মাত্র ৮ ঘণ্টায় আমার টাকা উদ্ধার হবে ভাবিনি: দীঘি

0
20

প্রতিদিনের ডেস্ক
ঘটনা গত শনিবারের। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় শুটিংয়ে যাচ্ছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। এ সময় একটি অপরিচিত নম্বর থেকে নায়িকার ফোনকল আসে। রিসিভ করতেই অন্যপ্রান্ত থেকে ভেসে আসে-‘বিকাশের কাস্টমার কেয়ার থেকে বলছি’।
ওই ব্যক্তি দীঘিকে বলেন, আপনার অ্যাকাউন্টে ভুলে ২৫ হাজার টাকা চলে গেছে। তাই আপনার অ্যাকাউন্টটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্টটি চালু করতে হলে আপনার নম্বরে একটি ওটিপি কোড পাঠানো হবে। সেটি আপনি বললে আপনার অ্যাকাউন্টটি ঠিক করে দেওয়া হবে।
নিজের অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে ফোনের ওপারের ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে তাকে ওটিপি নম্বর পাঠিয়ে দেন দীঘি। এর কিছুক্ষণ পর অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স চেক করে নায়িকা দেখেন, তার বিকাশে থাকা এক লাখ ৬২ হাজার ৬২৩ টাকা উধাও!
এরপর তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে বুঝতে পেরে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করেন দীঘি। তাদের সবার পরামর্শে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
এর পাশাপাশি শনিবার রাতেই দীঘি যোগাযোগ করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের সঙ্গে। এরপর রোববার বাবা সুব্রত বড়ুয়াকে নিয়ে ডিবিতে জিডির কপি জমা দেন এবং সেখানে লিখিত অভিযোগ করেন।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মিরপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই প্রতারককে টাকাসহ গ্রেফতার করেন ডিবির কর্মকর্তারা।
সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উদ্ধার হওয়া টাকা ফেরত নিতে ফের ডিবিতে আসেন দীঘি। টাকা ফেরত পেয়ে ডিবির অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন দীঘি। বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম ১০-১৫ দিন লাগবে। কিন্তু মাত্র ৮ ঘণ্টায় টাকা উদ্ধার হবে ভাবিনি।’দীঘি বলেন, ‘বাবাকে নিয়ে ডিবি অফিসে আসি। এসময় হারুন স্যার আমাদের বলেন, তুমি আসার আগেই তোমার ট্রানজেকশন দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করতে পেরেছি।’
দীঘি আরও বলেন, আমার বিশ্বাস ছিল এখানে ফোন দিলে সঙ্গে সঙ্গে তারা আমার কাজটা করে দেবে। ঠিক তাই হয়েছে এবং এটা অবিশ্বাস্য ছিল। গতকাল ৪টার দিকে ডিবি অফিস থেকে বের হই এবং রাত ১১টার দিকে এখান থেকে ফোন পাই। ফোনে বলা হয় টাকা রিনিউ করা হয়েছে।
এ নায়িকা বলেন, ৮ ঘণ্টার মধ্যে আমি টাকা উদ্ধারের সংবাদ পাই। এ কৃতজ্ঞতা আমি বাংলাদেশ পুলিশকে দিতে চাই।