১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ  । ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ 

ব্যাংক-জ্বালানি খাতের মতো রোগাক্রান্ত ফুসফুস মেরামতে বার্তা নেই

প্রতিদিনের ডেস্ক:
ব্যাংক ও জ্বালানি খাতকে রোগাক্রান্ত ফুসফুস উল্লেখ করে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, রোগাক্রান্ত ফুসফুস মেরামতের কোনো বার্তা এই বাজেটে নেই।সোমবার (১০ জুন) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ ও বিরাজমান পরিস্থিতি অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক ব্রিফিংএ মন্তব্য করেন তিনি। মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ।সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ক্ষমতা এবং তা বাস্তবায়নে যে রাজনীতি হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে পিছিয়ে পড়া মানুষের পক্ষে যাচ্ছে না। বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কিন্তু সেগুলো মানুষের জন্য হচ্ছে না, হচ্ছে কিছু ব্যক্তির জন্য। ব্যাংক এবং জ্বালানি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য এবার। একদম শরীরের ফুসফুসের মতো। কিন্তু এগুলো মেরামতের কোনো কথা কিন্তু বাজেটে নেই।তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি প্রভাব বাড়াতেই এগুলো মেরামতে মনোযোগ নেই সরকারের। কারণ, তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে সেই নির্দিষ্ট সাধারণ মানুষ নয়। গুরুত্বপূর্ণ সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ঠিক করছে কি করতে হবে আর কি করা যাবে না। সাধারণ মানুষের ভালো খারাপ উপেক্ষিতই থেকেই যাচ্ছে এই বাজেটে।এখন যেই বাজেট দেওয়া হলো তাও কি বাস্তবায়িত হবে। এটাই তো প্রশ্ন। যতটুকু আছে তাও যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে জবাবদিহিতা এবং সুশাসনের বিকল্প নেই। জবাবদিহিতা নিশ্চিতে আইনে পরিবর্তন আসতে পারে, যোগ করেন দেবপ্রিয়।এবারের বাজেট উচ্চাভিলাসী, ফাঁকা বুলির বাজেট জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এবারের বাজেট উচ্চাভিলাসী, ফাঁকা বুলির বাজেট। এটাকে আপনি শুভঙ্করের ফাঁকিও বলতে পারেন। এই বাজেটে পিছিয়ে পড়া মানুষ আরও পিছিয়ে পড়বে। ছোট ব্যবসায়ীরা হোস্টাইল হবে। এই বাজেট সামনের দিনে ধনী গরিব বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেবে। দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে এবারের বাজেট।ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমি আমার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ক্ষমা চাই। আমি আর এখন নতুন প্রজন্মকে বলতে পারবো না তোমরা সৎ থাকো, ন্যায়ের পথে আয় কর, কোনো দুর্নীতিতে জড়িয়েও না। কিন্তু এই কথাগুলো বলার অধিকার রাষ্ট্র আমার থেকে কেড়ে নিয়েছে। এখন যে কেউ দেখবে এই দেশে সৎ থাকলে ক্ষতি বেশি কিন্তু দুর্নীতিবাজ হলে আয়ও বেশি লাভ বেশি।গণস্বাক্ষর অভিযানের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে স্বার্ট শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে হবে। বিনিয়োগ না বাড়ালে তা কীভাবে হবে। আপনার স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে হলে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং শিক্ষা উপকরণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এটি না হলে আমাদের শিক্ষা গুণগত শিক্ষা হয়ে উঠবে না।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়