কে হবেন কিমের উত্তরসূরি?

0
27

প্রতিদিনের ডেস্ক
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। তার পরবর্তী উত্তর কোরিয়ার নেতা কে হবেন, এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অন্ত নেই। করোনা মহামারি চলাকালীন কিম করোনা আক্রান্ত হলে তাকে স্থলাভিষিক্ত করবেন কে—এ নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়। কিমের ছোট বোন ও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের একজন কিম ইয়ো জং হতে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা—এমনটাই মনে করছিলেন অনেকে। তবে কিমের সঙ্গে হঠাৎ করে ছোট্ট একটি মেয়ের উপস্থিতি এই ধারণা পাল্টে দেয়। ২০২২ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসেন কিমের মেয়ে কিম জু-আয়ে। তখন নতুন গুঞ্জন ওঠে, তিনিই হতে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতা। তবে এবার একই দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা করার পর এই ধারণাটি যেন ভিত পেলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, কিম জং উনের ‘সম্ভাব্য’ উত্তরসূরি হতে পারেন তার কিশোরী কন্যা কিম জু-আয়ে। বিভিন্ন সময় দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং সামরিক কুচকাওয়াজে কিমের সঙ্গে তাকে দেখা গেছে।
বিবিসি বলছে, এই প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) কিম জু-আয়ে’কে কিম জং উনের উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকার করলো।
জনসম্মুখে জু-আয়ের প্রথম উপস্থিতি
২০২২ সালের শেষ দিকে প্রথম জনসম্মুখে উপস্থিত হন কিম জু-আয়ে। তখন থেকেই তাকে নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় বেশ আগ্রহ দেখা যায়। সেই থেকে একটি ‘ভিন্ন’ ইমেজ নিয়ে কিম জু-আয়ের চলা শুরু।
এনআইএসের মতে, জু-আয়েকে জনসাধারণের কাছে পরিচিত করানোর পর থেকে তার প্রতি উত্তর কোরীয়দের সম্মান ও ভালোবাসা পর্যবেক্ষণ করে বলা যায়, বর্তমানে তিনিই কিমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি।
গোয়েন্দা সংস্থাটি আরও বলছে, ‘তবে অন্য সব সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আমাদের চোখ-কান খোলা আছে। কেননা, এখনও বেশ তরুণ কিম জং উন এবং তার বড় ধরণের স্বাস্থ্যগত কোন সমস্যাও নেই।’
ধারণা করা হয়, কিম জু-আয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতার দ্বিতীয় বড় সন্তান এবং তার বয়স ১০ বছরের আশপাশে।
‘সম্মানিত’ কন্যা
উত্তর কোরিয়ার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কিমকে এখন ‘প্রিয়’ কন্যার পরিবর্তে ‘সম্মানিত’ কন্যা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে কিম জু-আয়ের সর্বজনীন আত্মপ্রকাশের সময় তাকে ‘প্রিয়’ কন্যা হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছিল।
উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে শ্রদ্ধাভাজন পাত্রের জন্য ‘সম্মানিত’ বিশেষণটি সংরক্ষিত। কিম জং উনের ক্ষেত্রে, উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার পরই তাকে ‘সম্মানিত কমরেড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের বলা হয়েছে, কিমস একটি পবিত্র রক্তধারা থেকে এসেছে। যার মানে দাঁড়ায়, শুধু তারাই দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারে। তাই এই ঐতিহ্য রক্ষায় চতুর্থ প্রজন্মের কাছে এই পদটি তুলে দিয়ে নিশ্চিত হতে চাইবেন কিম।
কিমের সঙ্গে মেয়ের উপস্থিতি
সম্প্রতি, বাবার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার হাওয়াসং-১৮ সলিড-ফুয়েল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণে গিয়েছিলেন কিম আয়ে। এটি উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রাগারের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।
দুই বার ব্যর্থ প্রচেষ্টার পরে গত নভেম্বরে সফলভাবে কক্ষপথে মালিগিয়ং-১ নামের একটি স্পাই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছিল উত্তর কোরিয়া। তখনও কিমের সঙ্গে তাকে দেখা গেছে।
কট্টর পিতৃতান্ত্রিক কুসংস্কারের ইতি?
বিশ্লেষকরা বলেছেন, কিম আয়েকে আগে থেকেই জনসাধারণের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ হতে পারে, কিম চাইছেন ক্ষমতায় আসার আগে তার মেয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুক।
এটি কিমের জন্য উত্তর কোরিয়ার কট্টর পিতৃতান্ত্রিক কুসংস্কার কাটিয়ে ওঠার একটি উপায়ও হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব কখনও কোনও নারীর হাতে আসেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here