উৎপল মণ্ডল,শ্যামনগর
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুর্ধর্ষ্য মাহতাব বাহিনীর হামলায় কবীর হোসেন (২৪) নামের এক যুবক আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে তিনি উপজেলার ভেটখালী বাসস্ট্যান্ডে পৌছে মাহতাব ও তার বাহিনীর হামলার শিকার হয়। আহত কবীরকে স্থানীয়দের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে তার পরিবার। সে উপজেলার গোলাখালী গ্রামের করিম বক্স গাজীর ছেলে। বাহিনী প্রধান মাহতাব উপজেলার ধুমঘাট মাঠেরচক গ্রামের মৃত ওমর আলী গাজীর ছেলে। তিন ছেলে আলাউদ্দীন, সালাউদ্দীন, আল-আমিনসহ স্থানীয় ১৫/১৬ তরুনকে নিয়ে মাহতাব এলাকাজুড়ে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছে। চুরি, ছিনতাই, ভাড়াটে সন্ত্রাসী সরবরাহের মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এ বাহিনীর বিরুদ্ধে। আহত কবিরের পিতা করিম বক্স জানায়,গত ১৯ মার্চ (মঙ্গলবার)বেলা ১১টার দিকে তার ছেলে স্থানীয় মাছের আড়ৎ-এ যায় পাওনা টাকা আদায় করতে। একপর্যায়ে দুপুর তিনটার দিকে ভেটখালী বাজার হতে কৈখালীর শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে বাসস্ট্যান্ডে পৌছে সে মাহতাব ও তার লোকজনের কবলে পড়ে।
করিম বক্স আরও জানায় কয়েকদিন আগে মাহতাব বাহিনী গোলাখালী ঘের দখলে যায়। এসময় স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষের সময় তার ছেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। পুর্বের সে ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মাহতাব তার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে হকিষ্টিক ও ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে কবীরকে মারাত্বকভাবে আহত করে। একপর্যায়ে নড়াচড়া করতে না দেখে কবীরকে ফেলে রেখে তার কাছে থাকা দুই লাখ টাকা, স্বর্নের চেইনসহ মোবাইল নিয়ে চলে যায়। পরবর্তীরেত স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শাকির হোসেন বলেন এক্স-রে রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে তার বাম হাত ভাঙা ছাড়াও মেরুদন্ডসহ মাথায় মারাত্বক আঘাতের প্রমান মিলেছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর শাররীক অবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করা যাবে বলেও তিনি জানান। অভিযোগের বিষয়ে মাহতাব হোসেন বলেন তার কোন বাহিনী নেই। তবে আগের দিন প্রতিপক্ষের হয়ে তাদের উপর চড়াও হওয়ার কারনে বাসস্ট্যান্ডের লোকজন কবীরকে সামান্য পিটিয়েছে।

