সাকিবের প্রচারণায় মাশরাফিসহ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা

0
30

প্রতিদিনের ডেস্ক
মাশরাফিসহ একঝাঁক তারকা ক্রিকেটার মাগুরা-১ আসনের সাকিবের নির্বাচনী মাঠে গণসংযোগ করেছেন। বিশেষ করে নড়াইল-২ আসনের নৌকার প্রার্থী মাশরাফি নিজের প্রচার-প্রচারণা বাদ দিয়ে সতীর্থের জন্য বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) ছুটে যান মাগুরায়। সৌম্য সরকার, রনিসহ অন্যরা আসেন একদিন আগেই। ছাদখোলা গাড়িতে করে লিফলেট বিতরণ, হ্যান্ডমাইকে প্রচারণাসহ নানা গণসংযোগের মধ্যে দিয়ে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তারা একাট্টা হয়ে মাগুরা-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে নামেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এ দৃশ্য ছিল মাগুরা শহরের নির্বাচনী উৎসবের অন্যতম অংশ।
মাশরাফি বলেন, সাকিব আল হাসানের নির্বাচনে মাঠে এসে গণসংযোগ করাটা দায়িত্ব মনে করেছি আমরা। এজন্য এসেছি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই ক্রিকেট তারকা বলেন, দু’এক ঘণ্টার জন্য মাগুরার নির্বাচনী এলাকায় এসেছি, এতে আমার নির্বাচনী মাঠের কোনো ক্ষতি হবে না। এছাড়া এ জনপদ আমার অনেক চেনা। এখানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। এটি আমার পাশের জেলা। আমরা পরস্পর প্রতিবেশী। আপনারা ৭ জানুয়ারি সবাই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নৌকাকে জয়ী করুন। তাকে সেবা করার সুযোগ দিন। সাকিব আল হাসান অবশ্যই আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করবেন।
সাকিব বলেন, তাদের পেয়ে আমি আনন্দিত। সবাই মিলে গড়বো আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ। এখন আমার একটাই কাজ, জননত্রেী শেখ হাসিনার সম্মান রাখতে নৌকাকে বিপুল ভোটে জয়ী করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত করা।
নির্বাচনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সাকিব রাতদিন ছুটেছেন শুধু নির্বাচনী মাঠে। নির্বাচনী গণসংযোগের পাশপাশি স্থানীয় ক্রীড়া মাঠে সমানভাবে সময় দিয়েছেন সাকিব। সাকিবের ইচ্ছা এখানে জনপ্রতিনিধি হয়ে অন্যান্য উন্নয়নের সঙ্গে জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করবেন। গড়ে তুলবেন একটি ক্রিকেট একাডেমি। উন্নয়ন ঘটাবেন জেলা স্টেডিয়ামের।
প্রথম দিকে রাজনীতির মাঠে একেবারে নতুন ক্রিকেটের এ অলরাউন্ডার তারকার রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। কিন্তু লাগাতার নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা ও নানাজনকে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে তিনি গোটা নির্বাচনী মাঠকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন যাতে সব প্রশ্নই এখন উবে গেছে। এখন সর্বত্রই তাই সাকিবেরই জয়গান।
জেলায় মোট আসন ২টি। মোট ভোটার ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯২০। পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৯৮ হাজার ২০৫ জন আর নারী ভোটার ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭১০। তৃতীয় লিঙ্গের আছেন ৫।
মাগুরা-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৮৫। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮৮২। নারী ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬২১। তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন।
এখানে মোট প্রার্থী ৫ জন। প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাকিব আল হাসান, জাতীয় পার্টির সিরাজুস সায়েফিন সাইফ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী রেজাউল হোসেন, তৃণমূল বিএনপির সঞ্জয় কুমার রায়, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির কে এম মোতাসিম বিল্লা।
মাগুরা-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩৫। পুরুষ ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৪৩। নারী ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৯। তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন।
মোট প্রার্থী ৬ জন। প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের ড. শ্রী বীরেন শিকদার, জাতীয় পার্টির ওয়াহেদ মোল্লা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী রেজাউল হোসেন, তৃণমূল বিএনপির আখিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আসাদুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী শেষ মুহূর্তে আদালতের নির্দেশে মনোনয়ন ফিরে পাওয়া অ্যাডভোকেট মশিয়ার রহমান।
দু’টি আসনেই বড় ধরনের কোনো চ্যালেঞ্জ ছাড়াই মাগুরা-১ আসনে নৌকার সহজ জয় পেতে পারেন সাকিব। কারণ বিএনপি কিংবা কোনো বড় দলের প্রার্থী, এমনকি হেভিওয়েট স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থী মাগুরা-১ আসনে প্রতীদ্বন্দ্বিতায় নামেননি। এখানে সাকিবের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন ৪ জন। এরা হলেন- বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকে কাজী রেজাউল হোসেন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে সিরাজুস সায়েফিন সাঈফ, বাংলাদেশ ন্যাশানালিস্ট পার্টির টেলিভিশন প্রতীকের মোতাসিম বিল্লা ও তৃণমূল বিএনপি’র সোনালী আশ প্রতীকে সঞ্জয় কুমার রায় রনি। এখনো পর্যন্ত এই আসনে ব্যাপক প্রচারনায় এগিয়ে সাকিব আল হাসান। ডাব প্রতীকের কাজী রেজাউল হোসেনের কিছু প্রচার প্রচারণা লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদের তেমন প্রচার প্রচারণা এখনো দেখা যায়নি।
মাগুরা-১ আসনটি এমনিতেই ১৯৯৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। এখানে পরপর এমপি হয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী প্রফেসর ডাক্তার সিরাজুল আকবর। পরবর্তীতে এমপি হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর এ আসনটি আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
অন্যদিকে রাজনীতির মাঠে সাকিব একেবারে নতুন। বিশেষ করে সাইফুজ্জামান শিখরের মতো একজন জনপ্রিয় সংসদ সদস্যকে বাদ দিয়ে তাকে এখানে মনোনয়ন দেওয়ায় দলীয় পর্যায়ে প্রথম দিকে বেশ বিরূপ ও বিক্ষুব্ধ অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তবে সাইফুজ্জামান শিখর নিজে সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সকলে সাকিবের সঙ্গে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাকিব আল হাসান বলেন, জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো আমাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে। এই সহযোগিতা নিয়ে এই আসনে আমি খুব সহজেই নৌকাকে জয়ী করতে পারবো। আমার ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন। তাদের প্রত্যেকেই যোগ্য। আমি চাই ভোটাররা কেন্দ্রে এসে স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিক। নির্বাচনকে সফল করুক। যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিক। কিন্তু কেন্দ্রে আসুক। তবে দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করলে অবশ্যই তারা নৌকাকে বিজয়ী করবে।
অপরদিকে মাগুরা-২ সংসদীয় আসন নম্বর- ৯২। মাগুরার মহম্মদপুর-শালিখা উপজেলা ও সদর উপজেলার ৪ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসন। এখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য বীরেন শিকদার। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী। এবার দিয়ে পঞ্চমবার তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন। এবার তার নৌকা মার্কার বিপরীতে ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে উল্লেখ করার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। নেই দলীয় কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী।
অন্য দলের প্রতিদ্বন্দ্বী ৪ প্রার্থী হলেন- জাতীয় পার্টির মুরাদ আলী লাঙ্গল প্রতীক, বাংলাদেশ কংগ্রেসের অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন ডাব প্রতীক, তৃণমূল বিএনপির অধ্যক্ষ আখিদুল ইসলাম সোনালী আঁশ প্রতীক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) আসাদুজ্জামান একতারা প্রতীক। স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন শেষ মুহূর্তে আদালতের নির্দেশে মনোনয়ন ফিরে পাওয়া অ্যাডভোকেট মশিয়ার রহমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here