নতুন সরকারের এক মাস পার হয়ে গেছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সরকার ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের এসব পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এক মাস বয়সী সরকারের জন্য এটা অনেক বড় অর্জন। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের অনেক জায়গা থেকে প্রায়ই অঘটনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি র্যাব একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভাড়া করা প্রাইভেট কারে যাত্রী উঠিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
পেশায় গাড়িচালক হলেও হত্যাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই পাঁচজনই জড়িত। র্যাব জানিয়েছে, দেশীয় অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে মারধর করে, আবার কখনো চেতনানাশক ওষুধ ব্যবহার করে অচেতন করে যাত্রীদের কাছে থাকা সব কিছু লুট করতেন তাঁরা। এরপর তাদের সুবিধাজনক স্থানে ফেলে রেখে সেখান থেকে পালিয়ে যেতেন। র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০-এর পরিচালক বলেছেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা গত বছরের ২৬ জুন ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা এলাকায় সাদ্দাম শেখ নামের একজন ইজি বাইকচালকের ইজি বাইক ভাড়া করেন। এ সময় তাঁরা ইজি বাইকচালক সাদ্দামকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে চেতনানাশক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে অচেতন করে একটি মেহগনিবাগানে সাদ্দামকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে ইজি বাইকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যান। এরপর ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী সাদ্দাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে নিহতের পরিবারের কাছে ছিনতাই করা ইজি বাইকটি ফেরত দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস ভাড়া করে যাত্রী সেজে চেতনানাশক ওষুধ ব্যবহার করে ছিনতাইসহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সর্বস্ব লুট করে আসছিলেন। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। গুরুতর অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। সমাজের কিছু মানুষও যেন দিন দিন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। মামুলি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি, এমনকি ঝগড়া-বিবাদ থামাতে গিয়েও একের পর এক ঘটছে হত্যাকাণ্ড। আহত হচ্ছে অনেকে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়ছে অপরাধ। অপরাধমূলক ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এক শ্রেণির মানুষ পুলিশ-প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, মানবিক মূল্যবোধ—কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। সামান্য কারণেই যখন খুনের ঘটনা ঘটছে তখন বলতে হবে, মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে গেছে।দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দেবে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অন্যায়কারীর শাস্তি হলে তা দেখে অন্যরা অন্যায় কাজে নিরুৎসাহ হবে। আর সে কারণেই আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে। অপরাধীদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।

