৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

আনুষ্ঠানিক ভাবে মধু সংগ্রহ শুরুর দিনেই ২৪ হরিণ শিকারীর আত্মসমর্পণ

উৎপল মণ্ডল, শ্যামনগর
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে পহেলা এপ্রিল সোমবার হতে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি রেঞ্জ কার্যালয় হতে মৌয়ালদের হাতে পাশ (অনুমতিপত্র) হস্তান্তরের মাধ্যমে চলতি বছরের মধু সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। এ উপলক্ষে পশ্চিম বনবিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এসএম আতাউল হক দোলন এমপি মধু সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন। বিভাগীয় বন সংরক্ষক আবু নাসের মোহসিন হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সুন্দরবনের হরিণ শিকারে জড়িত ২৪ চোরাই শিকারী আত্মসমর্পণ করেন। এসময় বৈধভাবে সুন্দরবনে যেয়ে বাঘের আক্রমণে নিহত পাঁচ বাঘ বিধবা পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ছাড়াও ঈদ উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। বনবিভাগ সুত্র জানায় প্রথম দিনে সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে তিনশ পঞ্চাশ জনেরও বেশী মৌয়াল মধু সংগ্রহে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছে। এবারের মৌসুমে ১৫ শত কুইন্টাল মধু ও চারশ ৫০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিনে সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ অভিযানের যাত্রা শুরু উপলক্ষে বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বন সংরক্ষক এ কে এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী, মোশারফ হোসেন, সুশান্ত বিশ্বাস, চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন, আব্দুর রহিম প্রমুখ। এদিকে মধু সংগ্রহে যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে মৌয়ালদের উদ্দেশ্যে মধুর চাক সম্পুর্ন বিনষ্ট না করা, পোকাগুলোকে রক্ষা করার পাশাপাশি ভেজাল মধু তৈরীর অপতৎপরতায় জড়িত না হয়ে সুন্দরবনের মধুর গুনগত মান রক্ষার্থে সতর্ক থাকার আহবান জানানো হয়। একইসাথে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের বাইরে না যাওয়াসহ যেকোন বিপদ-আপদে বনরক্ষীদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখার বিষয়ে তাদেরকে অবহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অঅব্দুল মজিদ ও বাবুল আকতারসহ অন্য মৌয়ালরা জানায়- বাঘ নিয়ে তারা অন্যান্য বারের তুলনায় এ বছর বেশী সতর্ক। সাত থেকে সর্বোচ্চ ১১ জনের সদস্য নিয়ে প্রতিটি দল গড়েছেন বলেও জানান তারা। প্রথম পর্যায়ে ১৫/১৬ দিন বনের মধ্যে অবস্থান করে ২০/২২ মন মধু সংগ্রহের আশা করছেন বলেও জানান। তবে সুন্দরবন থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সংগৃহীত মধু যেন ভেজাল ব্যবসায়ীদের কারসাজির শিকার না হয় সে বিষয়ে বনবিভাগসহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। এদিকে বনবিভাগ আয়েঅজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বাবলুর রহমান ও আনারুল ইসলামসহ কয়েকজন হরিণ শিকারী জানায় তারা দীর্ঘদিন ধরে চোরাইভাবে হরিণ শিকার করে আসছেন। তবে বনবিভাগ ও সিপিজি কর্মীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তারা এমন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মসমর্পন করেছেন। তারা নিজেদের বিরুদ্ধে বনবিভাগের দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারসহ সুন্দরবনে বৈধভাবে প্রবেশের জন্য বিএলসি দেয়ার দাবি জানান।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়