পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ হোক

0
15

ব্যবসায়ীরা বারবার অভিযোগ করে আসছেন, সড়কপথে চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে ভোক্তা পর্যায়ের দামে। মূলত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির একটি কারণ পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি। তাই এ বিষয়ে খুবই শক্ত ব্যবস্থা নিতে সচিবদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমনে ব্যবস্থা নেয়া, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিশ্রæতিগুলো বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়া, কর আদায়ের আওতা বাড়ানোসহ সচিবদের প্রতি আরো একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সচিব সভায়’ এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনা সময়োপযোগী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবে আশা করি। সারাদেশের পথে পথে পুলিশ ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজি সারা বছরই চলে। এটা একটা স্থায়ী ও নিয়মিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে উভয় পক্ষের এই চাঁদাবাজিতে বাড়তি উৎসাহ যোগ হয়। এ সময় চাঁদাবাজি শুধু পণ্য পরিবহন পথেই সীমাবদ্ধ থাকে না, আরো নানা ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে। মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রমজান শুরু হবে। এর মধ্যেই রোজার পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। এটি কি শুধু চাঁদাবাজির প্রভাব? রমজানের আগে যে কোনো মূল্যে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে- নানা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়ে সেটা দেখার বিষয়। বাজার নিয়ে অস্থিরতা গত ২ বছর ধরে চলছে। সরকারেরও এবার ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে বাজার ব্যবস্থা। আমরা চাই বাজার সিন্ডিকেট এবার কঠোর হস্তে দমন হোক। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বারবার। তৎপরতাও খানিকটা লক্ষণীয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী যে কোনো মূল্যে মূল্যস্ফীতি কমানোর তাগিদ দিয়েছেন। গণমাধ্যমে খবর আসছে, দেশে এ বছর আমনের রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। বাজারে সরবরাহে ঘাটতি নেই, তারপরও চড়ছে চালের দাম। এছাড়া রসুন, মসুর ডাল, আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, জিরা, লবঙ্গ ইত্যাদি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতি এবং ডলার সংকটের কারণে এবার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কাজেই রোজা শুরুর আগেই যাতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর কৌশল বাস্তবায়ন করতে না পারে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে এখন থেকেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এটি ক্রমেই শঙ্কা বাড়াচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বাজার তদারকি ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে সাধারণ মানুষ আর পেরে উঠছে না। বাজার ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বন্ধ করতে হবে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও পরিবহনে চাঁদাবাজি। ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রি বাড়াতে হবে। সর্বোপরি অতি মুনাফালোভী সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সরকার কঠোরভাবে দমন ছাড়া উপায় নেই। বাজারের নিয়ন্ত্রণ সরকার নিতে না পারলে কোনোভাবেই পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা সম্ভব হবে না। কাজেই সরকারকে মূল ভূমিকা নিতে হবে।