এমামুল হাসান সবুজ, ঝিকরগাছা
যশোরের ঝিকরগাছার পল্লীতে সতীনপুত্রের কোদালের কোপে আহত সৎ মা সফুরা বেগম (৫০) অবশেষে ৪দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাগেছে। নিহত সফুরা খাতুন উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের নারাঙ্গাললী গ্রামের মোমতাজ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী ও মাগুরা ইউনিয়নের আব্দুস সামাদের মেয়ে। জানাগেছে, পারিবারিক কলহের জেরে গত ৯মার্চ দুপুরে নারাঙ্গালী গ্রামের মোমতাজ আলীর ছেলে ইয়ানুর রহমান তার সৎ মা সফুরা বেগমের মাথায় কোদাল দিয়ে সজোরে কোপ দেয়। পাশে থাকা মোমতাজকে বড়ছেলে মিজানুর রহমান ধাক্কাদিয়ে ফেলে দেয়। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সৎ মা সফুরা বেগমকে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় সফুরা বেগম মৃতবরন করেন। এদিকে উল্লেখিত ঘটনার পরদিন নিহতের প্রথম পক্ষের ছেলে নাজমুল ইসলাম বাদি হয়ে ঝিকরগাছা থানায় ৪জনকে আসামী করে মামলা করেন। যার নং-০৭, তাং-১০/০৩/২০২৪ ইং। ওই মামলায় মোমতাজ আলীর বড় ছেলে মিজানুর রহমানকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হলেও ঘাতক ইয়ানুরসহ অন্যরা পালাতক রয়েছে হয়েছে বলে তদন্তকারী অফিসার এস আই দেবব্রত জানিয়েছেন। নিহতের স্বামী মোমতাজ আলী বলেন, ইতিপূর্বে চাপসৃষ্টি করে ছেলেরা একবিঘা জমি লিখে নিয়েছে। আবারো জমি লিখে নিতে চাই। জমি লিখে দিতে না চাওয়ার কারনে ছেলেরা প্রায়ই তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এরই জের ধরে এদিন ইয়ানুর এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে লাশ নিহতের বাপের বাড়ি মিশ্রীদেয়া গ্রামে নেয়া হয়েছে বলে নারাঙ্গালী গ্রামের ইউপি সদস্য কবির হোসেন ও মিশ্রীদেয়াড়া গ্রামের ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন।

