দূষণ না হোক বায়ু ক্ষয় না হোক আয়ু

0
15

নাক, চোখ খুলে রাস্তায় বের হলেই বোঝা যায় আমাদের বায়ু কতটা দূষিত। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী দূষিত বায়ুতে নিঃশ্বাস নেয়ার কারণে আমাদের দেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭ বছর হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকাসহ দেশের অন্য শহরগুলোতে বুক ভরে শ্বাস নেয়ার যেন কোনো উপায় নেয়। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দূষিত বায়ুতে শ্বাস নেয়ার ফলে একজন ব্যক্তির হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। মূলত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ফলে এই মৃত্যুহার বৃদ্ধি পায়, যা দূষিত বায়ুর ফলেই ঘটে থাকে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা রিটের মামলায় ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির আদেশ বাস্তবায়ন চেয়ে যে আবেদন করা হয় সে অনুযায়ী হাইকোর্ট বায়ুর মানমাত্রা অস্বাস্থ্যকর, অতি অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছালে তা থেকে জনসাধারণকে রক্ষায় এলার্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে জরুরি সতর্কীকরণ বার্তা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মূলত বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণকারী সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজুয়ালের পর্যবেক্ষণ (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) অনুযায়ী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শেষ ১ সপ্তাহ এবং চলতি বছরের জানুয়ারির অধিকাংশ দিনে রাজধানী ঢাকার বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর, অতি অস্বাস্থ্যকর ও ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে থাকা সত্ত্বেও তা থেকে জনসাধারণকে রক্ষায় আদালতের নির্দেশ ও বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ১৩(৫) অনুযায়ী কোনো রকম সতর্কীকরণ বার্তা দেয়া হয়নি। তাই বেলা এই আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলো ও কার্যক্রম চিহ্নিত করতে এবং বায়ুদূষণ হ্রাস করতে বিবাদীদের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত বিবাদীদের বায়ুর মানমাত্রা অস্বাস্থ্যকর, অতি অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছালে তা থেকে জনসাধারণকে রক্ষায় আত্মসুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়ার দিকনির্দেশনা দিয়ে এলার্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে জরুরি সতর্কীকরণ বার্তা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি নির্দেশ প্রতিপালনবিষয়ক প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আমরা প্রত্যাশা করি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা ভেবে বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বায়ুর মানমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে গেলে এলার্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে জরুরি সতর্কীকরণ বার্তা দিয়ে জনসাধারণকে সচেতন করা হবে। প্রয়োজনে লিফলেট বিলি, পোস্টার ছাপানো এবং বিলবোর্ড স্থাপন করে সতর্কীকরণ মাধ্যম যথাসম্ভব জোরদার করতে হবে। পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে শহর এলাকায় সবুজ বেষ্টনী স্থাপন; মানুষ ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঘনত্ব হ্রাস; পরিকল্পিতভাবে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, ড্রেনেজ ও রাস্তার উন্নয়ন ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ; শহরের সড়কগুলোয় দৈনিক দুবার পানি ছিটানো; অপ্রয়োজনীয় রাস্তা খনন বন্ধ; পরিবেশবিদ, পরিবেশ ও বন অধিদপ্তর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে সমন্বয় টিম গঠন এবং বায়ু শোধন যন্ত্রপাতি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে আইন করলে নগর এলাকায় বায়ুদূষণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব। যেহেতু বায়ুদূষণের মতো সমস্যা থেকে উত্তরণের সুযোগ এখনো আমাদের আছে, তাই কর্তৃপক্ষের উচিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নির্লিপ্ত থেকে দূষিত বায়ুতে আমরা কেউই আয়ু ক্ষয় করতে চাই না।