রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের লিফটগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। লক্কড়ঝক্কড় এসব লিফটে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বছরখানেক আগেও লিফটে আটকে পড়ে জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দুদিন পর সেই লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপরও বেশির ভাগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। গত ৩১ মার্চ খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনসহ উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা আটকে পড়েছিলেন জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে। সর্বশেষ গত রবিবার সকালে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটে আটকে পড়ে নিহত হন এক রোগী। লিফটে রোগীসহ অন্যরা প্রায় ৪৫ মিনিট আটকে ছিল। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক চিঠিতে জানিয়েছে ‘লিফটে আটকে পড়া রোগীসহ লোকজন দরজা ধাক্কাধাক্কি করায় লিফটের দরজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করেনি’। এছাড়া লিফটে রোগীসহ অন্যরা ৪৫ মিনিট নয়, মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট আটকে ছিলেন বলেও জানিয়েছে। এদিকে লিফটে আটকা পড়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দলের প্রধান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মাহমুদা বেগম বলেন, আমরা হাসপাতালের পরিচালক, উপ-পরিচালকসহ মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, লিফটের অপারেটর, ওয়ার্ড বয় ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য নিয়েছি। তদন্তে লিফট বন্ধের কারণ, তা কতক্ষণ বন্ধ ছিল, লিফটে আটকে পড়া লোকজন কীভাবে উদ্ধার হলো ও রোগী মৃত্যুর ঘটনায় কারো কোনো অবহেলা ছিল কিনা- সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির এক সদস্য বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরে যান্ত্রিক ত্রæটি দেখা দিলে ৩ নম্বর লিফট থেমে যায়। লিফটের ভেতর রোগীসহ তার স্বজন ও অন্যরা ১০ মিনিটের মতো আটকে ছিলেন। ১০ মিনিট পরে তাদের উদ্ধার করে আনা হয়। এ বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ঘটনার সময় ওই লিফটের ভেতরে কোনো লিফটম্যান বা অপারেটর ছিল না। ঘটনার পর গত সোমবার অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতালের জরুরি সেবা, লিফট ও সার্ভিস ম্যানেজমেন্টসহ হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সারাদেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে ভিডিও কনফারেন্স করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম। কনফারেন্সে দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জরুরি সেবা, লিফট সেফটি সিস্টেম ও সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বর্তমানে লিফটের মাঝে আটকে থাকার চিন্তা যে কাউকে আতঙ্কিত করে তোলে। তবে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে এমন দুর্ঘটনার আশা করা যায় না। এতে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশ্ন আসেই। এখন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উচিত জরুরি ভিত্তিতে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সব ইলেকট্রো মেকানিক্যাল যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা এবং সব লিফট অপারেটরের হাজিরা প্রতিদিন পরীক্ষা করা ও তাদের যোগ্যতা পুনরায় যাচাই করা। এছাড়া ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা সময়ের দাবি। অবশ্যই এ ঘটনার দায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একেবারেই এড়িয়ে যেতে পারে না। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কেউ যেন খামখেয়ালি করে কোনোভাবেই ছাড় না পায়।
লিফটে রোগীর মৃত্যু : দায়ীদের ছাড় নয়
Previous article
Next article
আরো দেখুন
তীব্র হচ্ছে বন্দর রক্ষায় আন্দোলন
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘ মেয়াদে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে যে জন-অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, তা শুধু শ্রমিকদের তরফ থেকে নয়, এটি জাতীয় সম্পদ...
নীরব মন্দায় আক্রান্ত দেশ
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় ১৬ মাস অতিবাহিত হয়েছে। দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে আরো বেশি দুর্বল হচ্ছে। আরো বেশি পঙ্কে নিমজ্জিত হচ্ছে।...

