সৈকত হোসেন
যশোরের চাঞ্চল্যকর প্রকৌশলী বায়োজিদ হত্যাকান্ডের প্রধান দুই আসামীকে এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার পর এক সপ্তাহ পার হতে চললেও ক্লিলিং স্কোয়াডের হেড রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ ও তার ভাই রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্জয় এর টিকিটি ছুঁতে পারেনি প্রশাসন। ফলে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। অনেকের মতে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের মূল কিলার মুল্লুক-সঞ্জয়সহ অন্যন্য কিলারদের যারা আটক করতে পারতো তাদের মাছট না নামানোর কারনে অনেক প্রশ্নের সুষ্টি হচ্ছে। যশোরবাসীর বিশ্বাস ডিবি পুলিশকে মাঠে নামানো হলে মূল কিলারদের এতোদিনে আটক করা সম্ভব হতো । তা না করে আসামি আটকে প্রশাসনের লুকোচুরি খেলায় মুল্লুক-সঞ্জয়সহ হত্যাকাণ্ডের মুল হোতাদের দেশত্যাগের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে পুলিশ বলছে খুনিদের দেশত্যাগের কোন সুযোগ নেই। তারা যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারে সেজন্যে সকল ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেইসাথে সীমান্তে জারি করা হয়েছে রেড এলার্ট। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলা হলেও বাস্তবে তার কোন নিদর্শন মিলছে না। পুলিশ জানায়, আটক আসামিদের রিম্যান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত তিন আসামি আটক হয়েছে। এরমধ্যে বায়োজিদ হত্যাকাণ্ডের কিলিং মিশনের অংশ নেয়া মোস্তাফিজুর রহমান খোকাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। খোকা এ হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি আদালতে স্বীকারও করেছেন। এরপর আর পুলিশের তেমন কোন অভিযানের খবর মেলেনি। তবে, গত ২৭ মার্চ র্যাব-১ এর সহযোগিতায় র্যাব-৬ এর যশোর ক্যাম্পের একটি টিম ঢাকার উত্তরার ভাটারা থানাধীন ঢালীবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী নবীনগরের রাজু আহম্মেদ রাজু ও সদর উপজেলার লেবুতলার আব্দুর রহমান রাজন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন র্যাব-৬ যশোর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাকিব হোসেন।
গত ২৫ মার্চ রাতে যশোরে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ এবং তার সহোদর সঞ্জয়ের নেতৃত্বে তাদের প্রতিষ্ঠানের চাকরিচ্যুৎ প্রকৌশলী খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার বায়েজিদকে ধরে এনে পিটিয়ে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ ও তার ভাই রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্জয়সহ তাদের ক্যাডার বাহিনী অংশ নেয়। ওই রাতেই নাইড গার্ডের সহযোগিতায় মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ ও তার ভাই রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্জয়সহ নয় জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। এ মামলার তিন আসামিকে আটক করা হলেও মূল আসামিরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছে, চৌধুরী কন্সস্ট্রাকশনের সাব কনট্রাক্টর শহিদুল ইসলাম, শাহ আলম, যশোর শহরের লোন অফিসপাড়ার জসিম মোল্লা ও হাজী আব্দুল করিম রোডের মহব্বত আলী মন্টু ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মুল্লুক চাঁদের ঢাকার বসুন্ধরার একটি নির্মাণাধীন বাড়ির ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি করতেন বায়েজিদ। এক পর্যায়ে তাকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়। পরে বায়েজিদ খুলনায় বাড়িতে চলে আসেন। বায়েজিদ বাড়িতে আসার আসামিরা গুরুত্বপূর্ণ কোন তথ্য ধামাচাপা দিতে তার বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ তোলে। কাথত চুরির টাকা আদায়ের নামে খুলনা থেকে বায়েজিদকে ধরে যশোরে এনে নৃশংষভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পরের দিন কোতয়ালি পুলিশের হাতে আটক মণিরামপুরের মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে স্পষ্ট হয়ে যায় মুল খুনি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ ও তার ভাই রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্জয়। এরপর ঢাকা থেকে আটক অপর দুই আসামীর দেয়া তথ্যেও একই বিষয় উঠে আসে। ফলে প্রশাসনও নিশ্চিত হয়ে যায় প্রকৌশলী বায়েজিদ হত্যাকান্ডের প্রধান মূল হোতাদের স্ববিস্তার। কিন্তু এতোকিছুর পরও রহস্যজনক কারনে চাঞ্চল্যকর প্রকৌশলী বায়েজিদ হত্যাকান্ডের প্রধান দুই আসামী মুল্লুক চাঁদ ও সঞ্জয়কে এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর প্রায় এক সপ্তাহ পার হলেও মূল আসামী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ ও তার ভাই রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্জয়কে পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারায় জনমনে নান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞমহল মনে করছেন চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের মূল আসামদের আটকে পুলিশের লুকোচুরি খেলার পেছনে অন্য কোন রহস্য থাকতে পারে। এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই শরীফ আল মামুন জানান, খুনিদের দেশত্যাগের কোন সুযোগ নেই। তারা যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারে সেজন্যে সকল ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেইসাথে সীমান্তে জারি করা হয়েছে রেড এলার্ট। একইসাথে আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। দ্রুতই সকল আসামী গ্রেফতারে সক্ষম হবে আইন শৃংখলা বাহিনী। তবে, সীমান্তে তেমন কোন আলামত লক্ষ্য করা যায়নি। চেকপোস্টে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে কিনা তাও জানা সম্ভব হয়নি।

