: এপিসোডিক, মিমেটিক এবং পৌরাণিক পর্যায়। এপিসোডিক হল দৈবাৎ বা আকস্মিক। ‘দৈব’ কথাটা একটু বুঝে নেওয়া দরকার। দৈব হল দেবসম্বন্ধী, দেবভাবসম্পন্ন; নীলকণ্ঠ বলছেন সত্ত্বপ্রধান আর গীতাতে আছে—দৈবীং প্রকৃতিম্। একে অলৌকিক বলা চলে। ঋগ্বেদ বলছে, দেব হল দীপ্যমান এবং শব্দটি এসেছে ‘দিব্’ ধাতু থেকে, ধাতুটির অর্থ হল দ্যুলোক। অর্থাৎ, চিন্তার ইতিহাসের প্রাথমিক পর্যায় ছিল অলৌকিক এবং দ্যুলোক বা স্বর্গ থেকে সব কিছু নিয়ন্ত্রিত হয়—এমন ভাবনা। এটি না মানার পক্ষে বহু যুক্তি আছে।
চিন্তার ইতিহাসের দ্বিতীয় পর্যায়ের নাম হল মিমেটিক বা অনুকরণীয় তত্ত্ব। এই তত্ত্বের নামটি দার্শনিক ধারণা মাইমেসিস থেকে এসেছে, যা বিস্তৃত অর্থ বহন করে। মিমেটিক তত্ত্বে, মাইমেসিস বলতে মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বোঝায়, যা রৈখিক নয়। মানুষ এমন এক প্রাণী যে সে কী চায় তা জানে না, এবং সে তার মন তৈরি করার জন্য অন্যদের দিকে ফিরে ফিরে যায়। আমরা অন্যরা যা চায় তাই চাই, কারণ আমরা তাদের আকাঙ্ক্ষার অনুকরণ করি। অনুকরণের ইচ্ছা মানুষকে প্রাকৃতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে নিয়ে যায় এবং অবশেষে বলির পাঁঠা করে তোলে।
তৃতীয় স্তর বা পৌরাণিক পর্যায় প্রায় ১,০০, ০০০-২,৫০,০০০ বছর আগে বিকশিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এই পর্যায়ে মানুষ ব্যাকরণসম্মত ভাষা এবং মৌখিক আখ্যান গঠনের জন্য ক্ষমতা অর্জন করে। গল্প, লোককাহিনী এবং নৈতিক উপকথা নির্মাণ করে। মানুষ কোথা থেকে এসেছে, এই বিশ্বের উদ্ভব কীভাবে এবং কখন মানুষ মারা যাবে বা মানুষের পৃথিবী ধ্বংস হবে, সেই সময় মানুষের জীবনে কী কী ঘটতে পারে তা বোঝার জন্য অবাধে মানুষ কল্পনাশক্তি ব্যবহার করতে শুরু করে। ‘স্বর্গ’ এবং ‘নরক’ কল্পনা করে সে, তার মধ্যে নৈতিকতার জন্ম হয়।
লেখার উদ্ভাবনের আগে প্রাক্-ইতিহাস মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসকে তার আলোচনায় ঠাঁই দেয়। প্রথম জানতে-পারা সংস্কৃতি আপার প্যালিওলিথিক যুগের। এই সময় গুহাতে অঙ্কিত বা নির্মিত শিল্প, শুক্র মূর্তি এবং পাথরের হাতিয়ারের মতো প্রত্নবস্তুর নিদর্শন পাওয়া যায়। অ্যাটেরিয়ান সংস্কৃতিতে বহু মূর্ত শিল্পের প্রমাণ আছে যা থেকে মানুষের চিন্তাধারার সঙ্কেত পাওয়া যায়। এই সময়ের ব্যক্তিগত অলঙ্কার মানুষের সৌন্দর্যচিন্তার বড় উদাহরণ, বিশেষ করে প্রাচীন আফ্রিকায় এমন বহু কিছু পাওয়া গেছে।
প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের নাটুফিয়ান সংস্কৃতি প্রতিমা শিল্প তৈরি করেছিল। খিয়ামিয়ান সংস্কৃতিতে মানুষের চিত্রায়ন চালু হয় যাকে প্রতীকের বিপ্লব বলে অভিহিত করা হয়। এই সময় মনে করা হয়, মানুষের চিন্তা ক্রমশ বস্তুবাদী হয়ে ওঠে। এই সমস্ত চিত্রকলা মানুষকে ধর্মের বিকাশের দিকে পরিচালিত করে। এই পর্বে নারী এবং ষাঁড়কে প্রথম পবিত্র মূর্তি হিসেবে দেখা যায়। এগুলি মানুষের চিন্তাধারাকে একটি বিপ্লবের দিকে পরিচালিত করেছিল। মানুষ প্রাণী বা আত্মার উপাসনা থেকে সর্বোত্তম সত্তার উপাসনার দিকে এগিয়ে যায়। ধর্মীয় চিন্তাধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘আবিষ্কার’ ছিল আকাশের দেবতার প্রতি বিশ্বাস। মধ্যপ্রাচ্য তথা স্তেপ ভূমিতে আকাশের একজন সাধারণ দেবতা ছিল যার নাম ছিল ডাইউস। এখান থেকে ভারতীয় আকাশ-দেবতা, গ্রীক জিউস এবং রোমান জুপিটার এসেছে মনে করা হয়। ঈশ্বরের জন্য ল্যাটিন শব্দ ডিউসও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত।
(ক্রমশ)

spot_img
spot_img

এধরণের সংবাদ আরো পড়ুন

কেউ এখন আর চিঠি দেয় না

নিয়ামুর রশিদ শিহাব ‘নাই টেলিফোন নাই রে পিয়ন, নাই রে টেলিগ্রাম/ বন্ধুর কাছে মনের খবর...

একাত্তরের ডায়েরী: কাব্য ও ভাষাশৈলীর সমতল ভূমি

মাঈন উদ্দিন আহমেদ দিনলিপি বা ডায়েরি সাহিত্যের এক শক্তিশালী জনরা। যেখানে লেখক তাঁর নিজের ঘটমান...

ফাত্তাহ তানভীর রানার গল্প: প্রেমিকরা-প্রেমিকারা

শিয়া মসজিদ থেকে তাজমহল রোড ধরে একটু সামনে এগোলে রাস্তার ধারে অনেকগুলো বাড়ির মধ্যে...