বাড়াতে হবে উৎপাদন ও মজুদ

0
30

পরিসংখ্যান নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো একটি জরিপ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। বিবিএসের এই জরিপের বিষয় ছিল খাদ্য নিরাপত্তা। দেশের চার কোটি ১০ লাখ পরিবারের মধ্যে ২৯ হাজার পরিবারের তথ্য নিয়ে তৈরি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের ২১.৯১ শতাংশ পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তার সংকট সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগে। সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ঢাকা বিভাগ। আটটি প্রশ্নের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ০.৮৩ শতাংশ মানুষ। এই হার সিলেটে ১.৪২ শতাংশ। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়লেও দেশের মানুষের ক্যালরি গ্রহণের হার বেড়েছে। দেশের বেশির ভাগ খাবার গ্রামে উৎপাদিত হলেও গ্রামের মানুষের মধ্যেই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সবচেয়ে বেশি। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাম এলাকাগুলোতে ২৪.১২ শতাংশ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিপরীতে শহর এলাকায় এই হার ২০.৭৭ শতাংশ। এমনকি চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা বেশির ভাগ মানুষও গ্রামেই থাকে। গ্রামে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ০.৯৫ শতাংশ মানুষ। শহরে এই হার ০.৬৭ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে সবখানেই খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি থেকেই সবার দৃষ্টি যায় খাদ্যঘাটতির দিকে। খাদ্যঘাটতির নানা কারণও রয়েছে। একদিকে উৎপাদন কমে যাওয়া যেমন আছে, তেমনি নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে উৎপাদিত ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আবার কৃষিজাত পণ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এসে পড়ছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশের বাজারও অস্থির। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখছি, বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ছে। পণ্যের দাম স্থির রাখা যাচ্ছে না। আবার বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের জোগান কমছে। চাহিদার বিপরীতে জোগানের ঘাটতি এখনো অব্যাহত। এর পাশাপাশি বর্তমান সময়ের বড় সংকট কী করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। দারিদ্র্যের হারও বাড়ছে। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় মানুষের বেঁচে থাকাই কষ্টের। অথচ দেশে উৎপাদিত খাবারের ২১ শতাংশ নষ্ট হয়। আর রান্না থেকে খাবার পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ খাদ্য নষ্ট হয়। দুর্বল ব্যবস্থাপনার জন্য উৎপাদিত খাদ্য নষ্ট হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি বিপন্ন হচ্ছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে বাংলাদেশের মতো একটি গরিব দেশকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে। নিতে হবে প্রস্তুতি। উৎপাদন ও মজুদ বাড়াতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here