সৈকত হোসেন
সামনে আছে আর মাত্র ৪দিন। ৫ জুন যশোর সদর উপজেলা নির্বাচনের ভোট। অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করার টার্গেট নিয়ে প্রস্তুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অথচ যাদের জন্য এতো আয়োজন, সেই ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না তেমন আগ্রহ। প্রার্থীদের কেউ কেউ দিন-রাত মাঠ চষছেন। এর বাইরে পৃথকভাবে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও মতবিনিময়ে নেই অনুসারীরা। তবে বিভিন্ন মহল্লায় এক’দেড়শ’ টাকা মজুরি পেয়ে দিনের কিছু সময় দলবদ্ধ নারীদের লিফলেট ছড়াতে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন ও বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্তমতে-মাইকিং, পোস্টার সাটানো আর লিফলেট বিতরণের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ক্ষেত্র সদর উপজেলা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। নেপথ্যে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দূরে দূরে থাকা বা নিজেকে গুটিয়ে রাখার নেপথ্যের কারণের কথাও বলেছেন তৃণমূলের অনেকে। নিরুত্তাপ প্রচারণার নেপথ্যেরে অন্যতম কারণের মধ্যে রয়েছে-আওয়ামী লীগের বাইরে মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি প্রার্থী, জামায়াত ও তাদের সমমনা দলগুলো ভোট বর্জন করছে। বিএনপি সারাদেশে লিফলেট বিতরণ ও পথসভা করে ভোট বর্জনের আহবান জানাচ্ছে। যশোর সদরে আওয়ামী ঘরানার বাইরে কোনো প্রার্থী নেই। এই উপজেলায় বিএনপির কোন ভোটে কোন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। কিন্তু মাঠে আছেন অনেকেই। ঘোড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে টাকার পেছনে ছুটছেন বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
যশোর সদরে আনোয়ার হোসেন বিপুল (দোয়াত কলম), তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু (মোটরসাইকেল), মোহিত কুমার নাথ (শালিক), ফাতেমা আনোয়ার (ঘোড়া), বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী (আনারস) ও শফিকুল ইসলাম জুয়েল (কাপ পিরিচ) নিয়ে মাঠ চষছেন। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কামাল খান পর্বত (তালা), শাহজাহান কবীর শিপলু (চশমা), শেখ জাহিদুর রহমান (বৈদ্যুতিক মিলি (কলস) ও মনিরুজ্জামান (উড়োজাহাজ) প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন। এরবাইরে আদালতে মামলা করে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন আরবপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম। তিনি জোড়া ফুল প্রতীক পেয়েছেন। একদিকে আওয়ামী ঘরানার বাইরে অন্য কোনো দলের প্রার্থী সদরে নেই। তাছাড়া হঠাৎ ভোট স্থগিত হওয়া। এরফলে প্রচারণায় ছন্দপতন ঘটেছে। যেকারণে প্রার্থীরা জোর চেষ্টা করেও প্রচার-প্রচারণার পালে হাওয়া লাগাতে পারছেন না। আওয়ামী ঘরাণার অনেকেই বলছেন, ভোট মানেই নেতা কর্মীদের জন্য উৎসব। দলীয় বা পছন্দের প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে প্রাণপণ লড়াই। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমরা আমরা লড়াইয়ের এই ভোট প্রচারণায় উত্তাপ নেই। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নেই কোন উচ্ছ্বাস। এতদিন দলীয় প্রতীক পেয়ে আসছিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। দল মনোনীত প্রার্থীর পছন্দের ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা পেছন নিয়ে জিতেছেন। কিন্তু এবার সেই সুযোগ নেই। এবার নিজ যোগ্যতায় যে যত ভোটার মাঠে তুলতে পারবেন, তার বিজয়ের সম্ভাবনা ততই বেশি থাকবে। প্রার্থীদের সঙ্গে-সাথে যারা থাকছেন,তাদের কেউ কেউ বলছেন চরম বিব্রতকর ও উদ্বেগ উৎকন্ঠায় আছি। কে কার লোক তা বুঝা যাচ্ছে না। যেকারণে কথা-বার্তা বলতে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। সবাই তো দলের, তাই কালার হয়ে কারোর শত্রু হতে চাইছি না। এরমধ্যে অভিযোগ উঠেছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ কেউ নিরপেক্ষ অবস্থায় নেই। যশোর সদরে আনোয়ার হোসেন বিপুল (দোয়াত কলম) প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা ঘরে ঘুমাতে পারছেন না। ভোটের আগে জেলা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। সদরের ভোট নিয়ে নানা রকম খেলা শুরু হয়ে গেছে। খোদ আওয়ামী লীগের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ কেউ একটি ইস্যুকে একাট্টা হয়েছেন। তারা শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ অবস্থায় নেই বলে অভিযোগ। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রস্তুত রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভোটও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তাহলে যশোর সদরে আনোয়ার হোসেন বিপুল (দোয়াত কলম) সমর্থিত মেম্বার-চেয়ারম্যানদের বাড়িতে যেয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে কারা? অনেকেই ঘোলা পাতিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

