৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ভারতে ওয়্যারেবল ডিভাইসের বাজার বেড়েছে ৩৪ শতাংশ

প্রতিদিনের ডেস্ক
প্রযুক্তি খাতে দ্রুত বর্ধনশীল দেশ হিসেবে এগিয়ে রয়েছে ভারত। ২০২৩ সালে দেশটির ওয়্যারেবল ডিভাইসের বাজার ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। মোট উৎপাদিত ডিভাইসের পরিমাণ বেড়ে ১৩ কোটি ৪২ লাখ ইউনিট হয়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির তথ্যের বরাতে ইটি টেলিকমে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ২ কোটি ৮৪ লাখ ইউনিট ডিভাইস বাজারজাত করা হয়েছে যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
গত বছর উৎসবের সময় প্রচারমূলক অফার ও ডিসকাউন্টসহ কোম্পানিগুলো একাধিক নতুন ওয়্যারেবল ডিভাইস বাজারে এনেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এ খাতে অধিক পণ্য মজুদ থাকার মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। বছরওয়ারি হিসেবে বাজার বাড়লেও দেশটিতে ওয়্যারেবল ডিভাইসের গড় বিক্রিমূল্য অনেকটাই কমেছে। যেখানে ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে গড় বিক্রিমূল্য ২৫ ডলার ছিল, ২০২৩ সালের একই সময়ে তা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ২১ ডলার ২০ সেন্টে নেমে এসেছে।
ওয়্যারেবল ডিভাইসের মধ্যে স্মার্টওয়াচ বিক্রি বছরওয়ারি হিসেবে ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৩৪ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে। উৎসব মৌসুম ও ডিসকাউন্টের কারণে স্মার্টওয়াচের গড় বিক্রিমূল্য ৪২ ডলার ৫০ সেন্ট থেকে ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ২৬ ডলার ১০ সেন্টে নেমে এসেছে। এছাড়া ওয়্যারেবলের বাজারে স্মার্টওয়াচের হিস্যা ৪ দশমিক ৫ থেকে কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।
অন্যদিকে ইয়ারওয়্যার বা অডিও ডিভাইস সেগমেন্ট বছরওয়ারি ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ সময় ৮ কোটি ৪ লাখ ইউনিট ডিভাইস বিক্রি হয়েছে। ইয়ারওয়্যারের মধ্যে ট্রুলি ওয়্যারলেস স্টেরিওর (টিডব্লিউএস) বাজার হিস্যা ২০২২ সালের ৫৫ দশমিক ৩ থেকে বেড়ে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বছরওয়ারি হিসেবে এর হার ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে নেকব্যান্ডের বাজারজাত কমেছে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। পাশাপাশি গড় বিক্রিমূল্যও ৮ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১৮ ডলার ২০ সেন্টে স্থির হয়েছে।
বোট, নয়েজ ও ফায়ারবোল্টের মতো কোম্পানি বিভিন্ন মডেলের ডিভাইস ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাজারে তাদের অবস্থান ধরে রাখলেও গড় বিক্রিমূল্য কমেছে। ভারতে শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বোট। বিটএক্সপি নামের নতুন কোম্পানি অনলাইনে প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্মার্টওয়াচ ক্যাটাগরিতে শীর্ষদের তালিকায় উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকরা জানান, ক্রয়সক্ষমতার পাশাপাশি একাধিক বিকল্প থাকা ভারতে স্মার্টওয়াচের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এছাড়া নন-ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচগুলোয় থাকা বিভিন্ন সুবিধা ও একাধিক স্ট্র্যাপের উপস্থিতি প্রচলিত ব্র্যান্ডগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছে।
স্মার্টওয়াচের পর গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে স্মার্ট রিং প্রযুক্তি বাজারে ভালো প্রভাব বিস্তার করেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত বছর দেশটিতে ১ লাখের বেশি স্মার্টরিং বিক্রি হয়েছে এবং গড় মূল্য ছিল ১৭১ ডলার ৬০ সেন্ট। এর মধ্যে আল্ট্রাহিউম্যান কোম্পানি ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে শীর্ষে ছিল। ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল পি রিং।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়