মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হোক

0
15

চাহিদা থাকায় বাংলাদেশে রেল সম্ভাবনা উজ্জ্বল। বাংলাদেশ রেলে সোনালি যুগের সূচনা করার সময় বয়ে চলেছে। দেশের ভেতরে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে রেল। কিন্তু নানা কারণে নিরাপদ বাহন হয়ে উঠেছে অনিরাপদ। গতকাল ভোরের কাগজের প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গড়ে প্রতি সপ্তাহে ঘটছে ২-৩টি দুর্ঘটনা। প্রতিরোধে নেই কার্যকর ব্যবস্থা। ক্ষতি হচ্ছে রেলের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। নেই কোনো জবাবদিহিতাও। রেললাইনে পাথর থাকা অপরিহার্য হলেও মাইলের পর মাইল রেললাইনে পাথর নেই, চুরি হয়ে যাচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ ৩ হাজার কিলোমিটার রেললাইনের দিকে তাকালেই দুর্দশার চিত্র দেখতে পাবে। রেলের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা নিয়ে নানা প্রকল্পের কথা জানতে পারি। অথচ যে পথ দিয়ে রেল চলাচল করে সেই পথই নিরাপদ করা হচ্ছে না। পর্যাপ্ত নতুন রেলপথ, সেতু নির্মাণ ও সংস্কার করা দূরে থাক, বিদ্যমানগুলোই সংস্কার করা হচ্ছে না। প্রায়ই খবর আসে রেল সেতু ভেঙে যাওয়ার ঘটনা। বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিকাংশ সেতুই নির্মিত হয়েছে ব্রিটিশ আমলে। এসব সেতুর বেশিরভাগই ঝুঁকিপূর্ণ-জরাজীর্ণ। জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা এসব সেতুর ওপর দিয়েই চলছে ট্রেন। ফলে একটু উনিশ-বিশ হলেই ঘটছে দুর্ঘটনা। চলতি বছরের এ পর্যন্ত রেলওয়ের দুটি অঞ্চলে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। যার অধিকাংশই লাইন মেরামতের অভাব, পুরনো বগি ও ইঞ্জিন এবং মান্ধাতার আমলের কাঠের তৈরি সিøপার ভেঙে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে। ৭০-১০০ বছরের কিংবা তারও বেশি পুরনো সেতুগুলো শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়, চরম আতঙ্কেরও বটে। এছাড়া স্টিল কিংবা লোহার ব্রিজগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ। দুই অঞ্চলে (পূর্ব-পশ্চিম) কেপিআইভুক্ত সেতু রয়েছে প্রায় ৪৫টি। সেতুগুলোর মধ্যে ৯০ শতাংশেরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অনেকাংশে পাথরই নেই। ফিশপ্লেট নেই অনেক জায়গায়। একই অবস্থা সেতু ও কালভার্টগুলোর। রেল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইনে পাথর না থাকা, সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি, লাইন ক্ষয়, স্লিপার নষ্ট, লাইন ও স্লিপার সংযোগস্থলে লোহার হুক না থাকা ইত্যাকার নানা কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে। দেশের যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো রেলওয়ে। অথচ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অবহেলার শিকার হয়ে আসছিল রেলওয়ে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে রেলের দিকে দৃষ্টি ফেরায়। স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হয়েছে রেলওয়ে। রেল উন্নয়ন মহাপরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে, যা দেশবাসীকে খুবই আশান্বিত করেছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শ্লথগতি, সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি অনাকাক্সিক্ষত প্রতিবন্ধকতায় পড়ার খবর আমাদের স্বভাবতই হতাশ করে। আমরা বিশ্বাস করি, পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়মতো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে সত্যিকার অর্থে রেল যোগাযোগে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। তার সুফল পড়বে দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে। সব দিক বিবেচনায় নিয়েই প্রয়োজনে প্রকল্পগুলো তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। আমরা চাই সব সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে রেল উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি আসুক।